ইবি প্রতিনিধি: দলীয় কর্মীকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র ইসলামী বিশ্ব বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের দু’ গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় উভয় গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, গোলাগুলি ও ককটেল বিস্ফোরণে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
এ ঘটনায় আহত হয়েছেন উভয় পক্ষের সাত থেকে আটজন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত তিনজনকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের বিশ্ব বিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিসা দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রোববার ( ২৫ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ^বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে ৩০-৩৫ জন নেতাকর্মী সাদ্দাম হোসেন হলের ২৩৫ নম্বর রুমে যান। এসময় ছাত্রলীগের এক গ্রুপের কর্মী মোশাররফ হোসেন নীলের রুমের দরজায় সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের কর্মীরা লাথি মারতে থাকে।
পরে নীল রুম থেকে বেরিয়ে আসেন। এসময় সাধারণ সম্পাদক রাকিব ও শিমুলের মধ্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে সাধারণ গ্রুপের কর্মীরা নীল ও শিমুলকে মারধর করে।
নীল একপর্যায়ে হল থেকে বেরিয়ে তার গ্রুপের নেতাকর্মীদের জানালে জিয়া মোড়ে দু গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি হয়। হাতাহাতির এক পর্যায়ে সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব, সুমনসহ অন্যরা জিয়া মোড় থেকে পালিয়ে যায়।
এর জের ধরে রাত ১২টার দিকে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা বঙ্গবন্ধু হলের সামনে অবস্থান নিয়ে মিছিল করতে থাকে। অপরদিকে ছাত্রলীগের শাখা সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা জিয়া মোড়ে অবস্থান নেন।
এসময় উভয় গ্রুপের কর্মীরা দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে পরস্পরের দিকে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে শেখ রাসেল হলের সামনে এসে উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
তখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গ্রুপের নেতাকর্মীরা অন্য গ্রুপের ধাওয়া খেয়ে আবাসিক হলগুলোর ভিতরে গিয়ে কলাপসিবল গেট আটকে দেন। ঘটনার এক পর্যায়ে জিয়া মোড়, লালন শাহ হল ও জিয়া হলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলে বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন ও সহকারী প্রক্টর এস এম নাসিমুজ্জামান ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সাথে কথা বলেন। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ব বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ ঘটনাটি একেবারেই অনাকাঙ্খিত। এটাকে পুঁজি করে কিছু অছাত্র ও বহিরাগত ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশকে নষ্ট করার পায়তারা চালাচ্ছে। আমরা সাংগঠনিকভাবে এর ব্যবস্থা নেবো।’
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের একাংশের নেতা তন্ময় শাহা টনি বলেন, ‘ শোকের মাসে খাবার খাওয়ার সময় সাধারণ সম্পাদকগ্রুপের কর্মীরা আমাদের দুই কর্মীকে মারধর করে। পরবর্তীতে আমরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।’
বিশ্ব বিদ্যালয় ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. পরেশ চন্দ্র বর্মন বলেন,‘ গতকাল রাতে ঘটনাস্থলে থেকে আমি ছাত্রলীগের উভয় পক্ষের নেতাদের কথা বলেছি। সবাই এখন নিজ নিজ হলে অবস্থান করছে।’
স/এন

