সিভিল সার্জনকে ম্যানেজ করে চলছে অবৈধ ক্লিনিক-হাসপাতাল
মো. শাহীনুজ্জামান, লোহাগড়া ।। নিবন্ধনের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে অনেক আগেই। তবুও বহাল তবিয়তে সেবার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে ৩১টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ৫৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এ চিত্র নড়াইলের সদর উপজেলাসহ কালিয়া এবং লোহাগড়া উপজেলার।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নড়াইল সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগমকে ম্যানেজ করে চলছে এসব প্রতিষ্ঠান। মাঝে-মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে কিছু প্রতিষ্ঠান কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় ফের চালু হচ্ছে এসব প্রতিষ্ঠান।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অনেক প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রেশন করা হয়নি। আবার কয়েকটির থাকলেও ডাক্তার এবং নার্সদের কাগজপত্র জালিয়াতি করে তৈরি করা হয়েছে।
এসব অবৈধ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে বিভ্রান্ত করতে নামসর্বস্ব ভূঁইফোড় কিছু পত্রিকার সাংবাদিক এবং মানবাধিকারকর্মী হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন।
নিজের গলায় এবং রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেলে প্রেসের স্টিকার লাগিয়ে দাপিয়ে বেড়ায় জেলার অলিতে-গলিতে। অভিযোগ আছে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে চটকদারী বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে দালালদের দিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে ভর্তি করতে বাধ্য করেন তারা।
ফলে প্রায়ই জানা যায় ভুল ও অপচিকিৎসায় অপারেশন টেবিলেই মৃত্যু হয় প্রসুতি মা ও সন্তানের। আর তখনই প্রশাসন, ডাক্তার এবং মৃত্যের পরিবারের স্বজনদের ম্যানেজ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন ওইসব কথিত সাংবাদিক ও ক্লিনিক মালিকরা।
নড়াইল সিভিল সার্জন অফিস থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, লোহাগড়া উপজেলায় আল্লারদান সার্জিক্যাল ক্লিনিক, মোর্শেদা সার্জিক্যাল ক্লিনিক, মা সার্জিক্যাল ক্লিনিক, বিসমিল্লাহ হাসপাতাল এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার, মেহেদী ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয় ২০২১ সালের ৩০ জুন।
এছাড়া ২০২২ সালের ৩০ জুন নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয় রেমিডি ক্লিনিক, ডক্টরস স্পেশালাইজড হসপিটাল, প্রত্যাশা হাসপাতাল, নিশাত প্যাথলজিক্যাল ক্লিনিক, উপশম হেলথ কেয়ার সেন্টার, ফাতেমা বেগম জেনারেল হসপিটাল, আলিফ ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সততা ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের।
বছরের পর বছর ধরে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে নড়াইল সিভিল সার্জন ডা. সাজেদা বেগম বলেন, আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা নিয়ে মাঝে-মধ্যে অভিযান পরিচালনা করছি।
পর্যায়ক্রমে নিয়মনীতির বাইরে পরিচালিত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশফাকুল হক চৌধুরী বলেন, ইতিমধ্যে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কয়েকটি ক্লিনিক মালিকদের জরিমানা করা হয়েছে। এ অভিযান চলমান থাকবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ৮৬টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর মধ্যে সদরে ক্লিনিক সংখ্যা ১০টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২৮টি, লোহাগড়া উপজেলায় ক্লিনিক ১৪টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার ২০টি, কালিয়া উপজেলায় ক্লিনিক ০৭টি এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টার ০৭টি রয়েছে।
স/এষ্

