কাজ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না দীপঙ্করের, কপোতাক্ষ নদীতে পড়ে নিখোঁজ
ইমদাদুল হক,পাইকগাছা (খুলনা) ।। দিনভর কপিলমুনি বাজারের তীব্র গরম আর ভারী মালামাল বহনের ক্লান্তি শেষে প্রতিরাতের মতোই বাড়ি ফিরছিলেন ৩৫ বছরের খেটে খাওয়া যুবক দীপঙ্কর মন্ডল। মা-বাবা আর পরিবারের জন্য দুমুঠো অন্নের জোগান দিতে শরীর নিংড়ানো হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে আর বাড়ি ফেরা হলো না তাঁর। এক বুক ক্লান্তি নিয়ে কপোতাক্ষ নদীর ঘাটে হাত-পা ধুতে নেমেছিলেন একটু স্বস্তির আশায় কিন্তু সেই কপোতাক্ষই গ্রাস করে নিল তাঁকে।
রবিবার সন্ধ্যা আনুমানিক পৌনে ৭টার দিকে খুলনার পাইকগাছা উপজেলার ০৮নং রাড়ুলী ইউনিয়নের পশ্চিম পাড়া কপোতাক্ষ নদীর স্টিমার ঘাটে এই মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজ দীপঙ্কর মন্ডল রাড়ুলী পশ্চিম পাড়া গ্রামের দুলাল মন্ডলের ছেলে। তিনি পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন হাটে-বাজারে মালামাল ওঠানো-নামানোর ঘাটশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।
পারিবারিক ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, রবিবার সারাদিন ০২নং কপিলমুনি বাজারে শ্রমিকের কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন দীপঙ্কর। বাড়ির কাছাকাছি রাড়ুলী পশ্চিম পাড়া স্টিমার ঘাটে পৌঁছালে ধুলোবালি মাখা শরীর আর হাত-পা ধোয়ার জন্য তিনি নদীর ধারে নামেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত পা পিছলে কপোতাক্ষ নদীর তীব্র স্রোতের মধ্যে পড়ে যান তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই নদীর অতল গহ্বরে তলিয়ে যান।
দীপঙ্করের তলিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কপোতাক্ষের পাড়ে আছড়ে পড়ছে স্বজনদের কান্না আর আহাজারি। ঘটনার পর পরই নিখোঁজের পরিবার ও স্থানীয় শত শত জনসাধারণ নদীতে নেমে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। তবে নদী উত্তাল এবং তীব্র স্রোত থাকার কারণে রাত ৯টা পর্যন্ত তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি। স্থানীয়দের উদ্যোগে নদীতে তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।

