মুন্সীগঞ্জে শিক্ষার্থীরা ক্লাস ফাঁকি দিয়ে সময় কাটাচ্ছেন আড্ডাবাজিতে
এম এম রহমান ।।
মুন্সীগঞ্জ শহরের বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীরা এখন হাই স্কুল মার্কেট, ডিসি পার্কের সামনে ও এর আশপাশ এলাকাকে তাদের আড্ডা স্থলে পরিনত করেছে বলে জানিয়েছেন পথচারি ও স্থানীয়রা। তারা জানান, স্কুল চলাকালীন সময় কিংবা স্কুল ছুটির আগে এবং পড়ে ঘন্টার পর ঘন্টা শিক্ষার্থীরা রাস্তায় দল বেঁধে আড্ডাবাজি করেন।
তাদের কারণে মার্কেট কিংবা রাস্তায় চলাচলে মানুষ নানা প্রতিবন্ধকতা ও বিভ্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে। অল্প বয়সী ছেলেরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে মেয়েদেরকে উত্যাক্ত করে। অনেক সময় এ নিয়ে ঘটে ছেলে মেয়েদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা। কিশোর বয়সী ছেলেরা শুধু আড্ডাবাজিতেই ক্ষান্ত হচ্ছেনা।
দলবেঁধে গলির ভেতরে কিংবা রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে ধুমপান করেন। তারা বন্ধুদের আড্ডায় পড়ে এবং তাদের সঙ্গ দোষে তামাকজাতীয় দ্রব্য সিগারেট সেবনে ঝুঁকে পড়ছে। স্কুল পড়ুয়া এবং স্কুলে না যাওয়া বখাটে কিশোরদের সমন্বয়ে গ্রুপ বেঁধে কিশোররা কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে চায়ের দোকানেও আড্ডাবাজি ও ধুমপান করেন।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, আজকাল স্কুলের শিক্ষার্থীরা তাদের ব্যাগের মধ্যে স্কুলের ইউনিফর্মের পাশাপাশি নরমাল ড্রেস নিয়ে আসেন। স্কুল ছুটির পর অনেক শিক্ষার্থীরা স্কুলের ইউনিফর্ম খুলে নরমাল পোষাক আড্ডাবাজিতে যুক্ত হন। রাস্তায় আড্ডাবাজির বিষয়ে কেউ তাদেরকে প্রশ্ন করলে তারা বলেন প্রাইভেট পড়তে যাচ্ছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী স্কুল খোলার অনেক আগেই চলে আসেন।
এছাড়াও স্কুল ছুটির কয়েক ঘন্টা পরও তারা আড্ডাবাজি করেন।অনেক কিশোর সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বন্ধুদের সাথে আড্ডাবাজি করেন। তাদের কাজই হলো আড্ডা দেয়া আর মেয়েদের উত্যাক্ত করা। এ ঘটনা নিয়ে মারপিট করার মতো কাজটি তারা করেন।
কোন কোন কিশোর একা কিংবা কখনও চায়ের দোকানে গিয়ে সিগারেট কিনে প্রকাশ্যে সেবন করেন। কিশোরদের পছন্দের তালিকায় বিদেশেী ব্রান্ডের সিগারেটের পাশাপাশি দেশি ব্রান্ডের সিগারেটও বেশ প্রিয়। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে আড্ডা জামান কিশোররা। তাদের মধ্যে অধিকাংশ কিশোরই স্কুল পড়–য়া। তাদের সাথে যুক্ত হয় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দাদাগিরী করা কিছু উশৃংখল কিশোর গ্রুপ।
সরেজমিনে বিভিন্ন চায়ের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, সকাল ৮ টা থেকে শহরের কাচারি হাই স্কুল মার্কেট, ডিসি পার্কের সামনের সড়কে ও হাই স্কুল মার্কেটের সিঁড়িতে চলে শিক্ষার্থীদের আড্ডাবাজি। শুধু তাই নয় স্কুল ছুটির কয়েক ঘন্টা পরও শিক্ষার্থীরা এসব স্থানে আড্ডা জমায়।
