সোনাইমুড়ির কৃতি সন্তান নজির আহমেদের ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ
নিজস্ব প্রতিবেদক : নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার কৃতি সন্তান নজির আহমেদ( ৮২) এর ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। পারিবারিক উদ্যোগে এ উপলক্ষ্যে কোরান খতম ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি, এতিমদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
২০১৭ সালের (৩১ অক্টোবর) বিকেল ৪ টা ২০ মিনিটে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ইদিমা (শরীরে পানি আসা) রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নজির আহমেদ দীর্ঘ ২৫ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে মৃত্যুবরণ করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তার গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী গ্রামের নিজ বাড়িতে ৪র্থ মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে মরহুমের স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম, ৩ মেয়ে, তাদের জামাই, ছোট ২ ছেলে ও তাদের স্ত্রী, নাতি-নাতনিসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন অংশগ্রহণ করেন।
পাশাপাশি, ঢাকায় বসবাসরত মরহুম নজির আহমেদের মেজো ছেলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তামাক বিরোধী বিভাগের নির্বাহী অফিসার আমিনুল ইসলাম সুজনের মুহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেডের নিজস্ব বাসভবনে কুলখানির আয়োজন করা হয়। বড় ছেলে দৈনিক আমাদের নতুন সময়ের সাংবাদিক আব্দুল কাদের সাইফুলের তেজগাঁও কর্মস্থল সংলগ্ন জামে মসজিদে দোয়ার আয়োজন করেন।
জানা যায়, উক্ত অনুষ্ঠানে তাদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাক্ষী ও মরহুমের গুণগ্রাহী উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষ্যে মরহুমের মেজো ছেলের বাসার নিকটবর্তী আশরাফ উদ্দিন জামে মসজিদ মসজিদ ও এতিমখানায় দোয়ার আয়োজন করেন।
১৯৩৬ সালের জুন মাসে মরহুম নজির আহমেদ এক মুসলিম সম্ভ্রান্ত পরিবারে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। জন্মের কয়েক বছর পর তিনি তার বাবা-মাকে হারান। তারপর বড় বোনের আশ্রয়ে থেকে অনেক সংগ্রাম করে তিনি প্রতিষ্ঠিত হন। ১ বোন ৬ ভাইয়ের মধ্যে নজির আহমদ ছিলেন ৬ষ্ঠ, অর্থাৎ, ভাইদের মধ্যে ৫ম অবস্থানে ছিলেন।
মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে উপস্থিত ছিলেন স্ত্রী শামসুন্নাহার বেগম ও নাতি হাসান আহমেদ। ২৫ দিন বিভিন্ন সময়ে মরহুম নজির আহমেদের সেবা-যত্নে নিয়োজিত ছিলেন। তার বড়, মেজো, সেজো ছেলে, বড় ছেলের বউ, মেজো ছেলের বউ, ছোট মেয়ে, নাতি ও মরহুমের আত্মীয়-স্বজন।
ছোট ছেলে অহিদুল ইসলাম দুবাই থাকার কারণে তার বাবার মৃত্যুর সময় উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে, মুঠোফোনে বাবার মৃত্যুর খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ভিডিও কলের মাধ্যমে দুবাই থেকে দোয়াই অংশগ্রহণ করেন। এ সময় মুঠোফোনে অনেকেই খোঁজখবর নেন এবং শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানান।
আরও জানা যায়, মৃত্যুর ঠিক আগ মুহূর্তে তার কাছে উপস্থিত ছিলেন মরহুম নজির আহমেদের সহধর্মিণী ও তার বড় মেয়ের ছেলে। নাতি হাসান মুঠোফোনে সবাইকে মৃত্যুর খবর জানালে সন্তানসহ সবাই হাসপাতালে ছুটে আসেন। মৃত্যুকালে ৪ ছেলে, ৩ মেয়ে, অসংখ্য নাতি-নাতনি, আত্মীয় স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষী রেখে গেছেন।
নজির আহমেদ ছোটবেলা থেকেই বেশ শান্ত প্রকৃতির ছিলেন। তিনি ছিলেন প্রচন্ড ধর্মানুরাগী। দিনের অধিকাংশ সময়ে তিনি ধর্মচর্চায় সময় ব্যয় করতেন। ধর্মানুরাগী হওয়ায় মাঝেমধ্যে খাওয়া দাওয়ার প্রতি উদাসীন ছিলেন। তার উদ্যোগে বাড়ির সামনে সম্মিলিতভাবে একটি পারিবারিক মসজিদ নির্মাণ করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি এ মসজিদের খাদেম হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।
মরহুমের মেজো ছেলে আমিনুল ইসলাম সুজন বলেন , অসুস্থ হওয়ার আগ পর্যন্ত আব্বা এ মসজিদে মুয়াজ্জিন ও খাদেম ( বিনাবেতনে) হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর যাবত বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডে গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সে সুবাদে বাংলাদেশের রংপুর, দিনাজপুর, নোয়াখালীতে কর্মরত ছিলেন। ঢাকায় দীর্ঘদিন চাকরি করে অবসর গ্রহণ করেন। আমার আব্বা চাকরিরত অবস্থায়ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছেন। দীর্ঘ চাকরি জীবনে তিনি কোন অন্যায়ের সাথে আপোষ করেননি। এজন্য, তিনি অনেকের রোষানলে পড়েন। অবসর গ্রহণ করে আব্বা তবলিগ ও আল্লাহর পথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ব্যয় করেন।
তিনি বলেন, আমরা ৪ ভাই ৩ বোন। বড় ভাই সাংবাদিকতা ও ঔষধের ব্যবসায় জড়িত। আমি সরকারি চাকুরীজীবি। সেজো ও ছোট ভাই গ্রামে পারিবারিক ব্যবসায় জড়িত। বড় বোন, মেজো বোন ও ছোট বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। তারা এখন স্বামী সন্তান নিয়ে সুখে আছেন।
দৈনিক আমাদের নতুন সময় পরিবার আবদুল কাদের সাইফুলের পিতার কুলখানিতে শোক প্রকাশ করেন। এমনকি, তার শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সমবেদনা জানায়।
স/অ

