চমক প্রতিবেদক : নারায়নগঞ্জ সদরের পুরাতন সৈয়দপুরে নিজের সুন্দরী মেয়েকে বিয়ে দিয়ে মা নিলুফা বেগম অর্থ ও বিবাহ বানিজ্য করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, নারায়নগঞ্জ সদর খানাধীন নতুন সৈয়দপুর গ্রামের রহমত আলীর ছেলে মো: শুক্কুর আলীর সহিত একই এলাকার পূরাতন সৈয়দপুর এলাকার সালেহ আহম্মেদ এর মেয়ে সাদিয়া আক্তার (১৮) পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয় প্রায় ১ বছর আগে। বিবাহের পর ১ মাস সাদিয়া শুক্কুরের সঙ্গে ভালভাবে সংসার করেন। এক মাস যাওয়ার পর সাদিয়ার কথাবার্তা এবং চলাচলে অন্য ধরনের আভাস মেলে। স্কুলে পড়ার নামে বিভিন্ন ছেলেদের সঙ্গে পরক্রিয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে একাধিকার বিচার শালিসের মাধ্যমে সমাধান হয়ে যায়। বিয়ের পর সাদিয়া ও তার মা নিলুফা বেগম নেমে পড়েন বিয়ে এবং অর্থ আদায় বানিজ্য মিশনে। মেয়েকে কোন ধরনের শাসন না করে নিলুফা বেগম মেয়েকে দিয়ে অর্থ সম্পশালী ব্যক্তিদের প্রেমের ফাঁদে ফেলার চেষ্টা শুরু করেন। প্রবাস ফেরত শুক্কুর তার স্ত্রীকে বার বার বুঝানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সাদিয়া তার মায়ের সমর্থন পেয়ে আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে। আবারো জড়িয়ে পড়েন সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কথিত ছাত্রলীগ নেতা সাগর রনির প্রেমে। শুক্কুর সাউফ আফ্রিকা যাওয়ার আগে সাদিয়াকে বলে তোমার কি কারো সাথে কোন সম্পর্ক আছে? এমন প্রশ্নের জবাবে সাদিয়া বলে আমার কারো সাথে কোন সম্পর্ক নেই। পরে শুক্কুর আবারো ফিরে যান সাউথ আফ্রিকা। ঠিক তখনই সাদিয়ার মা শুক্কুরকে বলে তার মেয়ের জন্য আলাদা বাড়ী, এবং শুক্কুরের পরিবার থেকে আলাদা হয়ে শুক্কুরকে তার মেয়ে সাদিয়ার সঙ্গে সংসার করতে হবে বলে চাপ প্রয়োগ করে। প্রবাসী শুক্কুর সংসার টিকানোর জন্য বিদেশ থেকে প্রায় ৫ লক্ষ টাকা শ্বাশুড়ী নিলুফাকে প্রদান করেন। আর স্ত্রীকে দেন প্রায় সাড়ে ৫ ভরি স্বর্নালংকার। এই স্বর্নালংকার এবং অর্থ পাওয়ার পর সাদিয়া মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের কথিত ছাত্রলীগ নেতা সাগর রনির সঙ্গে ২ মাস আগে পালিয়ে যায় বলে গুঞ্জন শোনা যায়। পরে আবার জানাযায়, অন্য এক যুবকের সাথে তার আবার নতুন সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তার সঙ্গেই সাদিয়াকে আবার বিবাহ দিবে তার মা। শুক্কুর দেশে আসবে জেনে সাদিয়ার মা সাদিয়াকে বাড়ী নিয়ে আসে। স্ত্রী অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে গেছে খবর শুনে শুক্কুর ৪ মাসের ছুটি নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। দেশে ফিরে শুক্কুর তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে গেলে শ্বাশুড়ী শুক্কুরকে তাড়িয়ে দেয়। শুক্কুর নানাভাবে স্ত্রীকে ঘরে তোলার চেষ্টা করলেও কোনমতে সাদিয়ার মা তার মেয়েকে আর এই সংসারে দিবেনা বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে। প্রবাসী শুক্কুর আলী জানান, আমি প্রবাসে থাকাকালে সাদিয়ার মাকে ২ বারে ৫ লক্ষ টাকা দিয়েছি এবং সাদিয়ার সঙ্গে ছিল সাড়ে ৫ ভরি স্বর্নালংতার । আমি কোন অণ্যায় করিনি তবুও তারা তাদের মেয়েকে আমার বাড়ীতে দিবেনা। কিছু হলেই সাদিয়ার মা তার মেয়ের দ্বিতীয় প্রেমিক সাগর রনিকে দিয়ে হুমকি প্রদান করে। আমি এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাদিয়ার বাড়ীর পাশের এক প্রতিবেশী মহিলা জানান, সাদিয়ার স¦ভাব চরিত্র ভাল নয় এবং সাদিয়ার মা টাকার লোভে মেয়েকে বিভিন্ন পয়সা ওয়ালা বা প্রবাসী যুবকের সঙ্গে একা ছেড়ে দেয়। পয়সা খাওয়া শেষ হলে গেলে সেই ছেলেকে ভূলে যেতে বেশী একটা সময় লাগেনা সাদিয়া ও সাদিয়ার মায়ের। ইতিপূর্বে সাদিয়াকে অনেক ছেলের সঙ্গে গোপনে বিবাহ দিয়েছিল এখন আবার সাগর রনি নামের যুবকের অর্থ সম্পদের দিকে মা মেয়ের লোভ পড়েছে।
কথিত ছাত্রলীগ নেতা সাগর রনির কাছে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিয়ের আগে সাদিয়ার সাথে আমার সম্পর্ক ছিল এখন নেই। সাদিয়ার মত বেঈমান মেয়েকে কোনদিন আমি মেনে নিতে পারবনা। ওদের বিয়েটা তো ধুমধাম করে হয়েছিল কেন সাদিয়া এবং সাদিয়ার মা শুক্কুর ভাইয়ের কাছে সাদিয়াকে দিবেনা সেটা আমার জানা নেই। সেটা একমাত্র তাদের পারিবারিক বিষয়। আমি ছাত্র মানুষ আমি আমার শিক্ষা নিয়ে ব্যস্ত আছি । এ বিষয়ে আমি কখনও জড়াইনি আর জড়ানোর কোন সম্ভাবনা নেই।
বিষয়টি অস্বীকার করে সাদিয়ার মা নিলুফা বেগম বলেন, আমি শুক্কুর আলীর নিকট থেকে কোন টাকা পয়সা নিয়েছি এমন কোন প্রমান নেই। আমার মেয়ে শুক্কুরের সঙ্গে সংসার করবেনা। শুক্কুর আলী আমার মেয়েকে সন্ধেহ করে । এই বয়সে দু’একা বন্ধু বান্ধব থাকেই তাই বলে সন্ধেহ করা ঠিক নয়। শুক্কুরের সঙ্গে এখন আমাদের কোন সম্পর্ক নেই।
স/ এষ্

