দূর্বার বাংলাদেশের সামনে লড়াকু জিম্বাবুয়ে
রাহুল রাজ ।। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ হওয়ায় ফেভারিট বাংলাদেশ। তাই টেস্ট সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে টাইগাররা। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের মাঠে নিজেদের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে জিম্বাবুয়ে। তবে পরিসংখ্যান বলছে, বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরজ সব সময় বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে আসছে। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত টেস্টে ১৮বার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ৮বার, জিম্বাবুয়ের জয় আছে ৭বার।
বাকি তিনটি ম্যাচ ড্র হয়। ঘরের মাঠে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয়ের দিক দিয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ। ১০ ম্যাচের মধ্যে বাংলাদেশের জয় ৬টিতে ও হার ২টিতে। ম্যাচ ড্র হয়েছে ২টি। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ তিন টেস্টের সবগুলোতেই জিতেছে বাংলাদেশ। ২০১১ সালের জুলাইয়ে হারারেতে সর্বশেষ লড়াইয়ে জিম্বাবুয়েকে ২২০ রানে হারিয়েছিল টাইগাররা। বর্তমান বাংলাদেশ দল ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং তিন বিভাগেই প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে চাপ সৃষ্টির জন্য মুখিয়ে আছে।
নাহিদ রানার গতির সঙ্গে তাইজুলের ঘূর্ণিতে অতিথিদের বেশ কড়া পরিক্ষা দিতে হবে বাংলার মাটিতে। টাইগার ব্যাটসম্যানেরা নিজেদের ফর্মের সদব্যবহার করতে পারলে স্কোর বোর্ডে যোগ হবে বড় স্কোর। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক ব্রেন্ডন টেইলর। ২৪ ইনিংসে ৫ সেঞ্চুরি ও ৪ হাফ-সেঞ্চুরিতে ১২৩৯ রান করেছেন টেইলর। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৮৩ রান করেছেন জিম্বাবুয়ের হ্যামিল্টন মাসাকাদজা। ২০ ইনিংসে ৩টি শতক ও ৪টি অর্ধশতকে ৮৮৩ রান করেছেন মাসাকাদজা।
পরের স্থানে আছেন বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম। ১৮ ইনিংসে ২টি সেঞ্চুরি ও ৩টি হাফ-সেঞ্চুরিতে ৮৫৭ রান করেছেন মুশি। এই সিরিজে মাদাকাদজাকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে ওঠার সুযোগ আছে মুশফিকের। এজন্য টেস্ট সিরিজে ২৭ রান প্রয়োজন মুশফিকের। সর্বোচ্চ রানের তালিকায় পরের তিনটি স্থানেই আছেন বাংলাদেশের মোমিনুল হক, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও হাবিবুল বাশার। মোমিনুল ১৪ ইনিংসে ৭৫৭ রান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ১৫ ইনিংসে ৬১৫ রান এবং হাবিবুল ১৫ ইনিংসে ৫৭৮ রান করেছেন। সর্বোচ্চ দলীয় রান রয়েছে বাংলাদেশের।
২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিরপুরে ৬ উইকেটে ৫৬০ রানে ইনিংস ঘোষণা করেছিল টাইগাররা। দলীয় সর্বনিম্ন রানের ইনিংস বাংলাদেশের। ২০০১ সালের নভেম্বরে ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে ১০৭ রানে অলআউট হয়েছিল টাইগাররা। দ্বিতীয় সর্বনিম্ন ১১৪ রানে অলআউট হয় জিম্বাবুয়ে। ২০১৪ সালের অক্টোবরে মিরপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল ঐ টেস্টটি। বোলিংয়ে সবচেয়ে বেশী উইকেট শিকার করেছেন বাংলাদেশের বাঁ-হাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম। ১২ ইনিংসে ৪১ উইকেট নিয়েছেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করেছেন অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। ১৪ ইনিংসে ৩১ উইকেট নিয়েছেন এই বাঁ-হাতি স্পিনার। এরপর আছেন জিম্বাবুয়ের পেসার কাইল জার্ভিস। ১০ ইনিংসে জার্ভিসের শিকার ২৪টি।
৬ ইনিংসে ২১ উইকেট নিয়ে তালিকার চতুর্থস্থানে আছেন বাংলাদেশের আরেক বাঁ-হাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র। ২০টি করে উইকেট শিকার করেছেন জিম্বাবুয়ের সাবেক অধিনায়ক হিথ স্ট্রিক এবং বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ। বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট সিরিজে এখন পর্যন্ত ম্যাচে দশ বা তার অধিক উইকেট নিয়েছেন তিনজন বোলার। সেই তিনজনই বাংলাদেশি বোলার। এমনকি তিনজনই স্পিনার। ২০০৫ সালে ঢাকা টেস্টে এনামুল হক জুনিয়র ১২ উইকেট, ২০১০ সালে খুলনায় সাকিব আল হাসান ১০ উইকেট এবং ২০১৮ সালে সিলেটে তাইজুল ইসলাম ম্যাচে ১১ উইকেট নিয়েছেন।
পরিসংখ্যান নয় দিন শেষে যারা ভালো খেলবে তারাই শেষ হাসি হাসবে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে অধিনায় শান্ত জানান, ‘আমার মনে হয় প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। ফ্যাসিলিটিজ অনুযায়ী উইকেটগুলো বেটার ছিল, আমার মনে হয়। মোটামুটি আমরা যেরকম উইকেটে অনুশীলন করতে চেয়েছি যে ধরনের ফ্যাসিলিটিজ গুলো আমরা পেয়েছি। যারা মাঠের দায়িত্বে আছে তাদেরকে অবশ্যই ধন্যবাদ দিতে হয়। আমি আশা করব ম্যাচেও এ ধরনের উইকেট আমরা পাব। প্রস্তুুতি আলহামদুলিল্লাহ সবাই খুব ভালো প্রস্তুতি নিতে পেরেছে।’ বাংলাদেশ প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ের উপর নিজেদের সেরাটা দিতে পারবে কি না তার উত্তর সময়ের কাছে তোলা থাকলো।
স/এস।

