ঢাকামঙ্গলবার , ২৯ জুলাই ২০২৫
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

আঁশটে গন্ধের পিশাচ

admin
জুলাই ২৯, ২০২৫ ৯:০৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আঁশটে গন্ধের পিশাচ

— রাহুল রাজ

বাওড়ের বাতাসে তখনো আঁশটে গন্ধের সঙ্গে মিশে আছে পচা পাটের এক তীব্র ঝাঁজ। শ্রাবণের ভরা বর্ষা। সিন্দ্রানির বাওড়ের জল এখন নিকষ কালো। মধ্যরাত পেরিয়ে গেলে অশোক বাগদি গায়ে সর্ষের তেল মেখে বেরিয়ে পড়েছিল। বয়স তার ৫০ এর কাছাকাছি, পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও বাওড়ের জলে জাল ফেলার নেশাটা তার রক্তে। উত্তর পাড়ের কলাবাগানের সারিবদ্ধ গাছগুলোকে রাতের অন্ধকারে দূর থেকে হঠাৎ দেখলে মনে হয় যেন কারা কালো চাদর গায়ে পেঁচিয়ে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে।

সে রাতে সিন্দ্রানির মৎস্য অফিসের পাশে ছোট ছোট নৌকার দল যখন বাওড়ের বুকে ছড়ালো, বাওড়টা তখন একদম নিঝুম। মাঝরাতের পর আচমকা আবহাওয়া বদলে গেল। উত্তর পাড়ের কলাবাগান পেরিয়ে বাওড়ের বুকে বাতাস শুরু হলো। সেই বাতাসে ভেসে এলো ঘন মাছের আঁশটে গন্ধ। জাল টানতে টানতে অশোক যখন নৌকার এককোণে এলো, তখনই মাঝ-বাওড় থেকে ভেসে এলো একটা জল কাটার শব্দ।

অশোকের মনে হতে লাগল কেউ একজন জলের অতল থেকে সাঁতরে তার নৌকার দিকে উঠে আসছে। কচুরিপানার ভেতর থেকে নাম না জানা অনেক পাখির তীক্ষ্ণ ডাক চিরে দিল রাতের নিস্তব্ধতা।

তখনই অশোকের মনে হলো, জলের ভেতর থেকে কে যেন তার নৌকাটা সজোরে চেপে ধরেছে। কোনো বড় মাছ নয়, কচুরিপানার জট ঠেলে জলের নিচ থেকে দুটো অমানুষিক লাল চোখ ঠিকরে বেরোচ্ছে। অশোক মুহূর্তের মধ্যে নিজের বোধবুদ্ধি হারিয়ে ফেলল। জল থেকে একটা অশরীরী মূর্তি উঠে এসে তার ঘাড়ের কাছে পাক খেতে লাগল। মুহূর্তের মধ্যে অশোকের হাত-পা অবশ হয়ে এলো, চোখ দুটো উল্টে গেল। কোনো এক অতৃপ্ত পিশাচ বাওড়ের নিকষ কালো জল থেকে উঠে সওয়ার হলো তার ওপর। অশোকের পুরো শরীরটা কয়েকবার পৈশাচিক যন্ত্রণায় বাঁকিয়ে গেল। তীব্র যন্ত্রণায় নিজের নখ দিয়ে নিজের শরীর কয়েকবার আঁচড়ে রক্তাক্ত করল সে। বাওড়ের ওপর অশোকের নৌকাটা কয়েকবার ভয়ানক দাপাদাপি করে হঠাৎ শান্ত হয়ে গেল। কিছুক্ষণ পরে যখন অশোক চোখ খুলল, তার চোখে তখন আর মানুষের দৃষ্টি ছিল না। লাল নেশা ধরা চোখ মেলে ধীরে ধীরে উঠে বসল সে। তারপর তার মুখ দিয়ে ফেটে বেরোল এক বীভৎস পৈশাচিক হাসি—অশরীরী থেকে শরীর পাওয়ার পর অতৃপ্ত পিশাচের পরম তৃপ্তির হাসি!

