ঢাকারবিবার , ১৮ ডিসেম্বর ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

মুন্সীগঞ্জে ক্লিনিক ব্যবসা জমজমাট, ক্ষতিগ্রস্ত রোগীরা

admin
ডিসেম্বর ১৮, ২০২২ ১:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে ক্লিনিক ব্যবসা জমজমাট, ক্ষতিগ্রস্ত রোগীরা

এম এম রহমান ।।

মুন্সীগঞ্জ শহরের মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে প্রায় ২ বছর ধরে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব বন্ধ রয়েছে। এতে করে যে পরিমান গর্ভবতী মা তাদের সন্তানদেরকে নরমাল ডেলিভারী করাচ্ছেন তারচেয়ে দ্বিগুন গর্ভবতী নারীকে বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে বিপুল পরিমান অর্থ খরচ করে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করতে হচ্ছে।

এতে করে বিনামূলে সরকারি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা জরুরি অপারেশনের রোগীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনরা। একজন অ্যানেস্থেসিয়া সংকটে বেসরকারি ক্লিনিকগুলো এখন রমরমা ব্যবসা করছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন মুন্সীগঞ্জ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে অ্যানেস্থেসিয়া না থাকার কারণে চিকিৎসাকেন্দ্রটিতে বন্ধ রয়েছে সকল প্রকার অস্ত্রোপ্রচার। এ অবস্থায় অনেক জটিল অবস্থায় প্রসূতিদের তাদের স্বজনরা বেসরকারি ক্লিনিকে নিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। বেসরকারি ক্লিনিকে গেলে সেখানে প্রতিটি রোগীর সিজারের মাধ্যমে ১৮ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে।

মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্র সকল প্রকার লজিস্টিক সাপোর্ট, জনবল, অস্ত্রোপাচারের যন্ত্রপাতি ও সার্জন থাকা সত্বেও প্রসুতি মায়েদেরকে বাইরে গিয়ে সিজার করাতে হচ্ছে। শুধুমাত্র অ্যানেস্থেসিয়া ( অজ্ঞানের) ডাক্তার সংকটে। এতে অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা সেবা নিতে অর্থের উৎস নিয়ে হিমশিম খেতে হয় তাদের। আবার মা ও শিশু কল্যান থেকে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল চক্র রোগীর স্বজনদের নানাভাবে ফুসলিয়ে ক্লিনিকগুলোতে নিয়ে যাচ্ছে।

জানাগেছে, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধসহ স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে সরকার সারাদেশে মা ও শিশু কেন্দ্র চালু করেন। মুন্সীগঞ্জ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটি চালুর পর এ কেন্দ্রটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু কেন্দ্রটিতে দায়িত্বে থাকা অ্যানেসস্থেসিয়ান চিকিৎসক ডা: আসাদুজ্জামান বাপ্পি প্রায় ২ বছর ধরে ট্রেনিংয়ে আছে।

সে চলে যাওয়ার পর থেকে তার পরিবর্তে কোন অ্যানেসস্থেসিয়ান বা অজ্ঞানের ডাক্তারকে নিয়োগ দেয়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানটিতে অত্যাধুনিক চিকিৎসা সামগ্রী ও উন্নত পরিবেশ থাকার পরও প্রায় দুই বছর ধরে অ্যানেস্থাসিয়া চিকিৎসক না থাকায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে, ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, ক্লিনিক ব্যবসায়ীদের সুবিধা করে দিতেই চিকিৎসক নিয়োগ দেয়া হচ্ছেনা এখানে।

এছাড়াও মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের ভিতরে এবং বাইরে বিভিন্ন ক্লিনিকের রোগী ধরা সিন্ডিকেট প্রসুুতি মায়েদেরকে তাদের ক্লিনিকে ফুসলাইয়া নিয়ে যাচ্ছে। মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটিতে সরকারি স্টাফদের নিজস্ব ইউনি ফর্ম ব্যবহার না করার কারণে রোগীর স্বজনরা অনেক সময় রোগী ধরা দালাল নারীদেরকে সরকারি স্টাফ মনে করে তাদের কথায় সিজার করতে চলে যাচ্ছেন বেসরকারি ক্লিনিকগুলোতে।

