দোহার নবাবগঞ্জ-১ আসন পুনরুদ্বারে মরিয়া বিএনপি
মাঠের রাজনীতিতে হতাশার সুর
মো. সাদের হোসেন বুলু নবাবগঞ্জ থেকে
মহানগরী ঢাকার নিকটবর্তী দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলা। কৃষি ও প্রবাসী অধ্যুসিত এই অঞ্চলটি এক সময় বিএনপির দুর্গ ও ভোট ব্যাংক বলে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের নিকট পরিচিত ছিলো। ২০০১ সালের পর এখানে বিএনপি আর কখনোই জিততে পারেনি। তাই তারা এ আসনটি পূনরুদ্বারে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে মাঠের রাজনীতি বিএনপি অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। হতাশা আছে তৃণমূল কর্মীদের মাঝে।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সূচনা কাল থেকেই দোহার ও নবাবগঞ্জের অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিবীদ বিএনপি থেকে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।এদের মধ্যে সাবেক অর্থ ও জনশক্তি প্রতিমন্ত্রী আতা উদ্দিন খাঁন, শ্রী রসরাজ মন্ডল, সাবেক যোগাযোগ মন্ত্রী ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা, আব্দুল মান্নান উল্লেখযোগ্য। আতাউদ্দিন খাঁন ও শ্রী রসরাজ মন্ডল মৃত্যুবরণ করেছেন। ব্যারিষ্টার নাজমুল হুদা এখন আর বিএনপির সাথে নেই। তিনি রাজনৈতিক নতুন পার্টি গঠন করেছেন। সাবেক আমলা ও মন্ত্রী আব্দুল মান্নান কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হিসেবে বর্তমানে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত আছেন। তবে এলাকায় তার তেমন কোনো কর্মকান্ড নেই। স্বাধীনতার পর অধিকাংশ সময় একক ভাবে বিএনপি দখলে ছিলো দোহার ও নবাবগঞ্জের সংসদীয় আসন ।
বিএনপি থেকে নাজমুল হুদা সরে যাওযার পর দোহার নবাবগঞ্জে অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে সংগঠন। দলের মধ্যে রয়েছে একাধিক গ্রুপও। দুই উপজেলায়ই রয়েছে একাধিক কিমিট। বর্তমানে কেউ মান্নান পন্থী আবার কেউ আশফাক অনুসারি।
৯০’এর পর থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত এককভাইে দোহার নবাবগঞ্জকে শাসন করেছে বিএনপি। তাদের জনপ্রিয়তা ও সমর্থন ছিলো অনেক শক্ত। কিন্তু বর্তমানে আগের চিত্র পুরোই পাল্টে গেছে। দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, আনন্দ মিছিল, মিটিংসহ নানা কর্মকান্ড থেকে যেনো দূরে রয়েছে এই দুই উপজেলার বিএনপি।
কিন্তু নবাবগঞ্জের চিত্রটা একটু ভিন্ন। রাজপথে না হলেও উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে দলের নানা কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক খন্দকার আবু আশফাক। তার সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির কয়েকটি সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীকে কাজ করতে দেখা যায়।
কিন্তু নবাবগঞ্জ থেকে একাধিকবার নির্বাচিত সাংসদ আব্দুল মান্নানকে বছরে একবার নবাবগঞ্জে দেখা যায় না এমন অভিযোগ অনেকের। বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান ছাড়া দলীয় কোনো কর্মকান্ডে তার উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় না।
এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবেদ হোসেন বলেন, আসলে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কথা ভাল বললে মিথ্যা হবে আবার খারাপ বললেও মিথ্যা হবে। আমরা মান্নান এবং খন্দকার আবু আশফাক সাহেবের দ্বন্দের কারনে ভাল নেই বললেই চলে। মান্নান গ্রুপ আন্দোলন করলে আশফাক গ্রুপ নিরব থাকে আবার আশফাক গ্রুপ আন্দোলন করলে মান্নান গ্রুপ নিরব থাকে। এহেন অবস্থার কারনে আমরা কর্মীরা দলের বড় বড় কর্মকান্ডে অংশ নিতে পারছি না। শুধু আমার নয় নবাবগঞ্জে বিএনপির সকল নেতা কর্মীদের দাবি, যদি নবাবগঞ্জে বিএনপিকে সুসংগঠিত করতে হয় তবে মান্নান ও আশফাক সাহেবের দ্বন্দের অবসান ঘটাতে হবে। আমরা এই দ্বন্দ সমাধানের জন্য দলের সিনিয়র নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে নিজেদের পিঠ বাঁচানোর জন্য বিএনপি থেকে সটকে গিয়ে জাতীয় পার্টি কিংবা সরকারী দল আওয়ামীলীগের বিভিন্ন নেতা কর্মীদের সাথে সখ্যতা করে সরকারী দলের কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছেন অনেকেই।
সম্প্রতি সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচীতেও দোহার নবাবগঞ্জের বিএনপি গতি হারিয়েছে। প্রথমে শুরু করলেও তা পরে থমকে যায়। ফলে নেতাকর্মীরা আরোও নির্জীব হয়ে পড়েছে। দলের আন্দোলন সংগ্রামে নেতারা দায়িত্ব না নেয়ায়ও তাদের ক্ষোভ বাড়ছে।
দোহার বলতেই নব্বই দশকে সবাই এক নামে চিনতো। এটি ছিলো বিএনপির একটি অন্যতম ঘাটি। যার মূলে ছিলো তৎকালীন প্রভাবশালী যোগাযোগমন্ত্রী ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। তখনকার সময়ে তিনিই ছিলেন দোহারের শেষ কথা। তিনি যা বলতেন দোহারে তাই হতো। তার বিরুদ্ধে কথা বলার মতো কেউই ছিলো না। কিন্তু দোহারে বর্তমানে তার শুন্যতার কারণে বিএনপির নেতৃত্ব নিশ্চিহ্নের পথে। সাধারণ কর্মী সমর্থক থাকলেও নেই নেতা। কারন তিনি দল থেকে একাধিকবার বহি®ৃ‹ত হয়েছেন আবার দলে ফিরেছেনও একাধিকবার। শেষ পর্যায়ে দল থেকে পদত্যাগ করে বিএনএফ নামে নতুন একটি দল গঠন করেন।
সাবেক এই বিএনপি নেতা নাজমুল হুদা দল ত্যাগ করার পর থেকেই দোহারে বিএনপির ভাঙ্গন শুরু হয়। দোহারে দলকে পুনরায় চাঙ্গা করার মত আর কেউ নেই বললেও ভুল হবে না। কারণ চাঙ্গা করার মতো তাদের কোনো কর্মকান্ডই দোহারবাসীর চোখে পড়ছে না।
এ বিষয়ে দোহার উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, বিএনপির প্রতি সাধারণ নেতাকর্মীদের যথেষ্ট ভালোবাসা আছে। কে গেল আর থাকলো সেটা বিষয় নয়, জিয়ার আদর্শের দল হিসেবে দোহারের মানুষ তাদের অবস্থান পরিবর্তন করেনি। বিএনপির সাথে ছিলো এখনো আছে।
স/মা