বিভিন্ন সময়ে স্থানীয়রা তাদেরকে তারিয়ে দিলেও ঘুরেফিরে আবারও তারা একই স্থানে জড়ো হচ্ছেন। দলবেেঁধ হই হুল্লোর, মোবাইল নিয়ে টানাটানি, এক গ্রুপ আরেক গ্রুপের সাথে হাতাহাতি করেন। অনেক সময় একা কোন মেয়ে রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাদেরকে ছেলেরা টিস করছেন। একই গ্রুপের এসব ছেলেদেরকে আবার বিভিন্ন চায়ের দোকান এবং ফাঁকা গলিতে দাঁড়িয়ে ধুমপান করতেও দেখা গেছে।
সরকারী হরগঙ্গা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আব্দুল হাই তালুকদার চমক নিউজকে বলেন, আমাদের যে শিক্ষার্থীরা ছোট ক্লাস থেকে শুরু করে বড় ক্লাস পর্যন্ত তারা ক্লাসে মনোযোগী হয়না। অনেক সময় অনেক ছাত্র/ ছাত্রী বাড়ী থেকে স্কুল – কলেজের কথা বলে আসলেও তারা আসলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যায়না।
তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না গিয়ে বিভিন্ন মার্কেট ,রাস্তা ও খোলা জায়গায় আড্ডা দিতে থাকে এতে করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যেমন দুর্নাম হয় তেমনি ছাত্র ছাত্রীরা অলস মস্তিকের হয়ে যায়। যখন তারা অলস মস্তিকে থাকে তখন তারা মাদকসহ অন্যান্য আসক্তিতে জড়িয়ে পড়ে।
তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকেও শিক্ষকদের করনীয় আছে। আমাদের অভিভাককেদেরও করনীয় আছে যে, তার ছেলে বা মেয়ে স্কুল বা কলেজের কথা বলে আসলে তারা স্কুল বা কলেজে যায় কিনা এবং তারা যদি না যায় সেই বিষয়টি মনিটর বা খোঁজ খবর রাখা যে, আমাদের ছেলে মেয়েরা কি করছে। আমরা রাস্তাঘাটে বের হলেই দেখতে পাই ছেলে মেয়েরা রাস্তাঘাটে আড্ডা দিচ্ছেন। এই আড্ডা থেকেই খারাপ দু”একজন বন্ধু বান্ধবের প্ররোচণায় ছাত্র / ছাত্রীরা বিভিন্ন মাদকে আসক্তি হয়ে পড়ে।
এটা একটা সময় ভয়ংকর রূপ ধারন করতে পারে। এজন্য আমাদের সকল অভিভাবক, সকল শিক্ষক এবং আইনশৃংখলা বাহিনী বা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি এর ব্যবস্থা না নেয়া হয় তাহলে এটি ভয়াবহ রূপ ধারন করতে পারে। এজন্য আমাদের এ বিষয়ে সজাগ থাকা দরকার। তিনি আরো বলেন, আরেকটি বিষয় হলো শিক্ষার্থীরা মাদকের আসক্তির চেয়ে ভয়ংকরভাবে মোবাইল আসক্তিতে রূপান্তিরিত হয়েছে।
আমরা দেখতে পাই বাসাবাড়ীতে আগে শিক্ষার্থীরা বাবা মায়ের সাথে কথা বলতো পড়ালেখার ফাঁকে ফাঁকে। এখন তারা আত্নীয় স্বজন আসলেও তারা সেখানে আগ্রহ দেখায় না । তারা ঘরে মোবাইলের প্রতি আসক্তি হয়ে সময় পার করতে থাকেন। শুধু তাই নয়, রাস্তাঘাটেও মোবাইলের যা ইচ্ছে তাই ব্যবহার হচ্ছে।
প্রায়ই সময় দেখি কতগুলো ছেলেকে এক জায়গায় মাথা রেখে মোবাইল দেখছেন। এতে বোঝা যায় যে, নি: সন্দেহে এই দেখাটা কিছু দেখছে এটা না হয়তো খারাপ কিছুই তারা দেখছে। সুতরাং মোবাইল আসক্তির পাশাপাশি আড্ডাবাজি বন্ধে এখনই সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আজকাল অভিভাবকরা শিশুদের তেমন একটা খবর রাখছেনা। যার ফলে কিশোর ) কিশোরিরা তাদের মন মর্জিমতো চলাফেরা করছেন। অভিভাকরা সচেতন না হলে স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থী কিংবা বখাটে কিশোর – কিশোরীদের আড্ডাবাজি কমানো সম্ভব না। এজন্য সবার আগে অভিভাবকদেরকে বেশি সতর্ক ও সন্তানদের প্রতি দায়িত্ববান হতে হবে। শিক্ষার্থীদের আড্ডাবাজি বন্ধে অভিভাবকরা দায়িত্বশীল হবেন। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
স/এষ্