ভুক্তভোগী নারী সেলিনা বেগম বলেন, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রটিতে আমার মেয়ে নরমাল ডেলিভারীর মাধ্যমে সন্তান প্রসব করেছে। এক সাপ্তাহের ব্যবধানে আমার ছেলের বউকে এখানে নিয়ে আসি। এখানে নিয়ে আসার পর পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নরমালে সন্তান প্রসব হবেনা, সিজার করালে ভালো হবে বললো চিকিৎসক। এখানে সিজারের ব্যবস্থা থাকলে বিনামূলে ছেলের বউয়ের অপারেশন করা যেতো। কিন্তু এখানে অজ্ঞানের ডাক্তার না থাকায় বাধ্য হয়ে ক্লিনিকে গিয়ে ২০ হাজার টাকায় ছেলের বউকে সিজার করাতে হয়েছে।

নরমাল সন্তান ডেলিভারী দেয়া আছিয়া বেগমের মা কুলসুম বেগম বলেন, এখানে প্রথম বারের মতো আমার মেয়ে নরমালি বাচ্চা প্রসব করেছে। কিন্তু এখানে এসে দেখি এই প্রতিষ্ঠানে সিজারের কোন ব্যবস্থা নেই অজ্ঞানের ডাক্তারের অভাবে। এতে করে বিভিন্ন ক্লিনিকের দালাল চক্র রোগীদের ফুসলাতে থাকে। আমাকেও ফুসলাইছিলো। আল্লাহর রহমতে আমার মেয়ের সিরাজ প্রয়োজন হয়নি।

তিনি আরোও জানান, এখানে আসা অনেক গর্ভবতী নারীর শ্বশুরবাড়ী কিংবা বাপের বাড়ীর লোকজন অস্তির হয়ে পড়ে। কখন সিজার করবে। তাদের মতো অসচেতন রোগী, অসাধু চিকিৎসক এবং দালাল চক্রের কারণে আজকাল সিজার বেশি হচ্ছে। দ্রুত সময়ে এখানে অপারেশনে ব্যবস্থা চালু ও দালাল চক্র নির্মুলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্শন করছি।

মুন্সীগঞ্জ মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের মেডিকেল অফিসার ডা: মনোয়ারা বেগম বলেন, প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীকে সেবা দেয়া হচ্ছে। মাসে ২০ থেকে ৩০ জন প্রসুুতি মাকে নরমাল ডেলিভারীর মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানো হচ্ছে। তিনি আরোও জানান, এখানে একজন পিওন পদ খালি আছে। বিশেষ করে অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার না থাকার কারণে সিজার করানো যাচ্ছেনা। এতে করে গর্ভবতী মায়েরা বিনামূলে সরকারিভাবে সিজার করার সুযোগ পাচ্ছেনা। অ্যানেস্তেসিয়া নিয়োগ দেয়ার জন্য বহুবার লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

পরিবারর পরিকল্পনা বিভাগের উপ- পরিচালক মো. আব্দুস সালাম বলেন, মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে অ্যানেস্থেসিয়া ডাক্তার নিয়োগের চিঠি রিসিভ করে মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রনালয় পর্যায়ে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান আছে। মাসিক মিটিংয়ে মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রের সকল স্টাফদের বলে দিয়েছি তারা যেন প্রতিষ্টানের ইউনিফর্ম পড়ে।

দালাল চক্রকে ধরতে জেলা প্রশাসনের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ মা ও শিশু কল্যান কেন্দ্রে রোগীর স্বজন ও অফিসের স্টাফ ছাড়া বাইরের কাউকে সেখানে পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স/এষ্