বরিশালে নাতীকে হত্যাকারী দাদাকে ভৈরব থেকে আটক
বরিশাল ব্যুরো ॥ বাগানের নারকেল ও লেবু চুরির সন্দেহে নাতি জিসানকে (১৭) ক্রিকেট ব্যাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যাকারী দাদা আবুল কাশেম হাওলাদার (৬৬) কে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার (৯ মে) রাতে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুরে রাজধানীর মালিবাগ সিআইডি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর এসব কথা জানান।
তিনি বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি আবুল কাশেম হাওলাদার হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছেন। জানা গেছে, ২ বছর আগে তার স্ত্রী মারা যান। দুই ছেলের মধ্যে বড় ছেলে নজরুল ইসলাম হাওলাদার প্রায় ১৩ বছর মালয়েশিয়া প্রবাসী। ছোট ছেলে আজিজুল কৃষিকাজ করেন। তিনি ছোট ছেলের সঙ্গেই খাওয়া-দাওয়া করেন।
তবে বড় ছেলে মাঝেমধ্যে তার খরচের জন্য ছোট ছেলের কাছে টাকা পাঠান। ছোট ছেলের বাড়ির পেছনে নারকেল ও লেবু বাগান আছে। ঘটনার দিন গত ২৭ এপ্রিল রাতের আঁধারে কে বা কারা বাগান থেকে নারকেল ও লেবু পেড়ে নিয়ে যায়। পরদিন সকাল বেলা ছোট ছেলে আজিজুলের স্ত্রী আঁখিনুর বেগম (২২) গাছে ফল না দেখে বড় ছেলের বৌ ও তার ছেলে-মেয়েকে সন্দেহ করে গালিগালাজ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় উভয়ের মধ্যে তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়।
এ সময় আজিজুল ও আঁখিনুর বড় ছেলের বৌ জেসমিন ও তার মেয়ে নাজমুন নাহার শিখাকে মারধর করতে শুরু করেন। এ সময় জেসমিন ও নাজমুন নাহারের চিৎকারে ঘর বের হয়ে এসে মা-বোনকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় তার নাতি (বড় ছেলের ছেলে) জিসান (১৭)।
আবুল কাশেম জানান, ঘটনার সময় আজিজুলের সঙ্গে জিসানের তর্কাতর্কি হলে তিনি আজিজুলের পক্ষ নেন এবং উঠানে পড়ে থাকা ক্রিকেট খেলার ব্যাট দিয়ে জিসানের মাথায় আঘাত করেন। এতে জিসান মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
এ সময় প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে বরিশাল শের ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ওই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিসানের মৃত্যু হয়। পরে তারা দ্রুত পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় বাদী হয়ে জিসানের মা জেসমিন বেগম শ্বশুর আবুল কাশেমকে প্রধান আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।
স/এষ্

