সমতলে কমলা চাষে সফলতা
মোঃ মোছাদ্দেক হাওলাদার, বরিশাল ॥ হলুদ ও সবুজের অপূর্ব সমন্বয়ে বাগানজুড়ে শোভা পাচ্ছে কমলা ফল। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে থোকায় থোকায় ঝুলছে চায়না জাতের হলুদ রঙয়ের কমলা। দেখে মনে হবে, সবুজের বুকে এক টুকরো সূর্যের হাঁসি। বাতাসে পাকা কমলার সুমিষ্ট গন্ধে পুরো বাগান ছড়িয়ে পড়েছে। কমলার চাষ যে শুধু পাহাড়ি অঞ্চলেই হয় এমন ধারণা পাল্টে দিয়ে এখন সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ করে রীতিমত তাক লাগিয়েছেন বরিশালের বাবুগঞ্জের পারভেজ মাহমুদ।
পারভেজ মাহমুদের কমলা বাগানের নান্দনিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছে বাবুগঞ্জ উপজেলার ইদিলকাঠী গ্রামে। বেশিরভাগ কমলা বাজারজাত করা হয়েছে। ভালো ফলন দেখে কমলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে অনেকের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সন্ধ্যা নদীর পাড়ে ইদিলকাঠী গ্রামে ৪৫ শতক জমিতে ৪০৫ টি চায়না কমলা গাছ লাগিয়ে সফল হয়েছেন পারভেজ। পাশাপাশি একই জমিতে সাথী ফসল হিসাবে ১৩২টি পেয়ারা চারা রোপণ করেন। পেয়ারায় তেমন সফলতা না পেলেও চায়না কমলার ফলন বেশ সন্তোষজনক হয়েছে। সৎ উপার্জনের উদ্দেশ্যে ইউটিউব ঘেঁটে তিনি চায়না কমলা চাষ শুরু করেন।
২০২০ সালে তিনি চায়না কমলা চারা সংগ্রহ করে রোপণ করেন। এবছর তার প্রতিটি গাছে প্রচুর ফল ধরেছে। ইতিমধ্যে তিনি ১৫০ টাকা কেজি দরে অধিকাংশ কমলা বিক্রি করেছেন। এ অঞ্চলে এই প্রথম কোনো প্রকার রাসায়নিক ঔষধ ছাড়া নিজের তৈরিকৃত জৈব সার ও জৈব বালাই নাশক প্রয়োগ করে চায়নাকমলা চাষ করে সফলতা পাওয়ায় উপজেলা কৃষি অফিসের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।
এবছর বাগানটি থেকে গড়ে ৫০০-৬০০ কেজি কমলা বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী তিনি। ১৫০-২০০ টাকা কেজি হিসাবে এখান থেকে সে ১ লাখ টাকার বেশি উপার্জন করবে। আগামী দশ বছর এই বাগান থেকে তিনি উপার্জনের আশা করছেন। এই বাগান থেকে কোটি টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
দেশের যুব সমাজের উদ্দেশ্যে পারভেজ বলেন, লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে দেশেই কর্মসংস্থান তৈরি করে নেয়া উচিত।
উপজেলা সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহ মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, এ অঞ্চলে চায়না কমলা বানিজ্যিকভাবে উৎপাদন হয় না। বাবুগঞ্জে প্রথম বাণিজ্যিক ভাবে চায়না কমলা বাগান করেছেন পারভেজ মাহমুদ। আমরা তার বাগানের খোঁজ খবর রাখছি। চাহিদা অনুযায়ী কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দিয়ে আসছি।
স/অ

