কাজে আসছে না আড়াই কোটি টাকার ব্রিজ
বরিশাল ব্যুরো ॥ সংযোগ সড়ক ছাড়াই ব্রিজ নির্মাণ করে দুই বছর ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার মোয়াজ্জেম হোসেন সিকদার। সরকারের দেওয়া আড়াই কোটি টাকার ব্রিজ কোনই কাজে আসছে না। এতে ভোগান্তিতে পরেছেন আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নসহ ওই সড়কে চলাচলাকারী অন্তত ৩০ হাজার মানুষ। দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে চলাচল উপযোগী করে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
জানা গেছে, ২০২০ সালের জুন মাসে বরগুনা এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী অফিস আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ঘোপখালী খালে ব্রিজ নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে। ২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ব্রিজ নির্মাণের কাজ পায় পটুয়াখালীর কেকে এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
২০২১ সালের জুন মাসে দুই পিলারে ২৪ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৭.৩২ মিটার প্রস্থের ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। মূল ব্রিজ নির্মাণ কাজ শেষ হলেও গত দেড় বছর ধরে ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করে ফেলে রেখেছেন। কার্যাদেশে ব্রিজের দুই প্রান্তে এক শ’ ফুট সংযোগ সড়ক নির্মাণের কথা উল্লেখ রয়েছে।
সংযোগ সড়ক না করেই ঠিকাদার মূল ব্রিজ নির্মাণ বরাদ্দ দুই কোটি টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন। এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ সংযোগ সড়ক নির্মাণের জায়গা না রেখেই ব্রিজের প্ল্যান করা হয়েছে। তারা আরও অভিযোগ করেন ঠিকাদার কার্যাদেশ অনুসারে কাজ না করে ব্রিজ ফেলে রেখেছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, মূল ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ। কিন্তু ব্রিজটি সংযোগ সড়ক বিহীন দাঁড়িয়ে আছে।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সোহেলী পারভীন মালা বলেন, সরকার ব্রিজ নির্মাণ করে মানুষের উপকারার্থে কিন্তু এখন এ ব্রিজ মানুষের কোনো কাজে আসছে না।
পটুয়াখালী কেকে এন্টারপ্রাইজের মালিক ঠিকাদার মোয়াজ্জেম হোসেন সিকদার বলেন, ব্রিজটি কার্যাদেশের চেয়ে উচ্চতায় বেশি নির্মাণ করা হয়েছে।
তাই সংযোগ সড়কের স্লোপ নির্মাণ করতে সমস্যা হচ্ছে। তারপরও অল্পদিনের মধ্যেই সংযোগ সড়ক নির্মাণ কাজ শুরু করব। আমতলী উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী (এসও) নিজাম উদ্দিন বলেন, ঠিদাকার মূল ব্রিজ নির্মাণ শেষে দুই কোটি টাকা বিল নিয়েছেন।
কিন্তু সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছেও না বিলও নিচ্ছে না। কাজ না করে দীর্ঘদিন ফেলে রেখেছেন। বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী সুপ্রীয় মুখার্জি বলেন, সরেজমিন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স/এষ্

