ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

অতঃপর প্রকাশক

admin
ডিসেম্বর ২৫, ২০২৫ ৯:৪৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

অতঃপর প্রকাশক

— রাহুল রাজ

হাফিজ রাসা সেই ছাত্রবয়স থেকেই লিখছেন। কিন্তু হাজারো চেষ্টার পরও এ পর্যন্ত কোনো প্রকাশকের দরজায় তাঁর ঠাঁই হয়নি। ঝোলার ভেতর জমানো ডজনখানেক চমৎকার ভূতের গল্পের পাণ্ডুলিপি, অথচ যতবারই বড় বড় প্রকাশনা সংস্থায় গেছেন, ততবারই তাঁকে খালি হাতে ফিরে আসতে হয়েছে। প্রায় সব প্রকাশকেরই এক কথা— “মশায়, এখন আর ভূতের গল্প কেউ পড়ে নাকি? এসব পুরোনো শেওলা ধরা গল্প দিয়ে বই চলবে না!”

কিন্তু রাসা আশাবাদী মানুষ। তিনি বিশ্বাস করেন, একদিন না একদিন তাঁর লেখার সঠিক মূল্যায়ন হবে। তাঁর এই গল্পগুলো বইয়ের পাতায় ছাপা হরফে আলো দেখবেই।

আজও বিলাস প্রকাশনী থেকে প্রত্যাখাত হয়ে রাসা চরম হতাশায় ভেঙে পড়লেন। বিলাস প্রকাশনা দেশের অন্যতম নামজাদা প্রতিষ্ঠান, তাদের প্রকাশিত বই মানেই বেস্টসেলার। কিন্তু সেখানেও রাসায়কে ভেতরের দরজাতেই ঢুকতে দেওয়া হয়নি, রিসেপশন থেকেই বিদায় করে দেওয়া হয়েছে।

সন্ধ্যা নেমে এসেছে শহরে। ক্লান্ত ও বিষণ্ণ পায়ে হাঁটতে হাঁটতে পার্কের একপাশের নির্জন বেঞ্চে গিয়ে বসলেন রাসা। কোলে তাঁর মলিন কাঁধথলে, যার ভেতর সযত্নে রাখা পাণ্ডুলিপিটা। হতাশা আর অপমানে দু’হাতে মুখ ঢাকলেন তিনি।

ঠিক তখনই এক গম্ভীর ও গভীর কণ্ঠ ভেসে এলো, “কী লেখক সাহেব? এখানে এভাবে মনমরা হয়ে বসে আছেন যে?”

রাসা চমকে উঠে মুখ তুললেন। সামনে দাঁড়িয়ে একজন প্রবীণ ভদ্রলোক। ধবধবে সাদা চুল, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা, দৃষ্টিতে এক অদ্ভুত অচেনা আলো। পরনে সুতির পরিষ্কার সাদা আড়ংয়ের পাঞ্জাবি।

“আপনি… আপনি আমাকে চিনলেন কীভাবে?” বিস্মিত রাসা জানতে চাইলেন।

ভদ্রলোক মৃদু হেসে বললেন, “না চিনলে ‘লেখক সাহেব’ বলে ডাকলাম কীভাবে বলুন তো? আমি নিত্যরঞ্জন মুখার্জি। বিলাস প্রকাশনীর মালিক। প্রতিদিন সন্ধ্যায় এই পার্কে একটু হাঁটাহাঁটি করি। দূর থেকে আপনার হাতের ওই থলে আর চোখের ভেতরের তীব্র তেজ দেখেই বুঝেছি— আপনি একজন সত্যিকারের লেখক।”

রাসা মনে মনে চমকে উঠলেন। বিলাস প্রকাশনীর প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং নিত্যরঞ্জন মুখার্জি! অথচ একটু আগেই তো তাঁর প্রকাশনীর কর্মচারীরা রাসাকে দূর-দূর করে তাড়িয়ে দিল।

নিত্যরঞ্জন বাবু হাঁটুর ওপর হাত রেখে রাসার পাশে বসলেন। “আমরা প্রকাশক হে! খাঁটি লেখার গন্ধ চেনাই তো আমাদের কাজ। মনে হচ্ছে ঝোলার ভেতর ভূত-প্রেতের কোনো রহস্য জমিয়ে রেখেছেন? শুনাই না দু-একটা গল্প!”

