নাটোরে প্রথমবারের মতো জেলা তাবলীগ জামাতের পক্ষ থেকে ২৩, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমার আয়োজন করা হয়েছে। নাটোর-রাজশাহী বাইপাস সড়কের উত্তরে পাশে পূর্ব তেবাড়িয়ার প্রায় এক বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে এই ইজতেমা অনুষ্ঠানের জন্য গত প্রায় দুই মাস ধরে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তেবাড়িয়া পূর্বপাড়ার মারকাজ মসজিদটিকে ঘিরে চলছে এক মহাকর্মযজ্ঞ। মাঠের পশ্চিম দিকে বিশাল এলাকাজুড়ে মুসল্লিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে প্যান্ডেল। সেখানে নাটোর জেলার সাত উপজেলার জন্য সাতটি এবং নাটোর শহরের জন্য পৃথক একটিসহ মোট আটটি খিত্তা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়াও নাটোর জেলায় অবস্থানরত দুইটি বিদেশী জামাতের মুসল্লিরাও এতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিদেশীদের থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থাও করা হয়েছে। মুসল্লিদের অজু জন্য আশপাশে থাকা ছয়টি পুকুর ছাড়াও নতুন করে নির্মাণ করা হয়েছে তিনটি চৌবাচ্চা। এতে করে প্রায় তিন হাজার মুসল্লি একসঙ্গে অজু করতে পারবেন।
এছাড়াও সড়কের দক্ষিণে মুসল্লিদের জন্য তৈরি করা হয়েছে ৬২০টি টয়লেট। ইজতেমা এলাকায় পর্যাপ্ত পানি সরবরাহের জন্য আটটি ডিপ সিলিন্ডার টিউবওয়েলসহ বসানো হয়েছে ছয়টি সাবমার্সিবল পাম্প। সমগ্র ইজতেমা এলাকায় পিডিবির সহযোগীতায় ব্যাপক আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। ইজতেমা এলাকা সংস্কারে সহায়তা করেছে সদর উপজেলা পরিষদ এবং সমগ্র আয়োজনকে সার্বক্ষণিক সহায়তা করছে স্থানীয় সংসদ সদস্য এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক।
নাটোরে আয়োজিত এই প্রথম এত বড় ইজতেমা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসানো হয়েছে ১৫টি সিসি ক্যামেরাসহ পুলিশ কন্টোল রুম ও পুলিশ বক্স। ইতোমধ্যেই র্যাবের পক্ষ থেকে শুরু করা হয়েছে সার্বক্ষণিক নজরদারী।
চিকিৎসার জন্য ইজতেমা মাঠের পূর্বদিকে নাটোর সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে অস্থায়ী একটি মেডিকেল সেন্টার। সেখানে সার্বক্ষণিক চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকজন চিকিৎসক ও নার্স কাজ করবেন। প্রয়োজনে সেখানে রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হবে।
ইজতেমাস্থলে অগ্নিনির্বাপণের জন্য সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হবে ফায়ার সার্ভিসের একটি টহল দল। বিশাল এই আয়োজনে নাটোর জেলার বিভিন্ন এলাকার মসজিদের মুসল্লি, মাদরাসা ও এতিমখানা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও ধর্মপ্রাণ বিভিন্ন বয়সের মানুষ স্বেচ্ছায় প্রণোদিত হয়ে কাজ করেছেন। ধর্মীয় এই কাজের সব ধরনের সামগ্রীর যোগান দিয়েছেন বড় বড় ব্যবসায়ী ও অর্থবান ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার সাধারণ মানুষ।
তাবলীগের মুরব্বীরা আশা করছেন, ইজতেমা মাঠে আটটি খিত্তায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার মুসল্লি তিনদিন থাকবেন এবং দ্বিতীয় দিনে জুম্মার নামাজ ও শেষদিনে আখেরি মুনাজাত মিলিয়ে প্রায় এক লাখেরও বেশি মুসল্লির সমাগম ঘটবে।
বৃহস্পতিবার বাদ ফজর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে তিনদিনে এই ইজতেমা শুরু হয়। কাকরাইল মারজাজ মসজিদসহ বিভিন্ন এলাকার তাবলীগের মুরব্বীগণ পর্যায়ক্রমে এই ইজতোমায় বয়ান করবেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে আখেরি মুনাজাতে মধ্য দিয়ে ইজতেমা শেষ হবে।
স/শা