ভোরবেলা যখন সাদা বকের পাল ডানা মেলে উড়ে নিজেদের অস্তিত্বের প্রমাণ দিল, তখন অন্য জেলেরাও তীরে ফিরেছে। সারারাতের ধরা মাছগুলো নিয়ে ভোরে পাড়ে ফিরল তারা। অশোকও ফিরেছে, কিন্তু তার চাহনি আর অবয়ব একদম বদলে গেছে। তার মুখের চামড়া যেন শুকিয়ে হাড়ের সঙ্গে সেটে গেছে, কপালে আর গালে ফুটে উঠেছে কালচে নীল শিরা। গাল বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে বাওড়ের কালচে জল আর চাপ চাপ রক্ত। নৌকার পাটাতনে হরেক রকমের ছোট-বড় মাছ দেখতে ভিড় করল গ্রামের কৌতূলীরা। বাজারের তুলনায় দাম কম পাওয়ায় অনেকেই এখান থেকে মাছ কিনতে আগ্রহ দেখাল।

নৌকার পাটাতনে হরেক রকমের ছোট-বড় মাছ খাবি খাচ্ছিল। জলের চেনা পরিবেশ ছেড়ে ডাঙার অপরিচিত পরিবেশে এসে স্বচ্ছ কাচের গুলির মত মাছের চোখগুলো হতবাক হয়ে তাকিয়ে ছিল পাড়ের কৌতূহলী চোখগুলোর দিকে। মাছ দেখতে আসা মানুষগুলোর চোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল খানিকক্ষণ আগেই বিছানা ছেড়ে হাজির হয়েছে বাওড়ের পাড়ে। অনেকের তখনো চোখে-মুখে ঘুম জড়ানো। ঝাঁকি ঝাঁকি মাছগুলো যখন নৌকা থেকে নেমে জেলেদের মাথায় চড়ে বড় পাল্লার কাছে এল, তখন কৌতূহলী মানুষের সাদা-কালো চোখ অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল সদ্য জল থেকে তুলে আনা মাছের দিকে। মাছগুলো তখনো খাবি খাচ্ছিল একটু জলের প্রত্যাশায়, পুরো শরীর এঁকেবেঁকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল জীবনের শেষ পর্যন্ত।

অশোক কারো সঙ্গে কথা না বলে একঝাঁকি হরেক রকম মাছ মাথায় তুলে নিয়ে সোজা বাড়ির পথ ধরল। তার চোখের মণি দুটো সাদা-কালো স্থির, কাচের মতো নিষ্প্রাণ। বাড়ি ফেরার পথে বাওড়ের দিক থেকে আসা বাতাসে আঁশটে গন্ধ ভেসে আসছিল, আর অশোক পরম তৃপ্তিতে গভীর শ্বাস টেনে সেই পচা আঁশটে গন্ধ বুক ভরে নিচ্ছিল। তখনো তার ঠোঁটে আর থুতনিতে লেগেছিল মরা মাছের রূপালী আঁশ।

বাড়িতে এসে মাছগুলো দাওয়ায় রাখতেই অশোকের বউ সুমি তা লক্ষ করল। সুমি এও লক্ষ করল, অশোক একদম চুপচাপ, চোখ দুটো রক্তজবার মতো লাল। প্রতিবার বাওড় থেকে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার পর অশোক গা থেকে আঁশটে গন্ধ তাড়াতে সোজা স্নানের ঘরে যেত, আজ তার সে তাড়া নেই। অন্যদিন কাজ সেরে এসে গায়ে জমানো ক্লান্তি কাটাতে বিড়ি বা আগুন ধরাত, আজ সেটাও করল না; শুধু শূন্য দৃষ্টিতে এককোণে বসে রইল। সুমি যখন রান্নাঘরে বাসনের কাজে ব্যস্ত, তখন আড়ালে ঘটে গেল সেই বীভৎস ঘটনা।

ঘরের স্যাঁতসেঁতে আঁধার ঘেঁষে বসে অশোক একটা তাজা কাঁচা মাছ হাতে নিয়ে খামচে কাঁচাই কামড় বসাল! কাঁচা মাছের জমা রক্ত আর আঁশ তার মুখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে, আর সে এক অদ্ভুত পৈশাচিক শান্তিতে কাঁচা মাংস চিবিয়ে গিলে খাচ্ছে। সুমি ঘরের দরজার ফাঁক দিয়ে দৃশ্যটা দেখে ভয়ে শিউরে উঠল। তার হাত থেকে পিতলের থালাটা সশব্দে পড়ে গেল। জেলের ঘরের মেয়ে সে, বুঝতে বাকি থাকল না যে অশোকের এই রূপান্তরের পেছনে কোনো সাধারণ ব্যাধি নেই। সিন্দ্রানির বাওড়ের জল থেকে উঠে আসা কোনো রক্তপিপাসু পিশাচ তার স্বামীর রক্তমাংসের শরীরে আস্তানা গেড়েছে। ভয়ে সুমির বুকের ভিতরটা হিম হয়ে এলো, রক্ত জল হয়ে যাওয়ার জোগাড়। তবুও সাহস সঞ্চয় করে সে আর এক মুহূর্ত দেরি না করে ছুটল গ্রামের বুড়ো ওঝা রামকানাইয়ের খোঁজে।