রাসার চোখে তখন যেন আশার আলো জ্বলে উঠল। তিনি ব্যাকুল হয়ে ঝোলা থেকে পাণ্ডুলিপি বের করলেন। সন্ধ্যার হালকা আধো-আলোয়, পার্কের ঝরা পাতার খসখস শব্দের মাঝে রাসা পড়তে লাগলেন তাঁর লেখা গল্পগুলো। একের পর এক গল্প পড়ে শোনালেন— কোথাও অমাবস্যার রাতে পুরোনো অশ্বত্থ গাছের ওপর প্রেতাত্মার আর্তনাদ, কোথাও নিঝুম জমিদার বাড়ির ভীতিপ্রদ অভিজ্ঞতা।

পড়া শেষ হলে নিত্যরঞ্জন বাবু চশমাটা খুলে মুছে নিয়ে বললেন, “হুম… আপনার লেখার মান বেশ ভালো। শব্দচয়ন পরিশীলিত, আবহ তৈরিও চমৎকার। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করলাম— ভূতদের সম্পর্কে আপনার ধারণা বড্ড একপেশে! সব গল্পেই ভূতদের আপনি নিছক রক্তচোষা আর খলনায়ক বানিয়ে রেখেছেন। কেন মশায়? ভূত মানেই কি কেবল ভয় দেখানো আর ক্ষতি করা? তাদের কি মন নেই? ভূতদের মধ্যেও ভালো-মন্দ থাকে, প্রেম-প্রীতি থাকে, আদর্শ থাকে। আচ্ছা লেখক সাহেব, আপনি যে এত ভূতের গল্প লেখেন, আপনি নিজে কি ভূতে বিশ্বাস করেন?”

রাসা একটা তাচ্ছিল্যের হাসি হেসে বললেন, “না না! ভূতে আবার বিশ্বাস কীসের? ওসব তো মানুষের দুর্বল মস্তিষ্কের উর্বর কল্পনা মাত্র!”

নিত্যরঞ্জন বাবু রহস্যময় এক মুচকি হাসি দিলেন। “বলেন কী! ভূতের গল্প লেখেন অথচ ভূতে বিশ্বাস করেন না? এটা তো ভারী অন্যায় কথা! আপনার গল্পের ভূতেরা যদি এখন এই কথা শোনে, তবে তো তারা খুব মনখারাপ করবে!”

বেশ কিছুক্ষণ তাঁদের মধ্যে অশরীরী জগৎ আর রূপকথার মনস্তত্ত্ব নিয়ে গভীর আলোচনা চলল। কথা শেষে নিত্যরঞ্জন বাবু হাত বাড়িয়ে পাণ্ডুলিপিটি চেয়ে নিলেন।

“পাণ্ডুলিপিটা আমার কাছে থাক। আগামী বইমেলায় বিলাস প্রকাশনী থেকেই এটা প্রকাশিত হবে। কথা দিলাম।”

রাসা যেন নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। আনন্দের আতিশয্যে তিনি প্রবীণ প্রকাশকের চরণ ছুঁয়ে প্রণাম করতে গেলেন, কিন্তু নিত্যরঞ্জন বাবু চট করে পা দুটো পেছনে টেনে নিয়ে বললেন, “আহা, ওসবের দরকার নেই। শুধু আগামী মেলার জন্য নিজেকে তৈরি রাখুন।”

আশা সত্যি হলো। দেখতে দেখতে বইমেলা চলে এলো। আর বিলাস প্রকাশনীর সবচেয়ে জমকালো স্টল থেকে প্রকাশিত হলো হাফিজ রাসার প্রথম গল্পগ্রন্থ— ‘ এবং ভূত ভূতুড়ে’।

মেলা শুরু হতেই অলৌকিকভাবে বইটি পাঠকদের আগ্রহের কেন্দ্রে চলে এলো। প্রতিদিন স্টলে ভিড়, বড় বড় পত্রিকায় রিভিউ, সাহিত্য সাময়িকীতে রাসার প্রশংসার জোয়ার! পাঠক থেকে শুরু করে প্রবীণ সাহিত্য সমালোচক— সবাই একবাক্যে স্বীকার করলেন, গল্পগুলোতে ভূতদের যেভাবে ভয়ঙ্কর, অলৌকিক আর রহস্যজনক ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, তা আধুনিক বাংলা সাহিত্যে একদম নতুন সংযোজন।

আনন্দে আত্মহারা হয়ে হাফিজ রাসা এক হাঁড়ি খাঁটি রাজভোগ মিষ্টি কিনে সোজা রওনা হলেন বিলাস প্রকাশনীর মূল দপ্তরে। নিত্যরঞ্জন বাবুকে সরাসরি ধন্যবাদ জানানো যে তাঁর প্রথম কাজ!

