সিন্দ্রানী গ্রামটা অন্তুর কাছে একদম নতুন। তার বাবা সিন্দ্রানী পোস্ট অফিসে বদলি হয়ে এসেছে। গ্রামটা বেশ শান্ত, বড় বড় আম-কাঁঠালের বাগান আর বাঁশঝাড়ে ঘেরা। কিন্তু এই নিঝুম গ্রামটাও অন্তুর কাছে মাঝেমধ্যে দমবন্ধ করা মনে হয়। এর কারণ তার বড় ভাই রিন্তু। রিন্তু পড়াশোনায় তুখোড়, এলাকায় তার মেধার জয়জয়কার। অথচ অন্তু ঠিক তার উল্টো। বই খুললেই অক্ষরেরা যেন পিঁপড়ের মতো নাচতে শুরু করে, মাথা ঝিমঝিম করে ওঠে। পরীক্ষার হলে গেলে মুখস্থ করা সব পড়া কর্পূরের মতো উড়ে যায়। বাড়িতে রিন্তুর সাথে প্রতিনিয়ত তুলনা আর বাবার বকুনি যেন অন্তুর নিত্যদিনের সঙ্গী।
তবে অন্তুর নিজের একটা গোপন জগত আছে। সে মানুষ না বুঝলেও গাছপালা আর পশুপাখিদের ভাষা খুব বোঝে। তাদের সাথে কথা বলে। একদিন রাতে সিন্দ্রানীতে এক প্রলয়ঙ্করী কালবৈশাখী ঝড় হয়ে গেল। গাছপালার মড়মড় শব্দ আর বাতাসের আর্তনাদে অন্তুর বুক কাঁপছিল। নিজের জন্য নয়, বনের ওই অবলা জীবগুলোর জন্য। পরদিন ভোরেই সে বেরিয়ে পড়ল। ঝড়ে নিশ্চয়ই অনেক পাখি নীড়হারা হয়েছে, তাদের সাহায্য প্রয়োজন।
বাগানের পাশ দিয়ে হাঁটার সময় ঝোপের আড়াল থেকে একটা বিচিত্র সুর ভেসে এল। কান্নার সুর, কিন্তু তাতে যেন এক অদ্ভুত মায়া আছে। অন্তু এগিয়ে গিয়ে দেখল, একটি মেয়ে উবু হয়ে বসে ডুকরে কাঁদছে। তার হাতের তালুতে একটা রক্তাক্ত বাবুই পাখি। মেয়েটি পাখিটার ক্ষতস্থানে ফুঁ দিচ্ছে আর জলভরা চোখে তাকিয়ে আছে।
অন্তু এক মুহূর্ত দেরি না করে পাশে বসল। পকেট থেকে পরিষ্কার রুমাল বের করে পরম মমতায় পাখিটাকে ধরল সে। অন্তু গভীরভাবে উর্মিকে দেখল, তারপরে মৃদুস্বরে বলল, “তুমিও দেখি আমার মতো পাখি ভালোবাসো উর্মি? পাখিদের কষ্টে কষ্ট পাও?” মেয়েটি অবাক হয়ে তাকাল। তার নাম যে উর্মি, সেটা অন্তু জানল তার গলার স্কুলের ব্যাজ দেখে। উর্মি ধরা গলায় বলল, “আমি অনেকক্ষণ ধরে চেষ্টা করছি রক্ত বন্ধ করতে, কিন্তু পারছি না।” অন্তু হাসল, “ভয় নেই উর্মি, আমি এর ডানা ঠিক করে দেব।”
সেই শুরু। এরপর থেকে সিন্দ্রানীর পথে-ঘাটে ওদের প্রায়ই দেখা যেত। তারা দুজনে মিলে ঝড়ে পড়া বাবুই পাখির ছানাদের উদ্ধার করত। ঝুড়ি দিয়ে কৃত্রিম বাসা বানিয়ে সেগুলোকে তালগাছে টাঙিয়ে দিত। একদিন তারা অনেকগুলো আহত পাখি নিয়ে বাড়ি ফিরল। অন্তুর ঘরের কোণে তৈরি হলো পাখিদের এক অস্থায়ী হাসপাতাল। সপ্তাহখানেকের নিবিড় পরিচর্যায় যখন পাখিগুলো সুস্থ হলো, তারা ছাদে গিয়ে সেগুলোকে উড়িয়ে দিল। উর্মি মুগ্ধ হয়ে বলল, “অন্তু ভাই, তুমি বনের পাখিদের মনের ভাষা বোঝো। দেখো, ওরা ওড়ার সময় কেমন করে আমাদের চারদিকে ঘুরছে, ডানার শব্দে ধন্যবাদ জানাচ্ছে!”
