ঢাকাবুধবার , ১৪ ডিসেম্বর ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

মুন্সীগঞ্জে পাথরে রোগ মুক্তির নামে চলছে প্রতারণা

admin
ডিসেম্বর ১৪, ২০২২ ৬:২৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে পাথরে রোগ মুক্তির নামে চলছে প্রতারণা

এম এম রহমান ।।

মুন্সীগঞ্জজেলার ৬টি উপজেলার হাটবাজার কিংবা গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার পাশে মানুষের বিভিন্ন ধরনের রোগ মুক্তির শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছেন কথিত তাবিজ ও পাথর বিক্রেতারা।

স্থানীয়রা জানান, মানুষ অসুস্থ্য হলে চিকিৎসকের নিকট গিয়ে তাদের পরামর্শ মতো ওষধ খাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আজকাল এখনও কিছু অসচেতন মানুষ রোগী মুক্তির মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাসী হয়ে তাবিজ, পাথর দিয়ে চোখ, মাথাব্যাথা, কোমড় ব্যাথার মতো রোগ থেকে মুক্তির জন্য রাস্তাঘাটের কবিরাজদের নিকট ছুটে যাচ্ছেন।

আধি যুগে মানুষ কবিরাজদের প্রতি ছিলো অগাদ বিশ্বাস। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞান ও দেশে উন্নত চিকিৎসাসেবা থাকা সত্বেও মানুষ এখনও কথিত কবিরাজদের কাছে গিয়ে রোগী মুক্তির নামে প্রতারিত হচ্ছে। অসচেতন মানুষগুলোর সরলতার সুযোগ কাজে লাগাচ্ছেন এক শ্রেনীর তাবিজ, কবজ ও পাথর বিক্রেতারা।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, শতকরা ৯০ ভাগ মানুষ জীবনের কোন না কোন সময়ে মাজা বা কোমড় ব্যাথায় ভুগেন। কোমর বা মাজা ব্যথার কোন সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায় না শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে। মাথাব্যাথা ও চোখের সমস্যার জন্য আধুনিক চিকিৎসা রয়েছে। ধুলোবালি কিংবা আবহাওয়ার কারণেও চোখের সমস্যা হয়।

অতিরিক্ত চিন্তাগ্রস্ত হলে কোমর ব্যাথা কিংবা মাথাব্যাথা হয়। তবে এসব উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার কোন বিকল্প নেই।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কথিত কবিরাজরা তাবিজ, বাত ব্যাথার আংটি, সাদা ও কালো পাথরে জটিল রোগ মুক্তির আশ্বাস দিচ্ছেন মানুষকে। সিরাজদিখান উপজেলায় রাস্তার পাশে আব্দুল কাদির নামের এক ব্যক্তি তাবিজ, কবজ আর আংটিতে শত রোগ থেকে মানুষকে মুক্তির শতভাগ গ্যারান্টি দিয়ে এসব বিক্রি করছেন।

মানুষ অন্ধ বিশ্বাসে কবিরাজের কাজ থেকে তাবিজ, কবজ আর আংটি কিনে নিচ্ছেন। জেলা সদরের মুন্সীরহাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে আব্দুর রহমান কাজী নামের এক বৃদ্ধ দুই ধরনের পাথর বিক্রি করছেন। রাস্তার পাশে তিনি মানুষকে আকৃষ্ট করতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

মানুষ তার কাছে গিয়ে কোমড় ব্যাথা, মাথাব্যাথা এবং চোখের সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন। কবিরাজ সেখানে থাকা মানুষকে দুইটি পাথর দিয়ে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। একজন মাথাব্যাথা রোগীর মাথায় পানিতে ভিজানো পাথর রেখে চাপ দিয়ে ধরে রাখেন। কিছুক্ষন পর একটা কাটের গ্লাস দিয়ে পাথরের উপর আঘাত করেই বলেন ব্যাথা কমছে ? কিছু কিছু লোকজন বলে কম কম লাগে আবার কিছু লোকজন বলছেন কমেনি।

কোমড় ব্যাথার রোগীকেও কালো পাথর দিয়ে কোমড়ে একই পদ্ধতিতে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে চোখের সমস্যা নিয়ে আসা রোগীকে পাথর লাল ও সাদা পানিতে চুবিয়ে সেই পানি চোখের ভিতরে ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। অনেকটা চোখের ড্রপ দেয়ার মতো। এসময় রোগীদের চোখ কিছুক্ষন জ্বালা পোঁড়া করে। রোগীদেরকে আরো কিছুক্ষন বসিয়ে রেখে হাতে একটি পাথর তুলে দেয়া হয় ।

মাথাব্যাথা আর চোখের সমস্যার জন্য মানুষকে দেয়া । কবিরাজ প্রতিটি পাথরের দাম নিচ্ছে ৫০ টাকা। কবিরাজ প্রথমে কোন পয়সা না নিয়ে ব্যাথা রোগীর ব্যাথা কিংবা চোখের সমস্যা কিছুটা কমেছে এমন একটি বিশ্বাস জন্মানোর চেষ্টা করেন। এরপর অসচেতন মানুষগুলো ৫০ টাকা করে যে যার মতো করে পাথর কিনে বাড়ী নিয়ে যাচ্ছেন।

ভুক্তভোগী সাইজল জানান, কবিরাজের কাছে যাওয়ার পর মাথায় পাথরটা পানিতে ভিজিয়ে চেপে ধরলো এর কিছুক্ষন পর মাথায় আঘাত করাতে আমার মাথাব্যাথা কমেছে এমনটা অনুভব করি। এরপর একাধিক সাদা পাথর কিনে বাড়ীতে নিয়ে যাই। এছাড়াও আমার দাদির কোমড় ব্যাথার জন্য কালো পাথরও কিনে নেই। কবিরাজের নিয়মে বাড়ীতে গিয়ে ব্যবহার করলেও কোন কাজ হয়নি।

আরেক ভুক্তভোগী ইসমাইল বেপারি জানান, রাস্তার পাশে বসে এসব কবিরাজদের কাছ থেকে তাবিজ, কবজ নিয়ে প্রতারিক হয়েছি। এরা বাজারে বসে মানুষ জড়ো করে মানুষকে বোকা বানায়। নানা রোগে আক্রান্ত মানুষ অন্ধ বিশ্বাসে এখানে এসে আমার মতো প্রতারিত হচ্ছে। এসব কবিরাজদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানাচ্ছি।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেন,মানুষ অন্ধ বিশ্বাসে এখনও তাবিজ , কবজে রোগ মুক্তি পাবে এটা বিশ্বাস করে। অনেকে চোখের সমস্যা, মাথাব্যাথার জন্যও নাকি পাথর ব্যবহার করে। পাথর ভিজিয়ে সেই পানি চোখে ব্যবহার করে রোগ নিরাময়ের জন্য।

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে এসবের কোন ভিত্তি নেই। এগুলো ব্যবহার করলে রোগ সেরে যাবে এমনটা বিশ্বাস করাটাই বোকামি। এই ধরনের চিকিৎসা থেকে মানুষের দূরে থাকায় মঙ্গল। মানুষকে সচেতন করার উপর গুরুত্ব দিতে হবে তারা যেন অন্ধ বিশ্বাসে এসবে বিশ্বাস না করেন। তাতেই মানুষের মঙ্গল।

স/এষ্