বসুন্দিয়ায় পারিবারিক বিরোধ মেটানোর নামে নারীকে মেহগনি বাগানে ধর্ষণ, অভিযুক্ত আটক
সাঈদ ইবনে হানিফ, যশোর ।। যশোরের বসুন্দিয়ায় পারিবারিক গোলযোগের মীমাংসা ও বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে এক অসহায় নারীকে গভীর রাতে মেহগনি বাগানে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই নারী বাদী হয়ে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ধর্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে (৪২) আটক করেছে। ধৃত মামুন বসুন্দিয়ার গাইদগাছি গ্রামের মাজেদ মোল্যার ছেলে এবং সে স্থানীয় একটি রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত বলে জানা গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় ও তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এজাহার ও ঘটনার বিবরণ
থানায় দায়েরকৃত এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী ওই নারীর প্রথম বিয়ে ২০১৫ সালে হলেও কয়েক মাসের মধ্যে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে ২০১৬ সালে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং বর্তমানে তাদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের সংসারে পারিবারিক অশান্তি চলছিল, যা প্রতিবেশী ও স্থানীয় এলাকাবাসী আগে থেকেই অবগত ছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ জুন (২০২৬ ইং) দুপুরে অভিযুক্ত মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে মোবাইল ফোনে ওই নারীর সাথে যোগাযোগ করে এবং তাকে বসুন্দিয়া মোড়ে আসতে বলে। সরল বিশ্বাসে ওই নারী সেখানে গেলে মামুন তাকে দিনভর বিভিন্ন স্থানে ঘুরিয়ে গভীর রাতে উপজেলার গাইদগাছি এলাকার বেলতলার একটি নির্জন মেহগনি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে ওই নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন।
গণ-আলোচনা ও অভিযুক্ত আটক
ঘটনার পর অভিযুক্ত মামুন সেখান থেকে পালিয়ে গেলে ভুক্তভোগী নারী স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানান। পরে আত্মীয়-স্বজনদের সাথে আলোচনা করে তিনি কোতোয়ালী মডেল থানায় লিখিত এজাহার জমা দেন। ঘটনার দিন এলাকার অনেকেই ওই নারীকে অভিযুক্তের সাথে ঘুরতে দেখেছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই তৎপর হয়ে ওঠে প্রশাসন। সোমবার রাতে বসুন্দিয়া মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এস আই মোফাজ্জেল হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশ দল অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুনকে আটক করে কোতোয়ালী থানায় হস্তান্তর করে।
এদিকে ধর্ষণের এই ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে বসুন্দিয়া এলাকার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই জঘন্য অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বের সাথে চলমান রয়েছে।