প্রকাশনীতে ঢুকতেই এক অদ্ভুত দৃশ্য। রাসাকে দেখে কাউন্টারের লোকটা চমকে উঠে সোজা দাঁড়িয়ে গেল। নিজের নাম বলতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অত্যন্ত খাতির করে তাঁকে সোজা দোতলার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মূল কক্ষে নিয়ে গেল।

কক্ষে ঢুকে রাসা দেখতে পেলেন, ঘরটা বেশ থমথমে আর নিস্তব্ধ। ঘরের এক কোণে হালকা আলো জ্বলছে। বিশাল এক মেহগনি কাঠের টেবিল, আর তার ঠিক পেছনের দেয়ালে টানানো নিত্যরঞ্জন মুখার্জির একটি প্রকাণ্ড ছবি। নিখুঁত হাসিমুখের প্রতিকৃতি। ছবিটি দেখে রাসার মনটা আনন্দে ভরে উঠল।

ঠিক তখনই ঘরের কাঠের ভারী দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকলেন এক মধ্যবয়সী গম্ভীর চেহারার ভদ্রলোক।

ভদ্রলোক রাসার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, “নমস্কার, আমি মনোজ কান্তি। বিলাস প্রকাশনীর বর্তমান প্রকাশক। বলুন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?”

রাসা একটু অবাক হয়ে বললেন, “আপনি প্রকাশক? কিন্তু আমি তো নিত্যরঞ্জন বাবুর সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। উনি কোথায়?

মনোজ কান্তি কপালে ভাঁজ ফেলে কিছুকাল স্থির দৃষ্টিতে রাসার দিকে তাকিয়ে রইলেন। তারপর ধীরে ধীরে দেয়ালে টানানো ছবিটার দিকে হাত তুলে নির্দেশ করে শান্ত বিষণ্ণ গলায় বললেন, “উনি আমার বাবা। চার বছর হলো তিনি মারা গেছেন। আপনি কি খেয়াল করেননি— দেখছেন না ওনার ছবির গলায় তাজা সাদা রজনীগন্ধার মালা দেওয়া?”

রাসা চমকে উঠে দেয়ালের ছবির দিকে ভালো করে তাকালেন। ঘরের ছায়াময় আলোয় এবার তাঁর চোখে পড়ল— সত্যি তো! ছবিটার গলায় একটি মস্ত বড় রজনীগন্ধার মালা ঝোলানো! চন্দনের ছোপ আর মালার ফুলের গন্ধটা যেন এতক্ষণে রাসার নাকে ধাক্কা মারল।

রাসার মাথার ভেতরটা যেন মুহূর্তে ফাঁকা হয়ে গেল। ঘরের ভেতরের বাতাস একলক্ষে যেন হিমাঙ্কে নেমে এলো। তিনি থরথর করে কেঁপে উঠে বললেন, “কী যা তা বলছেন! চার বছর আগে মারা গেছেন মানে? আমি তো মাত্র তিন মাস আগে… এই প্রকাশনীর পাশেই পার্কে বেঞ্চে ওনার সাথে বসে কথা বলেছি! উনি নিজে আমার থেকে পাণ্ডুলিপি নিয়েছেন!”

মনোজ কান্তি দীর্ঘশ্বাস ফেলে কাঠের চেয়ারটায় বসলেন। তাঁর চেহারায় বিস্ময়ের চেয়ে বেশি ছিল এক গভীর বিষাদ।

গলার স্বর আরও নামিয়ে তিনি বললেন, “রাসা সাহেব, ঠাণ্ডা মাথায় শুনুন। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে এই প্রকাশনীতে একটা অদ্ভুত, অবিশ্বাস্য কাণ্ড ঘটে চলেছে। প্রতি বছর বইমেলার ঠিক তিন-চার মাস আগে, এই বন্ধ ঘরের নিস্তব্ধ টেবিলে অলৌকিকভাবে কোনো না কোনো নতুন লেখকের ভূতের গল্পের পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়। প্রথম বছর যখন আমরা টেবিলের ওপর একটি পাণ্ডুলিপি পেলাম, ভেবেছিলাম হয়তো কোনো কর্মচারী রেখে গেছে। কিন্তু পরে খেয়াল করলাম, পাণ্ডুলিপির ওপরে বাবার হাতের স্পষ্ট লেখায় নোট দেওয়া থাকে— ‘এই বইটি আগামী বইমেলায় ছাপা হবে। মান অত্যন্ত চমৎকার।’”

রাসার গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠল। বুক ধড়ফড় করছে অশুভ কোনো আশঙ্কায়।

