মুন্সীগঞ্জে ভাড়া ঘরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম- ভোগান্তিতে গ্রাহকরা
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কার্যালয় না থাকার কারনে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের টিনসেট ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষনা করা হয়।
সেই সময়ে থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা মুন্সীরহাট বাজারে ঘরভাড়া নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। যেখানে পরিষদের নির্ধারিত জায়গা রয়েছে। সেখানে রয়েছে জরাজীর্ণ ভবন। ফলে প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাধারণ মানুষ।
অন্যদিকে প্রতি মাসে ভাড়া গুনতে হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদকে। তবে সাবেক চেয়ারম্যানরা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণে তৎপর ছিলেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, একের পর এক চেয়ারম্যান নির্বাচিত চেয়ারম্যান ভাড়া ঘরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কিন্তু জায়গা খুঁজে ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত ভবন নির্মাণের চেষ্টা করেও কেউ সফল হয়নি। পূর্বে যেখানে সরকারি টিনসেট ভবন ছিলো সেখানেও ভবন করার কেউ চেষ্টা করেননি।
বর্তমান পূর্বের স্থানে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন গ্রামের লোকজন গাড়ী ভাড়া দিয়ে মুন্সীরহাট বাজারে এসে ইউনিয়ন পরিষদের সেবা গ্রহণ করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে মানুষের অতিরিক্ত সময় আর অর্থ ব্যয় হলেও অস্থায়ী কার্যালয়ে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
জানাগেছে, ১৯টি গ্রাম আর ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে চরকেওয়ার ইউনিয়ন। চরাঞ্চলের এই ইউনিয়নটির বর্তমান জনসংখ্যা ৩০ হাজার ৪শত ৬ জন। ইউনিয়নটির আয়োতন ৮ বর্গ মাইল। টরকি এলাকায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়টি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে প্রায় ১৫ বছর আগে টিনসেট ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।
২০১১ সাল থেকে নির্বাচিত চেয়ারম্যানরা মুন্সীরহাট বাজারে ভাড়া করা ঘরে শুরু করেন ইউনিয়নের কার্যক্রম। এর আগেও অনেক নির্বাচিত প্রতিনিধি তাদের সুবিধাজনক স্থানে ঘর ভাড়া নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালিয়েছিলো।
বর্তমানে নব নির্বাচিত চেয়ারম্যানও মুন্সীরহাট বাজারে সাবেক চেয়ারম্যান যে ভাড়া ঘরে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম চালিয়েছিলেন সেই ঘরেই চালিয়ে যাচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। তিন কক্ষ কক্ষের টিনশেড ঘরটিতে একটিতে চেয়ারম্যান, একটিতে সচীব এবং আরেকটিতে তথ্য ও তথ্যসেবাকেন্দ্র।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মুন্সীরহাট বাজারের ভিতরে নদীর তীরে নির্জন স্থানে টিনসেটের একটি ঘরে চলছে চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। টিনসেট ভবনটিতে যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো নয়। ভবনের সামনে ময়লা আবর্জনা আর ঝাড় জঙ্গল । ভবনের ভিতরে গ্রাহকরা ভিড় জমাচ্ছেন।
ছোট ছোট কক্ষে বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত হয়ে অনলাইনে ব্যাংকিংসেবা, পর্চার আবেদন, এনআইডি সংশোধনের আবেদন, ভাতার আবেদন, স্কুল কলেজে ভর্তির আবেদন, হোল্ডিং কর গ্রহণ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা,সরকারি চাকরির ফরম পূরন এবং পাসপোর্টের আবেদনসহ নানা ধরনের সেবা গ্রহণ করছেন।
রুমের ভিতরে বসা কিংবা দাঁড়িয়ে থাকার কোন পরিবেশ নেই। তথ্যসেবাকেন্দ্রে মানুষ গাদাগাদি করে গ্রহন করছেন বিভিন্ন ধরনের সেবা।
সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী জানান, ইউনিয়ন পরিষদের নির্ধারিত ভবন না থাকায় নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রাহকরা। রুমের ভিতরে জায়গা কম থাকায় মানুষ গাদাগাদি করে সেবা নিচ্ছেন। ভিতরে কিংবা বাইরে দাঁড়ানোর কোন পরিবেশ নেই। ইউনিয়ন পরিষদের ভবন থাকলে মানুষ ভোগান্তি ছাড়াই সব ধরনের সেবা গ্রহন করতে সক্ষম হতো।
তারা আরো জানান, একটা ইউনিয়ন পরিষদ চালাতে গেলে অনেক কক্ষের প্রয়োজন। ঘর ভাড়া নিয়ে পরিষদের কার্যক্রম চালানো পরিষদের আর্থিক ক্ষতি। এছাড়াও নানা সংকটের কারনে মানুষ ইউনিয়ন পরিষদে এসে স্ব:স্থিতে সেবা গ্রহণ করতে পারছেনা বলেও জানিয়েছেন একাধিক ভুক্তভোগী।
চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী আফসার উদ্দিন ভূইয়া বলেন, অস্থায়ী কার্যালয়ে পরিষদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা যাচ্ছে না। একটা ইউনিয়ন পরিষদে অনেক কক্ষ লাগে। পরিষদের নিজস্ব ভবন থাকলে অন্যান্য সংস্কার অফিসগুলোও এখানে থাকতো।
তিনি আরো বলেন, জায়গা সংকটে রুমের ভিতরে এবং বাইরে মানুষ দাঁড়িয়ে থাকে। দ্রুত সময়ের মধ্যে চরকেওয়ার ইউনিয়ন পরিষদের একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপÑ পরিচালক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, বেশ কিছু ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব কোন ভবন নেই। এগুলোর বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। যেসব ইউনিয়ন পরিষদে ভবন নেই সেখানে ভবন নির্মাণ এবং সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
স/এষ্

