দই মিষ্টি কিনে নিয়মিত প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা
এম এম রহমান,মুন্সীগঞ্জ:মুন্সীগঞ্জ জেলার বিভিন্ন হাট বাজারে দই এবং মিষ্টি কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছে ক্রেতারা সাধারণ। গ্রামের মিষ্টির কারখানাগুলোতে অস্বাস্থ্যকর আর নোংরা পরিবেশে তৈরী হচ্ছে দই, মিষ্টি, রসগোল্লা, ছানা ও রস মালাই।
স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ময়লা কাপড় দিয়ে ঢেকে দই তৈরি করা হয়। অন্যদিকে জেলা শহরের নামকরা মিষ্টির দোকানের দই, মিষ্টি আর রসগোল্লাতেও ভেজাল! । বেশ কয়েকটি দোকানে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক ও মেয়াদোত্তীর্ণ রং মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে দই, রসগোল্লা, চমচম ও রসমালাই। এর সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তো আছেই। পাশাপাশি দই এবং মিষ্টি বিক্রিতে দোকানিরা ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ভোক্তা সাধারনণ।
সরেজমিনে বিভিন্ন মিষ্টির কারখানা ও দোকান ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের নামকরা মিষ্টির দোকানগুলো থেকে শুরু করে প্রত্যান্ত অঞ্চলের মিষ্টির দোকানগুলো একই কায়দায় ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। বড় বড় দোকানে ছানার মিষ্টি বিক্রি হচ্ছে ৬০০Ñ৭০০ টাকা কেজিতে। দ্বিতীয় ক্যাটাগরির মিষ্টি ২০০Ñ৩০০ টাকায়। বড় ছোট দোকানগুলোতে দই বিক্রি হচ্ছে ২ কেজি পাতিলেরটা ৩৫০ টাকা থেকে ৩৮০ টাকায়।
ছোট পাতিলের ১ কেজি দই বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা পাতিল। এসব দোকানে অসচেতনতার কারনে ক্রেতারা পন্যের গুনগত মানের পাশাপাশি ওজনে পরিমানে কম জিনিস নিয়েও বেশী দাম দিচ্ছে। মোট কথা যে পরিমান দাম দিয়ে দই মিষ্টি কিনলো সে পরিমান দই মিষ্টি ক্রেতারা কখনই পাচ্ছেনা।
এর কারন হলো পাতিলের মিষ্টি কেজি হিসেবে বিক্রি করলেও কেজি পরিমান দই ক্রেতারা পাচ্ছেনা। মিষ্টির প্যাকেটের ভিতরে ওজন বাড়ানোর জন্য দোকানিরা ভারী কাগজ ব্যবহার করছেন। এতে বিক্রেতরারা মিষ্টির সমপরিমান দাম দিয়েই কাগজ কিনেও নিচ্ছে। এতে করে বছরের পর বছর ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ১ কেজি পরিমান আর ২ কেজি পরিমান পাতিলে যে দই বিক্রি করা হচ্ছে তার প্রকৃত ওজন হচ্ছে সের এর মাপ। এতে ১ পরিমান কেজির দই কিনলে ক্রেতারা পাচ্ছেন ৯শত ৩৩ গ্রাম। ২ কেজিতে পাচ্ছে ১৮শ ৬৬ গ্রাম দই। দোকানিরা কেজি বলিয়া সেড়ের মাপে ক্রেতাদের বুঝিয়ে দিয়ে দিচ্ছেন দই।
সের হিসেবে ১ কেজি দইয়ের দাম ২০৫ টাকা কিন্তু কেজি বলে ক্রেতাদের থেকে নেয়া হচ্ছে ২২০ থেকে ২৫০ টাকা। এতে কেজি প্রতি দই কিনে ভোক্তারা ৪০ থেকে ৪৫ টাকা ঠকছেন। অন্যদিকে বিশেষ কায়দায় তৈরি পাতিলগুলোও কম পরিমান দই দিয়ে পূর্ন করা হচ্ছে।
পাতিলগুলো আকারে বড় দেখা গেলেও পাতিলে থাকা দই সের এর মাপেরই থাকছে। পাশাপাশি মিষ্টি বিক্রিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ভারী কাগজে তৈরি বাক্স। সেখানেও কেজি প্রতি মিষ্টিতে ভোক্তারা প্রায় ৩৩ টাকা গচ্ছা খাচ্ছেন । ১ কেজি ওজনের ভরা পাতিলের দইসহ ওজন হয় ১ কেজি ২৫০ গ্রাম।
পরিমাপ করে ২ কেজির খালি পাতিলের ওজন হয় ৯৬০ থেকে ৯৭০ গ্রাম। এক কেজি ওজনের খালি পাতিলের ওজন হয় এক কেজি ২৫০ গ্রাম। বেশীর ভাগ দোকানেই ঠিক একই পরিমান আসে খালি এবং ভরা পাতিলের ওজন। ২ কেজি ওজনের পাতিলে থাকা দই বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা থেকে সর্বচ্ছো ৫৫০ টাকায়। এক কেজির পাতিল বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২শ ৫০ টাকায়।
এতে করে ক্রেতারা প্রতি কেজি দইয়ে পাচ্ছে ৯৫২ গ্রাশ। পাতিলের ওজন বাদ দিয়ে দই পাচ্ছে ৯৫২ গ্রাম। বেশ কয়েকটি মিষ্টির কারখানা ঘুরে দেখা গেছে, নিম্ন মানের পানি ব্যবহার করে খালি হাতে ছানা মাখানো হচ্ছে। স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে ময়লা কাপড় দিয়ে ঢেকে দই তৈরি করতে দেখা যায়।
মিষ্টিসহ অন্যান্য খাবারে ব্যবহার করা হয় ছয় মাস আগের মেয়াদোত্তীর্ণ রং। এ ছাড়া দই এর রং সাদা করতে এবং ওজন বাড়াতে দইয়ে মেশানো হয় ক্ষতিকর রাসায়নিক।স্থানীয়রা জানান, মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযান করে একাধিক দোকানে বেশ কিছু দই, মিষ্টি ধবংস করে।
পাশাপাশি মিষ্টির প্যাকেটও জব্দ করে। দোকানিদের জরিমানাও করে তবুও দোকানিরা কোন ভাবেই সংশোধন হচ্ছেনা। দিনের পর নি তারা এভাবেই ক্রেতাদের সাথে প্রতারনা করে আসছে। আগের দিনে এমনটা হয়নি। দিন যতো যাচ্ছে দোকানিরা নানা কৌশলে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছেন খাবারের গুনগত মানে এবং ওজনে।
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: আসিফ আল আজাদ বলেন, পাতিলে করে দই বিক্রি মানেই ভোক্তাদের ঠকানো। কেজি হিসেবে বিক্রির পাশাপাশি মূল্য তালিকা থাকতে হবে। নিয়মিত অভিযানেমিষ্টির খালি প্যাকেট বিনিষ্ট করি। তাদেরকে মত বিনিময় সভা, সেমিনার এবং দোকানে গিয়ে বুঝাই। কিন্তু তারা কোনভাবেই নিজেদের সংশোধন করছেনা।
এটা খুবই দু:খজনক। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে ভোক্তা সাধারনকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে। বর্তমানে মিষ্টি এবং দই বিক্রিতে যারা ভোক্তাদের অধিকার ক্ষুন্ন করছে তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত সময়ে মধ্যে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/অ