মনোজ কান্তি আবার বললেন, “বাবা সারাজীবন ভূতের গল্প ভীষণ ভালোবাসতেন। জীবিত থাকতে ভালো ভূতের গল্পের সন্ধানে কত ঘুরেছেন। প্রথম বছর বাবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা সেই অচেনা পাণ্ডুলিপিটি ছাপাই। আর আশ্চর্য বিষয় হলো, বইমেলায় সেই বইটি সেরা বেস্টসেলার হয়! এবারও মেলা শুরুর কয়েক মাস আগে, একদিন সকালে রুম খুলে দেখি টেবিলের ওপর আপনার নাম লেখা ‘ এবং ভূত ভূতুড়ে’র পাণ্ডুলিপিটা রাখা। পাণ্ডুলিপির প্রথম পাতায় বাবার সেই পরিচিত নীল কালির হস্তাক্ষর— ‘লেখক ভূতে বিশ্বাস করে না, কিন্তু গল্প চমৎকার লিখেছে। ছাপিয়ে দাও।’”

কথাগুলো শেষ হতেই হাফিজ রাসার কপাল দিয়ে বিন্দু বিন্দু হিমশীতল ঘাম জমতে শুরু করল। এক তীব্র ঠাণ্ডা স্রোত যেন তাঁর পিঠের শিরদাঁড়া বেয়ে সোজা নিচে নেমে গেল।

হঠাৎই রাসার মগজে ও কানে তীব্রভাবে বেজে উঠল পার্কের সেই কুয়াশাচ্ছন্ন সন্ধ্যার ভারী কণ্ঠটি— “ভূতেরা কি শুধু খারাপ কাজই করে? ভূতের গল্প লেখেন অথচ ভূতে বিশ্বাস করেন না? এটা তো ভারী অন্যায় কথা!”

মনোজ কান্তি রাসার কাঁপতে থাকা হাতের দিকে তাকিয়ে ধীর গলায় বললেন, “রাসা সাহেব, বাবা আপনাকে খুঁজে নিয়েছেন কারণ আপনার লেখনীতে সেই জাদুকরী জোর ছিল। মিষ্টির হাঁড়িটা এখানে রেখে দিন, বাবা হয়তো রাতে এসে মিষ্টির গন্ধ নেবেন।”

আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়ানোর শক্তি রাসার ছিল না। তিনি কোনোমতে টেবিলের ওপর মিষ্টির হাঁড়িটা রেখেই দ্রুত পায়ে ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন।

প্রকাশনা ভবনের পুরোনো কাঠের সিঁড়ি দিয়ে যখন তিনি একটার পর একটা ধাপ নেমে আসছেন, তাঁর হাঁটু দুটো কাঁপছে। যুক্তি, বিজ্ঞান আর বাস্তবের সমস্ত শক্ত দেয়াল চুরমার হয়ে গেছে। তিনি এখন জীবনের সবচেয়ে বড় সত্যের মুখোমুখি। তিনি এখন মনেপ্রাণে বিশ্বাস করছেন— ভূত আছে। সত্যি সত্যিই ভূত আছে!

হঠাৎ মাথার ওপরের খাঁ খাঁ করা নিঝুম সিঁড়ির ল্যান্ডিং থেকে এক অতি পরিচিত, ভারী অথচ পরম স্নেহমাখা কণ্ঠ ভেসে এলো—

“কী লেখক সাহেব? এবার তো ভূতে বিশ্বাস হলো? সামনের বইমেলায় কিন্তু আরও ভালো ভূতের গল্পের অপেক্ষায় রইলাম!”

হাফিজ রাসা চমকে সিঁড়ির মাঝপথেই জমে গেলেন। ধীরে ধীরে পেছনে ফিরে তাকালেন।

উপরে কেউ নেই। কেবল বিকেলের ম্লান আলো এসে পড়েছে একটা ফাঁকা, ধূসর দেওয়ালটার ওপর।

কিন্তু রাসা আর ভয় পেলেন না। তাঁর শরীরের সমস্ত শিউরে ওঠা ভাব যেন এক মুহূর্তে শান্ত হয়ে গেল। চোখের কোণে এক ফোঁটা জলের সঙ্গেই ঠোঁটে ফুটে উঠল এক পরম শ্রদ্ধার হাসি।

তিনি শূন্য সিঁড়ি আর ধূসর দেওয়ালটার দিকে তাকিয়ে দুই হাত জোর করে নমস্কার জানালেন। তারপর বিনম্র গলায় ফিসফিস করে বললেন—

“আচ্ছা… কথা দিলাম, প্রকাশক মশায়।”