সীতাকুণ্ডে আগুন নেভাতে জীবন দিলো মানিকগঞ্জে রানা
কৃষ্ণ চন্দ্র রাজবংশী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোর আগুন নেভাতে গিয়ে জীবন বিসর্জন দিয়েছেন ফায়ারম্যান রানা মিয়া (২২)। মা রেনু বেগম ও ছোট ভাই সাজেদুল মিয়া জানে না তার ছেলের আত্মত্যাগের কাহিনী।
শনিবার রাতে বিএম কন্টেইনার ডিপোর আগুন নেভাতে গিয়ে নিখোঁজ হন রানা। রোববার দুপুরে তার মরদেহ শনাক্ত করে ভগ্নিপতি বিজিবি সদস্য রাসেল শেখ। রানার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার নবগ্রাম গ্রামে।
রানার প্রতিবেশী শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মনির হোসেন জানান, রানার বাবা পান্নু মিয়া ঢাকা থাকেন। রানারা তিন ভাইবোন। তার ছোট এক ভাই সাজেদুল মিয়া আর বন্যা নামে এক বোন আছে। তার ছোট ভাই আর মা জানেনা রানা মিয়া আগুন নিভাতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন গতবৃহস্পতিবার বাড়ি এসেছিলো রানা মিয়া।
ওদের মূল বাড়ি শিবালয় উপজেলার তেওতা এলাকায়। দীর্ঘ দিন ধরে রানারা তাদের নানা বাড়ি নবগ্রামে থাকে । গ্রামে আসলে বিভিন্ন সামাজিক কাজও করতো সে। রানার লাশ শনাক্ত হওয়ার পর তার মামা ইউসুফ আলী চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গেছেন রানা মিয়ার লাশ আনতে।
শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আলাল উদ্দিন আলাল জানান, চট্টগ্রামের কমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মরত রানা মিয়া নামে ফায়ার ম্যান তার ইউনিয়নের নবগ্রাম গ্রামের বাসিন্দা। শনিবার রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোর আগুন নেভাতে গিয়ে নিখোঁজ হন। রোববার তার মরদেহ শনাক্ত করেন তার ভগ্নিপতি রাসেল শেখ।
রানার ভগ্নিপতি বিজিবি সদস্য রাসেল শেখ সমকালে নিশ্চিত করেছেন আগুন নিভাতে গিয়ে যে কয়জন মারা গেছেন তাদের মধ্যে রানা মিয়া রয়েছে। রানা মিয়া ২০২০ সালে ফায়ার সার্ভিসে যোগদেন। বর্তমানে সে চট্টগ্রামের কমিরা ফায়ার স্টেশনের কর্মরত ছিলো। রোববার দুপুরে রানার লাশ সনাক্ত করে সে নিজেই। আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে রানার লাশ মানিকগঞ্জে নিয়ে আসা হবে।
শিবালয় থানা ওসি মোঃ শাহিন সমকালকে বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের একজন সদস্য চট্টগ্রামে সীতাকুণ্ডে নিহত হয়েছেন যার বাড়ি শিবালয়ের নবগ্রামে।
শিবালয় ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বিষয়টি তাকে নিশ্চিত করেছেন।
স/এষ্

