বর্ষার আগেই নদী ভাঙ্গনের ছোবলে দক্ষিণাঞ্চল
মোঃ মোছাদ্দেক হাওলাদার, বরিশাল: বর্ষা মৌসুম আসার আগেই দখিণের কীতর্নখোলা,সুগন্ধা, সন্ধ্যা ও বিষখালীর নদীর ভাঙ্গন ছোবলে দিশেহারা হয়ে পরেছেন নদী তীরবর্তী বসবাকারী বাসিন্দারা। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে বসতভিটা, হাট-বাজার, সড়ক, আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নদী ভাঙ্গন শুরু হওয়ায় বর্তমানে হুমকির মুখে রয়েছে সরকারী-বেসরকারি অসংখ্য স্থাপনা, ঘরবাড়ি ও বাজার।
নদীভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের কয়েক হাজার পরিবার। প্রতিদিনই ভাঙছে নতুন নতুন এলাকা। মেঘনা ঘেরা মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলাবাসী সবচেয়ে বেশি নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। পাশাপাশি কীতর্নখোলা, সুগন্ধা, সন্ধ্যা, বিষখালী, কচা, কালীগঙ্গা ও বলেশ্বর নদীর ভাঙনে নির্ঘুম দিন কাটাচ্ছে বরিশালের বানারীপাড়া, বাবুগঞ্জ, উজিরপুর, বরিশাল সদরের চরবাড়িয়া, চরমোনাই, ঝালকাঠি সদর, নলছিটি, রাজাপুর, কাঠালিয়া, পিরোজপুর, পটুয়াখালী ও বরগুনার নদীতীরবর্তী মানুষ।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা একটি পৌরসভা ও ১৫ ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। প্রতি বছর এ উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নই নদীভাঙনের শিকার হচ্ছে। অব্যাহত নদীভাঙনের ফলে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে এ উপজেলার মানচিত্র। মেঘনা নদীর কড়ালগ্রাসে বিলীন হয়ে যাচ্ছে হিজলা উপজেলা। এ উপজেলার বাউশিয়া, বাহেরচর, উত্তর বাউশিয়া, পুরাতন হিজলা বন্দর এলাকায় নদীভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
হুমকির মুখে পড়েছে হিজলা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও ১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সন্ধ্যা ও সুগন্ধ্যা নদীর ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া,উজিরপুর ও ঝালকাঠি জেলার সদর,নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলায়। এদিকে পিরোজপুর জেলার ভেতর দিয়ে প্রবাহিত কচা, কালীগঙ্গা, সন্ধ্যা ও বলেশ্বর নদীর নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে হাজারো ঘর-বাড়ি।
গত বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অতি বর্ষণ ও জোয়ারের পানি কয়েক ফুট বৃদ্ধি পেয়ে মারাত্মকভাবে এ জেলার বেড়িবাঁধগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বাম তীরের অব্যাহত ভাঙনে দিন দিন ছোট হচ্ছে লোহালিয়া ইউনিয়নের সীমানা। গত এক দশকেরও বেশি সময় যাবদ চলতে থাকা এ ভাঙনে বাড়ি-ঘর হারিয়েছে শত শত মানুষ। এছাড়াও বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নের বিষখালী নদীর অনবরত ভাঙনের ফলে আতঙ্কে রয়েছে রামনা গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার।
ইতোমধ্যে বাজার, বাড়িঘর, মসজিদ, মন্দির এবং অনেক আবাদি জমি বিষখালী নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভয়াল অতীত আরও বেশি আতঙ্কে রাখে ঠুডাখালী ও রামনার লোকজনকে। এ জেলার নদীতীরবর্তী বেতাগী উপজেলার বিষখালী নদীর অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে রয়েছে অসংখ্য সরকারী বেসরকারী স্থাপনা।
অপরদিকে বিশখালী নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের দিন কাটছে চরম উদ্বেগ উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্যদিয়ে। বিশখালীর ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধ্বসে যাওয়ায় ভিটে-মাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মাঝে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। বিশখালীর তীরবর্তী কাঠালিয়া উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ২৬ কিলোমিটার ভাঙন অব্যহত রয়েছে।
বেশ কয়েকবার এ স্পটগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীরা পরির্দশন করলেও কোনো সুফল পায়নি উপজেলাবাসী। জরুরি ভিত্তিত্বে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধের স্থায়ীভাবে র্র্নিমাণ ও নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি করেছেন ওই উপজেলার আমুয়া, কাঠলিয়া সদর, শৌলজালিয়া ও আওরাবুনিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা। বর্ষার আগেই বিষখালীর তীব্র ভাঙনে অরক্ষিত হয়ে পরছে গোটা কাঠালিয়া উপজেলা। হুমকিতে রয়েছে উপজেলা কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান এমাদুল হক মনির বলেন, জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কার ও বিশখালীর ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়েছে।কাঠালিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারন সম্পাদক মোঃ মাসউদুল আলম বলেন, জরুরি ভিত্তিত্বে ভয়াবহ নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ করা না গেলে উপজেলার ঘরবাড়ি, ফসলী জমি ও সরকারি অফিস ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হবে। স্থায়ীভাবে ভাঙ্গনরোধের জন্য আমুয়া ইউনিয়ন থেকে আওরাবুনিয়া পর্যন্ত ২৬ কিলোমিটার এলাকায় ব্লক দিয়ে টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরী প্রয়োজন।
সূত্রমতে, দীর্ঘ দুই যুগের অধিক সময় ধরে বিশখালী নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য হাট-বাজার, রাস্তা-ঘাট,হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশ্রয়কেন্দ্রসহ বহু স্থাপনা। বর্তমানে হুমকির মুখে পরেছে উপজেলা কমপ্লেক্সসহ সরকারি-বেসরকারি অসংখ্য প্রতিষ্ঠান ও অসংখ্য বাড়ি-ঘর।
বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, বরিশালে নদী ভাঙন নিয়ে আমাদের বেশ কয়েকটি প্রকল্প মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। সেগুলো পাস হলে ভাঙনরোধে কাজ শুরু হবে। ইতিমধ্যে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে।
স/অ