রাতদুপুর আসতেই অশোকের উপদ্রব মাত্রা ছাড়াল। অমাবস্যার নিকষ কালো রাত, বাইরে ঝমঝমিয়ে শ্রাবণের বৃষ্টি। ঘরের কোণে একটা টিমটিমে লণ্ঠন জ্বলছিল, সেটাও বারবার নীলচে হয়ে নিভে যাওয়ার উপক্রম করছে। রামকানাই ওঝা ঘরে ঢুকতেই ঘরের তাপমাত্রা হঠাৎ যেন শূন্যে নেমে গেল। চালের ওপর দিয়ে কী যেন ভারী একটা জিনিস খসখস করে হেঁটে গেল।

অশোকের ভয়ংকর চিৎকার আর ঘর থেকে ভেসে আসা অপার্থিব গোঙানির শব্দে গ্রামের মানুষ ততক্ষণে লাঠিসোটা আর মশাল হাতে দাপাদাপি করে জড়ো হয়েছে তার বাড়ির উঠানে। কিন্তু কারো ভেতরে ঢোকার সাহস নেই; সবার চোখে-মুখে হিম-শীতল আতঙ্ক, কপালে ঘামের ফোঁটা। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে একে অপরের গায়ে লেপ্টে কাঁপছিল তারা। রামকানাই ওঝা গম্ভীর কণ্ঠে হাঁক দিলেন, “সবাই উঠানের সীমানা ছাড়িয়ে গণ্ডির বাইরে যা! কেউ যেন গণ্ডি টপকাবি না! আর যেসব বউ-মেয়েদের চুল খোলা, জলদি চুল বেঁধে নে! খোলা চুলে প্রেতের নজর পড়লে রক্ষা থাকবে না!”

রামকানাইয়ের কথায় ভয় দ্বিগুণ হয়ে চেপে বসল গ্রামবাসীদের ওপর। মহিলারা হুড়োহুড়ি করে মাথার খোলা চুল শক্ত করে খোঁপা বাঁধতে লাগল, আর পুরুষেরা থরথর করে কাঁপতে কাঁপতে পিছিয়ে গেল সুপারি গাছের সারির ওপারে। গোটা উঠান জুড়ে তখন এক মৃত্যুর মতো স্তব্ধতা আর আতঙ্কের ছায়া।

রামকানাই মেঝের ওপর কাঁচা সিঁদুর আর শ্মশানের ছাই দিয়ে বড় একটা চক্র আঁকল। ঘরের চারকোণে ফুটন্ত সর্ষেপোড়া ছড়াতেই অশোকের শরীরটা আক্ষরিক অর্থেই শূন্যে উঠে বাঁকা হয়ে গেল! তার ঘাড়ের হাড়গুলো ‘মটমট’ শব্দে মচকে অমানুষিক কোণে ঘুরে গেল। লণ্ঠনের আলোয় দেখা গেল অশোকের ছায়াটা দেয়ালের ওপর যেন কোনো বিশাল ডানাওয়ালা জলদানবের রূপ নিয়েছে!

রামকানাই সিদ্ধ সিঁদুর আর নিমপাতা অশোকের কপালে চেপে ধরতেই তার মুখ দিয়ে ভেসে এলো গুমোট, অমানুষিক হুঙ্কার। সেই গলার আওয়াজ অশোকের নয়, মনে হলো বাওড়ের অতল তলা থেকে কোনো শ্যাওলা-ঢাকা প্রেতাত্মা গর্জন করছে— “কতকাল কাঁচা মাছের রক্ত খাইনি রে! বাওড়ের জল আমাকে ছাড়েনি, আমি ওকেও ছাড়বো না… ওর শরীরে আমি থেকে কাঁচা মাছ খাবো!”

অশোকের মুখ দিয়ে অনবরত পচা বাওড়ের জল আর মাছের আঁশ বমি হয়ে বেরোতে লাগল। ঘরের বাতাসে পচা পাট আর বিষাক্ত আঁশটে গন্ধ এত তীব্র হলো যে সুমির নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে আসছিল।

রামকানাই হাতের তামা কাটার চাবুক দিয়ে মেঝেবন্ধন আঘাত করতে করতে কামাখ্যার মারণ-উচ্চারণে জোর দিল। অশোকের চোখ দুটো সম্পূর্ণ উল্টে গিয়ে শুধুই সাদা অংশ বেরিয়ে এল, আর সে ছাদের কড়িকাঠ ধরে ঝুলে পড়ার চেষ্টা করল।