সিন্দ্রানী গ্রামের শেষপ্রান্তে একটা পরিত্যক্ত বিশাল বাড়ি ছিল। জঙ্গল আর লতাপাতায় ঢাকা বাড়িটা নিয়ে অনেক গল্প প্রচলিত। একদিন বিকেলে গল্প করতে করতে তারা সেই বাড়ির সামনে গিয়ে দাঁড়াল। উর্মি ফিসফিস করে বলল, “জানো অন্তু ভাই, এই বাড়িটা ছিল জাদুকর সাই-এর। তিনি চীন থেকে এসে এখানে আস্তানা গেড়েছিলেন। লোকে বলে তিনি নাকি বাতাস থেকে ফুল ফোটাতে পারতেন।” লোকে আরও বলে তিনি নাকি নিজের জাদুতে পাখি হয়ে গিয়েছিলেন, পরে আর মানুষ হতে পারেননি। অন্তু মুগ্ধ হয়ে উর্মির গল্পগুলো শুনছিল আর চোখের সামনে কল্পনায় জাদুকর সাই-এর একটি ছবি আঁকতে চেষ্টা করছিল।
বাড়ির বাইরে ঘুরতে ঘুরতে একসময় কৌতূহলে তারা বাড়ির ভেতরে ঢুকল। ভাঙা প্রায় ঘরের ভেতরে মাকড়সার জাল আর ধুলোবালির এক রাজত্ব। টেবিলের ওপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে চামড়ায় বাঁধানো কিছু পুরনো বই আর কিছু অদ্ভুত নকশা করা কাগজ। হঠাৎ উর্মির পায়ে কিছু একটা ঠেকল। নিচু হয়ে ধুলো ঝেড়ে সে একটা কলম তুলে নিল।
পড়ন্ত বিকেলের এক চিলতে রোদ জানলা দিয়ে এসে কলমটার ওপর পড়ল। কলমটি দেখতে ভারি অদ্ভুত; তার পেছনের দিকে খোদাই করা একটি পাখির অবয়ব। অন্তু হাতে নিতেই দেখল কলমটি থেকে এক মৃদু নীল আভা বের হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে বাড়ির বাইরে এক অদ্ভুত পাখির ডাক শোনা গেল। এমন মিষ্টি এবং গম্ভীর ডাক তারা আগে কখনো শোনেনি। উর্মি বলল, “ওই অদ্ভুত পাখিটি মনে হয় জাদুকর সাই।” অন্তু এক গাল হাসি দিয়ে উর্মির দিকে তাকাল। উর্মি বলল, “অন্তু ভাই, এই কলমটি তোমার কাছেই মানায়। তুমি যেভাবে পাখিদের সেবা করো, হয়তো জাদুকর সাই খুশি হয়ে তোমাকে এটা উপহার দিয়েছেন।” অন্তু দ্বিধাভরে কলমটি নিয়ে বাড়ি ফিরল এবং পড়ার টেবিলের কলমদানিতে রেখে দিল।
কলমটি পাওয়ার পর থেকে অন্তুর রাতগুলো বদলে যেতে লাগল। জাদুকর সাই শুধু একবার নয়, বারবার তার স্বপ্নে আসতে শুরু করলেন।
প্রথম রাতে জাদুকর তাকে নিয়ে গেলেন এক বিশাল নীল সমুদ্রের ধারে। সেখানে কলমটি দিয়ে জাদুকর বালির ওপর একটা পাখির ছবি আঁকলেন, আর সঙ্গে সঙ্গে সেই বালির পাখি ডানা ঝাপটে আকাশে উড়ে গেল। জাদুকর হাসলেন, “অন্তু, এই কলম শুধু খাতার অক্ষর নয়, তোমার মনের মমতাকেও রূপ দেবে।”
পরের স্বপ্নে অন্তু দেখল, সে এক গভীর অরণ্যে পথ হারিয়ে ফেলেছে। জাদুকর সাই তার কাঁধে হাত রেখে বললেন, “ভয় পেয়ো না। মেধা মানে শুধু বইয়ের পাতা মুখস্থ করা নয়, মেধা মানে হলো সৃষ্টির সুর ধরা। তুমি কলমটি ধরলে সেটি তোমার আত্মার প্রতিধ্বনি হয়ে কাজ করবে।” জাদুকর তাকে আরও শিখিয়ে দিলেন কীভাবে পশু-পাখির ডাক শুনে তাদের অসুখ বুঝতে হয়। প্রতিটি স্বপ্নই যেন অন্তুর ভেতর এক নতুন আত্মবিশ্বাস তৈরি করছিল।
