ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৭ এপ্রিল ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর

পলি জমে অস্থিতত্ব সংকটে পড়েছে কাটাখালি নদী

এম এম রহমান
এপ্রিল ৭, ২০২২ ২:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পলি জমে অস্থিতত্ব সংকটে পড়েছে কাটাখালি নদী
পথে যোগাযোগ ও কৃষি পণ্য পরিবহনে নদী খননের দাবি

জেলা সদরে পদ্মা, মেঘনা এবং ধলেশ্বরী নদীর সাথে সংযুক্ত ঔতিহ্যবাহী পুরাতন ভ্রমপুত্র (কাটাখালি) নদীটি বছরের পর বছর উজান থেকে আসা পলিজমে অস্থিত্ব সংকটে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্থানীয়রা আরো জানান, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়েও নৌপথে কাটাখালি নদীর উপর দিয়ে ধলেশ্বরী, মেঘনা এবং পদ্মা নদীতে যাতায়াত ছিলো প্রধান মাধ্যম।

জেলা সদর, টঙ্গীবাড়ী উপজেলা এবং পার্শবর্তী ফরিদপুর, শরিয়তপুর এবং চাঁদপুর জেলার মানুষজনও একটা সময়ে কাটাখালি নদীর উপর দিয়ে ধলেশ্বরী নদী পাড়ি দিয়ে ঢাকা- নারায়নগঞ্জ যাতায়াত করিত। কাঠাখালি নদীর সাথে সংযুক্ত শহরের জুবলি খালটি খরাট করে ফেলায় ধলেশ্বরী নদীর সাথে নৌপথে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

কিন্তু নদীটি কাটাখালি হতে রজতরেখা নদী হয়ে এখনও মেঘনা এবং পদ্মা নদীর সাথে সংযুক্ত আছে। নদীটি উজান থেকে আসা পলি জমে হারিয়েছে গভীরতা। বিভিন্ন স্থানে নদীটি চিকন খালে পরিনত হয়েছে। অথচ একটা সময়ে এই নদী দিয়ে লঞ্চ এবং বড় বড় জাহাজ চলাচল করিতো।

বর্তমানে নদীটি কাটাখালি হতে দক্ষিন দিকে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের পাশে থাকা রজতরেখা নদী পর্যন্ত কাটাখালি নদীটিতে নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চলতি আলু উত্তোলন মৌসুমে কৃষকরা ট্রলার দিয়ে তাদের উৎপাদিত আলু মাকহাটি এবং চরডুমুরিয়া বাজারের কোল্ড স্টোরে নিয়ে যেতে পারছেনা।

এতে করে কৃষকরা তাদের জমিতে উৎপাদিত আলু বাড়তি ভাড়া দিয়ে সড়ক পথে আলু পরিবহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। নদীটি খনন করা হলে নদীটিতে নৌযান চলাচল স্বাভাবিক হতো।

জানাগেছে, কাটাখালি নদীটি মুন্সীরহাটবাজারের সামনে থাকা রজতরেখা নদীর সাখে সংযুক্ত হয়ে দক্ষিন দিকে চরকেওয়ার এবং মহাকালি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী স্থান দিয়ে মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের পাশে থাকা রজতরেখা নদীর সাথে মিলিত হয়েছে। প্রায় ১৫ বছর আগেও নদীটি দিয়ে শুকনো মৌসুমে ট্রলার চলাচল করিত।

কিন্তু বর্তমানে পলিজমে নদীটির তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়াতে বর্ষার মৌসুম ছাড়া নদীটি দিয়ে কোন পণ্যবাহী ট্রলার চলাচল করতে পারছেনা। এই নদীটি দিয়ে একটা সময়ে চাঁদপুর, ফরিদপুর, শরিয়তপুর জেলার লোকজন পদ্মা, মেঘনা নদী হয়ে রজতরেখা নদীর উপর দিয়ে কাটাখালি নদীতে আসতো।

