ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

নাটোরে দুই শতাধিক যুবক এখন মৌসুমি হকার

admin
ফেব্রুয়ারি ৯, ২০১৭ ১:০২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কানু মোল্লা মোড় দেশের সর্ববৃহৎ বরইকুলের আড়ত। এখানে প্রতিদিন হাজার হাজার মণ বিভিন্ন জাতের মৌসুমী ফল যেমন বাউকুল, আপেলকুল, থাইকুল, চায়নাকুল পাইকারী কেনা-বেচা হয়।

আর এই পাইকারী আড়ত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার খ্যাত উপজেলার কানু মোল্লার মোড়ে অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে বনপাড়া হাটিকুমরুল মহাসড়কে দূর পাল্লার যাত্রীবাহী বাসসহ অন্যান্য যানবাহনে ফেরি করে বড়ইকুল বিক্রি করছে স্থানীয় দুই শতাধিক যুবক ও মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

মৌসুমি ব্যবসায় বাড়তি আয়ের সুযোগ নিয়েছে এমন যুবকদের অধিকাংশের বয়স ১৬ থেকে ৩০ বছর। এসব যুবকের অনেকেই এর আগে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতো আবার কেউ কেউ বাজারের ফুটপাতে বা গ্রামে গ্রামে ঘুরে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহী করতো।

সরেজমিনে বনপাড়া হাটিকুমরুল মহাসড়কের নয়াবাজার, কাছিকাটা এবং বনপাড়া বাইপাস মোড়ে গিয়ে দেখা গেছে মোড়ের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন জাতের বরইকুল নিয়ে বসে আছে পাইকারী বিক্রেতারা। আর সেখান থেকে প্রতিটি নেটব্যাগে দুই কেজি ওজন করে বাউকুল জাতের বরই ঢুকিয়ে ছোট ছোট পোটলা করা হচ্ছে। হকাররা সেখান থেকে বরইকুল নিয়ে যানবাহনের দিকে ছুটছে।

পাইকারী ব্যবসায়ী ভাই ভাই ফল ভান্ডারের মালিক মেহেদী হাসান জানান, আড়তগুলোতে সকল জাতের বরইকুলই কেনা-বেচা হয়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কেনা-বেচা হচ্ছে বাউকুল জাতের বরই। কারণ এ অঞ্চলে এর চাষ অনেক বেশি। এর পরে আপেলকুল ও থাইকুল রয়েছে। তবে এখনও এই জাতের বরই পুরোদমে বাজারে আসা শুরু হয়নি।

কোনো কোনো চাষি বেশি লাভের আশায় আগাম বিক্রি করছেন যা তেমন সুস্বাদু হয়ে ওঠেনি। পাইকারী হিসেবে প্রতিমণ বাউকুল ৬০০-৮০০ টাকা দরে, চায়না ও থাইকুল ৮০০-১০০০ টাকা, আপেলকুল ১৫০০-১৮০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন কানু মোল্লার আড়ত থেকে গড়ে ১০ ট্রাক বরইকুল ঢাকা, সিলেট, চট্রগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হয়। এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে দুই শতাধিক হকার প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ মণ বরইকুল বিভিন্ন যানবাহনে ফেরী করে বিক্রি করছে।

এ ব্যাপারে বরইকুল হকার ধারাবারিষা ইউনিয়নের হক আলী জানান, প্রতিদিন সে কমপক্ষে একশ কেজি বরইকুল বিভিন্ন বাসে বিক্রি করছে। বাসযাত্রী ছাড়াও বাসের হেলপার-ড্রাইভাররাও তাদের কাছ থেকে কুলবরই কিনে নিয়ে যাচ্ছে।

অপর আরেক হকার নাজমুল ইসলাম জানান, প্রাইভেটকার থামিয়ে বা পথচারীরার তাদের কাছ থেকে কুলবরই কিনে নিয়ে যাচ্ছে। কত দামে কিনে কত দামে বিক্রি করছে জানতে চাইলে হকার নাজমুল জানান, বাউকুল কেজিপ্রতি ১৫-১৬ টাকা দরে কিনে ২০-৩০ টাকা ও থাইকুল ২০-২৫ টাকা কেজি কিনে ৪০-৫০ টাকা দরে বিক্রি করছি। এতে প্রতিদিন ৬০০-৮০০ টাকা আয় হয়।

কানু মোল্লার আড়ত ফল বিক্রেতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাকা হেসেন জানান, মৌসুমি ফল বরইকুলের এই ব্যবসা জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাস বেশ জাঁকজমকভাবে চলবে। পরে এই আড়ত কিছুদিন শূন্য থাকবে। এক্ষেত্রে কেউ কেউ কলা ও পেয়ারার ব্যবসা শুরু করে থাকে এবং আমের মৌসুমে বরইকুলের মতোই আম পাইকারী কেনা-বেচা শুরু হয়।