আবার এক রাতে অন্তু স্বপ্নে দেখল, জাদুকর তাকে নিয়ে গেলেন এক বিশাল লাইব্রেরিতে, যেখানে বইগুলো নিজেরাই কথা বলছে। জাদুকর বললেন, “জ্ঞান শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়, বিলিয়ে দেওয়ার জন্য। তুমি যা মনে রাখতে পারো না, তা এই কলম লিখে দেবে, কিন্তু তুমি যদি উদ্ধত হও, তবে এই কলম সাধারণ কাঠ হয়ে যাবে।” প্রতিবার ঘুম থেকে উঠে অন্তু গভীরভাবে স্বপ্নে দেখা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবে আর জাদুকরের কথাগুলোর মানে বোঝার চেষ্টা করে। আর সেই সোনালী কলমটি হাতে নিয়ে অপলক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে।
এর কয়েকদিন পর রিন্তু একটা কঠিন জ্যামিতি আর বীজগণিতের অঙ্ক নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। বাবার কড়া নির্দেশ—অঙ্কটা তাকে শেষ করতেই হবে। রিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছিল। রিন্তু বিরক্তিভরে বলল, “আমিই পারছি না, আর তুই এখানে কী করছিস? যা এখান থেকে।”
অন্তু কিছু না বলে টেবিল থেকে সেই রহস্যময় নীল কলমটা নিয়ে এল। তার মনের ভেতর কে যেন বলে উঠল— ‘চেষ্টা করো’। সে যখন কলমটি খাতার ওপর ছোঁয়াল, তখন এক অভাবনীয় কাণ্ড ঘটল। অন্তুর মনে হলো কেউ তার হাত ধরে চালাচ্ছে। খাতার ওপর দিয়ে কলমটি যেন বরফের ওপর স্কেটিং করার মতো মসৃণভাবে ছুটতে লাগল। মাত্র কয়েক মিনিটে রিন্তুর সেই অমীমাংসিত অঙ্কটি সমাধানের পাতায় জ্বলজ্বল করতে লাগল। রিন্তু হাঁ করে তাকিয়ে রইল। বাবা এসে তো অবাক! তিনি বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না যে অন্তু এটা করেছে। সেদিনই প্রথম বাবার চোখে অন্তুর জন্য গর্ব দেখতে পেল সে।
এর কয়েকদিন পর স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা। অন্তুর মাথায় কোনো পড়াই আসছে না, কিন্তু তার ব্যাগে সেই জাদুকরী কলম। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র পেয়ে যখন দেখল সব গোলমাল হয়ে যাচ্ছে, তখনই সে জাদুকর সাই-এর কলমটি বের করল। কলমটি ছোঁয়ামাত্রই অন্তুর চোখের সামনে যেন সব উত্তর ভেসে উঠল। চমৎকার মুক্তোর মতো অক্ষরে খাতার পাতা ভরে যেতে লাগল। সেদিন বিকেলে অন্তু উর্মিকে সব কথা জানাতেই সে খুশিতে হাততালি দিয়ে উঠল এবং তার সুরেলা কণ্ঠে অন্তুকে এক নতুন গান শোনাল।
সেই রাতে অন্তু স্বপ্নে দেখল জাদুকর সাই-কে। তিনি এক বিশাল নীল আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর পরনে অদ্ভুত আলখাল্লা। তিনি গম্ভীর অথচ মমতাময়ী কণ্ঠে বললেন, “মনে রেখো অন্তু, এই কলম তখনই চলবে যখন তোমার উদ্দেশ্য সৎ থাকবে। যেদিন তুমি অন্যের ক্ষতি চাইবে বা অহংকারী হবে, সেদিন এই জাদুর শক্তি কর্পূরের মতো উবে যাবে।”
অন্তু সেই উপদেশ মনে গেঁথে নিল। এরপর থেকে সে শুধু পরীক্ষার জন্যই নয়, বরং জ্ঞানের নেশায় পড়তে শুরু করল। জাদুর কলম তাকে পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি করে দিল। স্কুলের প্রতিটি পরীক্ষায় সে অভাবনীয় রেজাল্ট করতে লাগল। গ্রামের মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষকরা পর্যন্ত অবাক হয়ে বললেন, “অন্তু তো পুরাই বদলে গেছে!”
