ঢাকাসোমবার , ১ ডিসেম্বর ২০২৫
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বিএনপি‘র গ্রুপিং চরমে ধানের শীষের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ভরসা হিরন

চমক নিউজ, ময়মানসিংহ
ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বিএনপি‘র গ্রুপিং চরমে

ধানের শীষের ভবিষ্যৎ অন্ধকার, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের ভরসা হিরন

ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান  শেখ বিপ্লব-ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বিএনপি‘র কোন্দল দানা বাধত বাধত কঠিন শীলায় পরিণত হয়েছে। পূর্ব থেকেই বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন ঘোষনার পর ত্যাগী নেতা কর্মীরা জ্বলতে শুরু করেছে। এর মাঝে ত্যাগী নেতা কর্মীদর আকষ্মীক বহিস্কার যেন আগুন ঘি ঢালার মত। যার ফল হতে পারে ধানের শীষ প্রতীকের ভরাডুবি এমনটি ধারণা করছেন ত্যাগী নেতা-কর্মী, সমর্থক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকরা।

উপজেলা বিএনপি‘র যুগ্ম আহবায়ক ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহজাহান সিরাজ বলেন, আওয়ামী দুঃশাসন আমলে বিএনপি‘র কেন্দ্র ঘাষিত সকল কর্মসূচী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ নিজের জীবন বাজী রেখে মামলা হামলা জেল জুলুমকে বদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নেতা কর্মীদর নিয়ে স্বত্বঃস্পুর্ত ভাবে পালন করে।

১৭ বছর দলীয় নির্দেশনা মেনে আন্দোলন সংগ্রাম করে প্রায় শতাধিক মামলার আসামি হয়ে জেল খানাকে নিজের বাসস্থা বানিয়ে ফেলেছিলেন।

আওয়ামী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে তার আপন ছোট ভাই বিএনপি নেতা ৩ বারের নির্বাচিত জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াদুজ্জামান রিয়াদ ফাসির আসামি হয়ে জেলে আছেন। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের উত্তর বাজারস্ত বাসা আগুনে পুড়ে শ্মশানে পরিণিত করে যার ভগ্নদশা এখনা দশ্যমান। সেই থেকে হিরণ তার পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়ীতে বসবাস করছে। গৌরীপুর বিএনপি‘র রক্ষাকবজ ত্যাগী মধাবী ও নির্যাতিত শহীদ জিয়ার সৈনিক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণের জনপ্রিয়তা নিয়ে কোন প্রশ্ন চলে না।

আওয়ামী ভোট ডাকাতের সময় বিপুল ভোট ব্যবধানে ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এর পর ইউপি চেয়ারম্যান থেকে অব্যহতি নিয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে । আওয়ামীলীগ মনোনীত শক্তিশালী প্রার্থীর সাথে প্রতিদন্ধ্বীতা করে বিপুল ভোট ব্যবধানে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

বর্তমানে যার এক ডাকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন কর্মসূচীত অংশ গ্রহন করে।২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান দেখিয়ে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবালের পক্ষে ধানের শীষের নির্বাচন করে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ৩ নভেম্বর দলীয় প্রাথমিক নমিনি হিসেবে নির্বাহী কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেনের নাম ঘোষণা করে । এতে স্থানীয়  বিএনপি‘র নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বারুদের মত জ্বলে উঠে। সেই থেকে নেতা কর্মী ও সমর্থকরা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে মনোনয়ন পরিবর্তনের জন্য আন্দোলন করছে। নেতা কর্মীদের “দাবী একটাই মনোনয়ন পরিবর্তন চাই, করতে হবে। নেতা মোদের একটাই হিরণ ছাড়া গৌরীপুরে বিএনপি নাই”।

৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালন উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি ৭ দিন ব্যাপি কর্মসূচী ঘোষনা করে। কর্মসূচীর ৩য় দিন সংহতি দিবসের তাৎপর্য ও তারেক রহমান ঘাষিত ৩১ দফা কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য মহিলা সমাবেশের আয়াজন করা হয়।

৯ নভেম্বর বিকালে ধানমহালে মহিলা সমাবেশ চলছিল। প্রাথমিক মনোনয়ন প্রাপ্তির ৭ দিন পর ইকবালের গৌরীপুরে আগমন উপলক্ষে সরকারী কলেজ মাঠে ধানের শীষের সমাবেশর ডাক দেয় ইকবাল সমর্থকরা। ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল ওই দিন তার সন্ত্রাসী বাহিনীসহ গাড়ী বহন নিয়ে গৌরীপুর প্রবেশ করার সময় তার সন্ত্রাসী বাহিনী রাম‘দা, লাঠি ও আগ্নীয়াস্ত্র নিয়ে মহিলা সমাবেশে অতর্কিত হামলা চালিয়ে প্রায় শতাধিক মহিলাকে আহত করে এবং মঞ্চসহ প্রায় ৩ হাজার চেয়ার ভাংচুর করে।

হামলার ঘটনা চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত হয়ে পড়ে গৌরীপুর। হামলার ঘটনার ২/৩ ঘটার মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উপজেলা বিএনপি‘র আহবায়ক আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ, পৌর বিএনপি‘র সদস্য সচিব সুজিত কুমার দাস ও যুগ্ম আহবায়ক মনিরুজ্জামান পলাশসহ ৫ নেতা কর্মীকে দল থেকে বহিস্কার করে। এর পর দিন ১০ নভেম্বর আবারা ময়মনসিংহ উত্তর জেলা ছাত্রদল আরা ১৯ ছাত্রদল নেতাকে বহিস্কার করে। এ যেন আগুন ঘি ঢালার মতো।

আন্দোলন আরো তীব্র হয়ে উঠে মনোনয়ন পরিবর্তন ও বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবীতে রেলপথ, সড়ক, মহাসড়ক অবরোধ, মশাল মিছিলে কম্পিত হতে থাকে গৌরীপুর উপজেলার সর্বত্রই।

উত্তর জেলা যুবদলের সদস্য ও পৌর কাউন্সিলর জিয়া-উর রহমান জিয়া বলেন,১৭ বছর ফ্যাসিষ্টদের নির্যাতনসহ মামলা হামলায় জেল খেটেছি হিরণের ডাকে। এখন দলীয় প্রাথমিক মনোনয়ন নিয়ে ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল উদয় হলো কি ভাব ? এতদিন তিনি কোথায় ছিলেন ? নির্বাচন ব্যতিত ১৭ বছর তিনি ১৭ দিনও গৌরীপুরে আসেনি। তিনি কোন আন্দোলনে অংশ গ্রহন করেনি। উনি নিজ ইউনিয়নের নির্যাতিত বিএনপি’র নেতাদের নাম পর্যন্ত জানেনা। তাহল তিনি কি ভাবে দলের প্রাথমিক মনোনয়ন পেল ? তিনি আরা বলেন, এ আসনে মনোনয়নের ক্ষেত্রে ত্যাগী নেতা-কর্মীদের মূল্যায়ন করেনি, আমাদের প্রতি অবিচার করা হয়েছে।

যদি এ আসনে মনোনয়ন পরিবর্তন করে আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরনকে না দেওয়া হয় তাহলে এ আসনে ধানের শীষ প্রতিক সূচনীয় পরাজয় হবে, যা গৌরীপুরে ইতিহাস হয়ে থাকবে। ৯ নভেম্বর মহিলা সমাবেশে ইকবালের সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা করে মহিলাদের আহত করায় তার পরাজয় নিশ্চীত করলো।

স/বি