এই কাটাখালি নদী দিয়েই মুন্সীগঞ্জ শহরের জুবলী খাল দিয়ে ধলেশ্বরী নদীতে যেতো। বর্তমানে কাঠটাখালি নদীর সাথে সংযুক্ত রজতরেখা নদী দিয়ে চিতলিয়া বাজার হয়ে মেঘনা নদীতে সারাবছর নৌপথে ট্রলার চলাচল স্বাভাবিক আছে। কিন্তু কাটাখালি নদীটি খনন না করায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

নদীটি খনন করা হলে নদীর সাথে সংযুক্ত খালগুলোতে জোয়ার ভাটার আগমন ঘটবে। পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আলু নদী পথে কম খরচে হিমাগারে নিয়ে যেতে পারবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীটি এখন অগভীর খালে পরিনত হয়েছে। নদীর তলদেশে বিভিন্ন জলজ উদ্ধিদ জন্ম নিয়েছে। নদীটির কাটাখালি হতে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণে মহেশপুর গ্রামের পাশে থাকা রজতরেখা নদী মোহনা পর্যন্ত নদীতে নাব্যতা সংকটের সুষ্টি হয়েছে। বেশ কিছু স্থানে নদীতে ঝোপ পেতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।

নদীটিতে জোয়ার ভাটার আগমন ঘটলেও ট্রলার চলাচলের মতো পানি প্রবেশ করছেনা পুরো নদীটিতে। বেশ কিছু স্থানে নদীটি মরা খালের মতো পড়ে আছে। নদীর দুই তীরে থাকা হাজার হাজার একর জমিতে কৃষকরা আলু রোপন করেছেন। আগে কৃষকদেরকে নদীপথে আলু ট্রলারের মাধ্যমে কোল্ড স্টোরে নিয়ে যেতো।

কিন্তু নাব্যতা সংকটের কারনে কৃষকরা ট্রলিতে করে আলুর বস্তা কাটাখালি- মাকহাটি সড়ক এবং চরকেওয়ার এলাকার কৃষকরা হোগলাকান্দি- শেয়ারকান্দি সড়কে নিয়ে যাচ্ছে ট্রলিতে ভরে। কাটাখালি নদীটি এখন যেন মরা খালের রূপে দাঁড়িয়ে আছে।

কৃষক সোলেমান মুন্সী জানান, প্রায় ১০ বছর আগেও শুকনো মৌসুমে কাটাখালি নদীর উপর দিয়ে মালবাহী ট্রলার দিয়ে আলু নিয়ে যেতাম চরডুমুরিয়া এবং মাহকাটি বাজারের কোল্ড স্টোরে। মহাকালি এবং চরকেওয়ার ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক কাটাখালি নদীর দুই তীরে থাকা বিস্তীর্ণ জমিতে আলু রোপন করেন। আগে জমি থেকে আলু সহজে নদীর তীরে এনে ট্রলারে করে মোকামে কিংবা কোল্ড স্টোরে নিয়ে যেতে পারতাম।

এখন আলু ট্রলিতে করে প্রধান সড়কে নিয়ে তারপর মালবাহী পরিবহনে করে আলু কোল্ড স্টোরে নিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে করে কৃষকদের অতিরিক্ত টাকা খরচ হচ্ছে। তিনি আরো জানান, নদীটি যদি সচল থাকতো তাহলে নৌপথে কৃষকরা কম খরচে কোল্ড স্টোরে আলু নিয়ে যেতে পারতো। নদীটি খনন করলে নদীটি পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাবে। তাতে এই নদীর সাথে কৃষি জমির লাইফলাইন খ্যাত খালগুলোতেও শুকনো মৌসুমে জোয়ার ভাটার আগমন ঘটবে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসিব সরকার বলেন, জেলা সদরে থাকা একাধিক খাল ও নদীগুলো খননের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে রিকাবিবাজার খালটি দখল উচ্ছেদ করার পাশাপাশি খনন করে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে খালের সাথে সংযুক্ত নদীগুলোকেও খননের উদ্যোগ নেয়া হবে। কাঠটাখালি নদীটি খননের বিষয়ে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।

স/এষ্