বাঘারপাড়ায় নানা অনিয়মের মধ্যে চলছে সাড়ে ৩ কিলোমিটার রাস্তা সংস্কার ও প্রসস্থকণের কাজ
সাঈদ ইবনে হানিফ] ( বাঘারপাড়া)যশোর ।। বাঘারপাড়া উপজেলার বাগডাঙ্গা -ঘোষনগর বাজার থেকে বসুন্দিয়া বাজার পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রশস্তকারণের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় ৪ মাস আগে । কিন্তু এখন পর্যন্ত, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শুধুমাত্র রাস্তার দুই পাশে খনন করে বালু খোয়া ভরাটের কিছুটা কাজ শেষ করতে পেরেছে ।
শুরু থেকেই রাস্তার কাজে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগে এলাকাবাসীর বাধা-বিপত্তির মধ্যে ও কাজ চলছে । ফলে দীর্ঘ দিন ধরে রাস্তাটি এলোমেলো পড়ে থাকায় জনসাধারণের চলাচলের বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় জনসাধারণের । বাঘারপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা গেছে, বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘুনি – বাগডাঙ্গা বাজার থেকে বসুন্দিয়া বাজার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তার ১৬ ফুট প্রস্থের( চওড়া) সড়ক টির সংস্কারের জন্য অনুমোদন দেয় মন্রাত্রনালয় । যার চুক্তি মূল্য ধরা হয় তিন কোটি ৪৫ লাখ টাকা ।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী কাজ টি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় কুষ্টিয়ার সৈকত এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান । চুক্তি অনুযায়ী চলতি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কাজ শুরু হয়ে চলতি বছরের জুলাই মাসে শেষ করার কথা । কিন্তু তাদের কাজের ধীরগতি কারণে চলাচলের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ।
তারা বলেন, সড়কটির দুই প্রান্তে দুইটি ঐতিহ্যবাহী বাজার থাকায় প্রতি নিয়ত বিভিন্ন ধরনের যানবাহন সহ অসংখ্য শ্রেণী পেশার মানুষের চলাচল রয়েছে এই রাস্তা দিয়ে । ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের এই ধীরগতি এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ দেখা দিচ্ছে। একই সাথে তারা অভিযোগ করেন নানা অনিয়মের । যন্ত্রতত্র ভাবে খনন করে তাতে ঠিকমত বালু খোয়া না দেওয়ার কারণে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। যা নিয়ে ইতিমধ্যে কয়েক দফা সংঘাত – মারামারির মত ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে কয়েকটি দুর্ঘটনা এতে কয়েকজন আহত এবং যানবাহনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
যার একটি ঘটনায় থানায় অভিযোগ ও হয়েছে । রাস্তাটির কাজের ধরণ দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে , ব্যাবসায়ী (আবুল কালাম আজাদ, আসাদুজ্জামান গাজী , ইজিবাইক চালক জনি, ও ইউসুফ আলী , কাঠ ব্যবসায়ী এরশাদ আলী, ) সহ স্থানীয়দের বলেন , ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে তাল মিলিয়ে কতিপয় ব্যক্তি ‘ ইট, বালি , খোয়া, সহ অন্যান্য ভাবে এই রাস্তার কাজে নানা ধরনের অনিয়ম করে চলেছে।
যা নিয়ে এলাকাবাসী কয়েকবার বাধা বিপত্তি দেখিয়েছে। কিন্তু দিন শেষে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তারা আরও বলেন , দীর্ঘ ৪ মাস পর সম্প্রতি দুই পাশের ড্রেনের বালু খোয়া ভরাটের কাজ শুরু করলেও তা নিম্নমানের, । ইতিপূর্বে এই ড্রেনের মধ্যে বৃষ্টির কারণে কাদামাটি, ময়লা পাতায় পূর্ণ হয় আর সে অবস্থায় বালু খোয়া দেওয়া হচ্ছে । ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আ: রাজ্জাক বলেন , নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে। আর কাজের ধীরগতি কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট ছাড়া ও ঈদের লম্বা ছুটি আর বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা পিছিয়ে গেছে।
এবিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবু সুফিয়ান সাংবাদিকদের বলেন , স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে মৌখিক ও লিখিত ভাবে সঠিক ভাবে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে । এদিকে ২৫ শে, জুন সকালে আবার ও নিম্নমানের ইট দিয়ে কাজ করার অভিযোগে স্থানীয় জনসাধারণের বাধার মুখে কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় শ্রমিকরা ।
পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ওই ইট সরিয়ে নিয়ে যায়। এবিষয়ে স্থানীয় আব্দুল কাদের, জুলফিকার আলী, মহিবুল ইসলাম বাবলুর রহমান সহ অনেকে বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় কিছু লোকের ছত্রছায়ায় শুরু থেকেই এই রাস্তার সংস্কার কাজের নানা ভাবে অনিয়ম করে আসছে। যা নিয়ে এলাকার সচেতন মহল বাধা বিপত্তি দেখিয়ে আসছে।
স/এস্

