মুন্সীগঞ্জে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা
এম এম রহমান ।।
মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকরা নিয়মিত স্কুলে উপস্থিত না থাকায় মারাত্নকভাবে ব্যাহত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান। শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সময় মতো উপস্থিত থাকে না শিক্ষকরা।
সকাল ৯ টার আগে স্কুলে থাকার কথা শিক্ষকদের। কিন্তু অনেক স্কুলে শিক্ষকরা দেরি করে স্কুলে আসেন। কোন কোন শিক্ষক নির্ধারিত সময়ের আগেই বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। শিশুদের মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জেলা সদরের বেশ কয়েকটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক অনুপুস্থিতি ও অনিয়মের ভিন্ন ভিন্ন চিত্র। আগের দিনে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিতো। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষকরাই বাচ্চাদের পাঠদান কার্যক্রম ফাঁকি দিয়ে শিক্ষা নীতিমালা অমান্য করছেন। সকাল ৯টার আগে স্কুলে থাকার কথা শিক্ষকদের। অথচ বেলা ১১ টার পরও একাধিক বিদ্যালয়ে চিত্র ছিলো উল্টো। ১০ টা বা ১১ টার পর দেরি করে স্কুলে এসেও অনেক শিক্ষক হাজিরা খাতায় লিখেছেন ৯ টার উপস্থিতি।
বিদ্যালয়গুলোর আশেপাশে থাকা স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, চলাঞ্চলের অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা স্কুলে আসেন দেরি করে। কোন কোন সময় নির্ধারিত সময়ে আগেই স্কুল ছুটি হয় । পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকরা তেমন একটা আন্তরিক নয়। বর্তমান শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম অনেকটাই ধরি মাছ না ছুঁই পানি। কোন মতে ক্লাস করিয়ে দায় সারেন। এছাড়াও নানা অনিয়মের ও বিদ্যালয়ে শিক্ষক অনুপুস্তিতির কারণে পাঠদান নিয়মিত ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষকবৃন্দের বিদ্যালয়ে বিলম্বে উপস্থিতি, টিফিনে গিয়ে দেরিতে আসা, স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগ করা বিষয়গুলি সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি হলেও শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে অনুপুস্থিত হার বাড়ছে। সময়মতো শিক্ষকের দেখা মিলেনা অনেক বিদ্যালয়ে।
শিক্ষকদের পাঠ নিতে দীর্ঘক্ষন অপেক্ষা করতে দেখা গেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এতে করে মানসম্মত শিক্ষা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। চরাঞ্চলের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে মনিটরিং জোরদারসহ নানা পদক্ষেপ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ মাসুদ ভূইয়া বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসম্পন্ন শিক্ষা অর্জনে বিদ্যালয়গুলোতে কঠোরভাবে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ পেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/এষ্