অবশেষে, একটানা দুই প্রহর পৈশাচিক লড়াইয়ের পর রামকানাই অশোকের কপালে শেষ সর্ষেপোড়ার দাগ দিতেই একটা বিকট হা-হুঙ্কার দিয়ে অশোকের মুখ থেকে একদলা কালো ধোঁয়ার মতো বাতাস বেরিয়ে গেল। ঘরের লণ্ঠনের কাঁচটা পট করে ফেটে গেল। ধোঁয়া আর ধুনোর ঝাঁঝালো গন্ধে ঘর ভরে গেল। অশোক শেষমেশ জ্ঞান হারিয়ে নিথর হয়ে লুটিয়ে পড়ল মাটিতে।

ভোরবেলা অশোকের জ্ঞান ফিরল, কিন্তু সে সম্পূর্ণ নিঃশেষিত। ভূত ছেড়েছে বটে, তবে ওঝা রামকানাই গম্ভীর মুখে সুমিকে সতর্ক করে বলল, “এটা সাধারণ অপদেবতা নয় সুমি। এ সিন্দ্রানির বাওড়ের অতল জলের অলক্ষ্মী প্রেত। ও সহজে গ্রাম ছাড়বে না। মনে রাখিস, এর শক্তি সবচেয়ে বেশি বাওড়ের ওপর ভরদুপুরে আর রাতদুপুরে। বাওড়ের জল থেকে সবাইকে দূরে থাকতে বলিস।”

কিন্তু সিন্দ্রানি গ্রামের ভাগ্যে শঙ্কা তখনো কাটেনি।

পরদিন ঠিক ভরদুপুর। সূর্য তখন মাথার ওপর ফুটছে, অথচ চারদিক খাঁ খাঁ করছে এক নিস্তব্ধ, ছমছমে অতল আতঙ্কে। বাওড়ের পাড়ে বাতাসে একটা পাতাও নড়ছে না, রোদের তাপে কালো জলটা যেন গলানো কাচের মতো স্থির। গ্রামের হারান মাঝি তখনো পাড়ে দাঁড়িয়ে শুকানো জালে গিট দিচ্ছিল। হঠাৎ বাওড়ের উত্তর পাড়ের কলাবাগান থেকে ভেসে এলো পচা পাট আর ঘন রক্তের এক দমবন্ধ করা পৈশাচিক আঁশটে গন্ধ।

হারান চমকে উঠে বাওড়ের দিকে তাকাতেই তার শরীরের লোম দাঁড়িয়ে গেল। বাওড়ের মাঝখানের তপ্ত, নিচ্ছিদ্র জল চিরে উঠে আসছে দু’টো রক্তবর্ণ অমানুষিক চোখ! জল কেটে ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসছে শ্যাওলা-ঢাকা, গলিত ছাল-চামড়া ওঠা একটা নীলচে হাত। হাতটা হাতছানি দিয়ে আকুলভাবে হারানকে ডাকছে।

হারানের শরীর মুহূর্তের মধ্যে পাথর হয়ে গেল। তার চোখের মণি দুটো ঘোর লাগা সাদা কাচের মতো স্থির হয়ে গেল, মাথার ভেতর শুরু হলো পচা বাওড়ের জলের গমগম আওয়াজ। নিজের হাতের গামছাটা পাড়ে ফেলে দিয়ে, একদম নিঃশব্দে সে পা বাড়ালো বাওড়ের দিকে। যেন কোনো এক অদৃশ্য সুতো তাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে মৃত্যুর গহ্বরে।

হাঁটু জল… কোমর জল… বুকে জল… হারান এগোতে লাগল। বাওড়ের কাদার ভেতর থেকে তখন ভেসে আসছে পচা হাড় মচকানোর বীভৎস শব্দ!

ঠিক সেই মুহূর্তে, তপ্ত দুপুরে স্তব্ধ কলাবাগানের ছায়া থেকে একটা ভয়াবহ, কানফাটা অট্টহাসি বাতাসে আছড়ে পড়ল। সে হাসিতে মানুষের কোনো স্বর ছিল না, ছিল শত শত বছরের ভূতুড়ে পিশাচের উল্লাস!

রামকানাই ওঝার মন্ত্র অশোককে মুক্ত করেছে সত্য, কিন্তু সিন্দ্রানির বাওড় মুক্ত হয়নি। ভরদুপুরের প্রখর রোদে কাঁচা মাছ আর রক্তের স্বাদ নিতে আঁশটে গন্ধের পিশাচ এখন নতুন শরীরে পুরোদমে জেগে উঠেছে… আর তার তৃষ্ণা কখনো মেটার নয়! সুযোগ বুঝে শুধু শরীর পাল্টে প্রবেশ করে নতুন শরীরে।