এভাবেই দশটি বছর কেটে গেল। যাদুর কলমের ছোঁয়ায় অন্তু আজ একজন সফল পশুর চিকিৎসক। তার হাতে এমন এক ক্ষমতা এসেছে যে মৃতপ্রায় পশুও তার ছোঁয়ায় প্রাণ ফিরে পায়। আর উর্মি এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী। তারা দুজনে মিলে সিন্দ্রানীতে পশু-পাখিদের একটি আধুনিক সেবা কেন্দ্র গড়ে তুলেছে, যার নাম দিয়েছে ‘নীড়’।
একদিন রাতে জাদুকর সাই আবার অন্তুর স্বপ্নে এলেন। এবার তাঁর মুখমণ্ডল থেকে এক স্বর্গীয় জ্যোতি বের হচ্ছে। তিনি বললেন, “অন্তু, আজ থেকে তোমার এই কলমের আর প্রয়োজন নেই। এখন তোমার প্রতিটি আঙুলে আরোগ্যের জাদু আছে। তুমি এখন নিজেই এক জাদুকর। কাল সকালে আমার কলমকে বিদায় জানাও।”
পরদিন সকালে অন্তুর মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল। প্রিয় বন্ধুকে হারিয়ে ফেলার এক চাপা বেদনা তাকে গ্রাস করল। সে উর্মিকে নিয়ে সেই জাদুকরের বাড়ির ধ্বংসস্তূপের কাছে গেল। কলমটি হাতে নিতেই অন্তু অনুভব করল সেটি থেকে আর আগের মতো সেই উষ্ণ স্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে না। নীল আভাটাও মিলিয়ে গেছে। এটি এখন নিছক এক টুকরো শুকনো কাঠ।
অন্তু উর্মির দিকে তাকাল। উর্মি শান্ত গলায় বলল, “অন্তু, জাদু আসলে কলমে ছিল না, জাদু ছিল তোমার বিশ্বাসে।” অন্তু মাথা নাড়ল। সে বুঝতে পারল, জাদুকর সাই-এর দেওয়া এই উপহারটি আসলে একটি আমানত ছিল, যা তার লক্ষ্য পূরণ হওয়ার পর ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসেছে।
অন্তু সর্বশক্তি দিয়ে কলমটিকে বাগানের গভীর ঝোপের ভেতর ছুড়ে ফেলে দিল। ঠিক সেই মুহূর্তে একঝাঁক বাবুই পাখি কিচিরমিচির শব্দে আকাশ ভরিয়ে দিল। অন্তু এক দুরন্ত প্রশান্তি অনুভব করল। তার মনে হলো, এই কলমটি হারিয়ে যায়নি; বরং এটি এখন আবার কোনো এক লুকানো কোণে অপেক্ষা করবে। হয়তো কয়েক বছর বা কয়েক দশক পর, অন্য কোনো এক গ্রাম বা শহরে, অবহেলায় বেড়ে ওঠা বিমর্ষ কোনো এক কিশোরের পায়ে গিয়ে ঠেকবে এই জাদুর স্পর্শ।
অন্তু মনে মনে ভাবল, “এই কলম আবার আগামীতে নতুন কোনো ‘অন্তু’কে খুঁজে নেবে। যার মেধা হয়তো বইয়ের পাতায় আটকে আছে, কিন্তু হৃদয়ে আছে পাহাড়প্রমাণ ভালোবাসা। সেই নতুন অন্তু আবার এই জাদুর ছোঁয়ায় নিজেকে বদলে দেবে, আর তার বদলানোর নেশায় বদলে যাবে চারপাশের রুক্ষ পরিবেশ। জন্ম নেবে নতুন কোনো ‘নীড়’, বাঁচবে হাজারো প্রাণ।”
উর্মি পাশে এসে দাঁড়াল। অন্তু তার দিকে তাকিয়ে হাসল। সে জানল, বাহ্যিক জাদু হয়তো শেষ হয়েছে, কিন্তু তার নিজের ভেতরে যে মানবিকতার আর আরোগ্যের জাদু জাদুকর সাই জাগিয়ে দিয়ে গেছেন, তা আজীবন অম্লান থাকবে। জাদুহীন হাত দুটি দিয়েই অন্তু অনুভব করল—সে এখন আগের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী।
ঠিক সেই মুহূর্তে আকাশের দিক থেকে একঝাঁক বাবুই পাখি কিচিরমিচির শব্দে নিচে নেমে এল। তারা যেন অন্তু আর উর্মিকে ঘিরে এক উৎসব শুরু করেছে। অন্তু হাসল। সে বুঝতে পারল, বাহ্যিক জাদুর চেয়েও বড় জাদু হলো ভালোবাসা আর সেবার জাদু। তার যাদুর কলম হয়তো চলে গেছে, কিন্তু সিন্দ্রানী গ্রামের আকাশে-বাতাসে রয়ে গেল এক সফল মানুষের গল্প, যে বনের ভাষা বোঝে এবং মানুষের হৃদয় জয় করতে জানে।