হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় কুপি বাতি ও হারিকেন
শাহ আলম,গোয়াইনঘাট(সিলেট)প্রতিনিধি: হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার জনপ্রিয় কুপি বাতি ও হারিকেন। রাতের অন্ধকার দূর করতে গ্রাম-বাংলার অন্যতম ভরসা ছিল কুপি বা হারিকেন তথা কেরোসিন বাতি। পরিচালনার দায়িত্বে উচ্চ পর্যায়ে থেকে নিয়ে মফস্বলের অনেকেই পড়ালেখা করেছেন কুপি বা হারিকেনের মৃদু আলোয়। গৃহস্থালী এবং ব্যবসার কাজেও এসব ছিল একমাত্র অবলম্বন।
চলচ্চিত্রের প্রথম আমলের ছবিগুলোতে দেখা যায় সিনেমার নায়িকা তার ভালোবাসার মানুষটিকে অন্ধকার রাতে খুজে পেতে হারিকেন নিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছেন। আবার বাংলা সাহিত্যের অন্যতম ‘ডাক হরকরা’ গল্পের নায়ক তার এক হাতে হারিকেন আর অন্য হাতে বল্লম নিয়ে রাতের আধারে ছুটে চলে তার কর্ম পালনে।
কিছু দিন আগের কথা, বাহারি ধরনের কুপি ও হারিকেন ছিল মানুষের অন্ধকার নিবারণের অবলম্বন। কালের বিবর্তনে কুপি বাতি ও হারিকেনের স্থান দখল করে নিয়েছে বৈদ্ৎুতিক বাল্ব, সৌরবিদ্যুৎ, চার্জার লাইটসহ মোমবাতি আরও অনেক কিছুই। ফলে ক্রমেই বিলীন হয়ে যাচ্ছে আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যময় এই নিদর্শটিও।
জানা যায়, সন্ধ্যা হলেই গ্রামীণ জনপদে প্রতিটি বড়িতেই এক বা একাধিক সংখ্যক কুপি বাতি বা হারিকেন থাকতো। সন্ধ্যা এলেই সবার আগে মনে পড়তো হারিকেনের কথা। গৃহস্থলির সকল কাজ সেরে বাড়ির বৌ-ঝিরা সন্ধ্যার আগেই হারিকেনের কাঁচ মুছে তাতে কেরোসিন ভরে জ্বালিয়ে দিতো প্রতি ঘরে ঘরে।
অন্ধকার হওয়ার পূর্বেই সবার বাড়িতে শোভা পেতো কুপি বা হারিকেনের আলো। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে রাতের যাবতীয় কাজকর্ম চলতো কুপির আলোয়।কন্তু বর্তমানে বিজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে বিদুৎতের বিকল্প হিসেবে অনেক সহজলভ্য ইলেকট্রিক উপকরণগুলো তৈরি করছেন।
এরমধ্যে অন্যতম হচ্ছে- ইমারজেন্সি লাইট, চার্জার লাইট, এলইডি লাইট, আইপিএস, সোলার প্যানেলসহ বিভিন্ন উপকরণ। এগুলো বর্তমান বাজারে কম দামে হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, বিদ্যুৎ চলে গেলে মানুষ বিকল্প হিসেবে এসব জিনিস ব্যবহার করে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে কেরোসিনের কুপিবাতি ও হারিকেনের চাহিদা উদ্বেগজনক হারে কমে গেছে।
এই কুপি ও হারিকেনগুলো ছিল বাহারি রঙ। এর মধ্যে মাটি, লোহা, কাচের বোতল আবার পিতলের তৈরী কুপিও ছিল। নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী লোকজন কুপি ও হারিকেন কিনে সেগুলো ব্যবহার করতো। নষ্ট হলে মেরামত করে দিত কারিগড়। তার একটি নামও ছিল ‘টাটারু’।
হারিকেন বিলুপ্তের সাথে সাথে সেই কারিগড়দেরও আর দেখা যায় না। হারিকেন অনেকটা এখন ফটোফ্রেমে বন্দী। দু’একটি বাড়িতে কুপি বাতি বা হারিকেন দেখা মিললেও সেটি আর জ্বলে না। এখন গৃহ বধুদের হারিকেনের কাঁচ মুছে হাতে কালি লাগাতে হয়না।
লাইটের সুইচ টেপা মাত্রই ঘর ভরে যায় আলোয়। বর্তমান প্রজন্মের ছেলে মেয়েদের অনেকেই হারিকেন নামও জানে না। হারিকেন দেখে পরবর্তী প্রজন্মের ছেলে মেয়েরা বড়দের কাছে জিজ্ঞেস করবে এটা আবার কি? কি কাজে লাগে ইত্যাদি।
আসামপাড়া গ্রামের ইলিয়াস শিপু বলেন, হারিকেন ছাড়া রাতে চলা কল্পনাও করতাম না। আমরা পড়ালেখা করেছি কুপির আলো দিয়ে। বাজারে যেতাম হারিকেন নিয়ে। ঘরের একমাত্র আলো ছিলো কুপি আর হারিকেন। কুপি ও হারিকেন ছাড়া জীবন ছিল অচল।
ঘরের দৈনিক প্রধান কাজের মধ্যে কুপি ও হারিকেন ছিল একটি। এখন তো একটি কুপি বা হারিকেনও দেখি না। এখন সুইচ টিপ দিলেই আলো জলে। সকল কাজ হয় বিদুৎতের আলো দিয়ে।
স/অ

