লালমনিরহাটে ৫৫ ইটভাটার মধ্যে ৩৬টি অবৈধ
লাভলু শেখ, লালমনিরহাট থেকে।। লালমনিরহাট জেলা জুড়ে ৫৫টি ইটভাটার মধ্যে ৩৬টি ইটভাটা অবৈধ। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো চলছে (রীট পিটিশন) মামলা দিয়েই, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন বা ছাড়পত্র ছাড়াই। বছরের পর বছর ধরে এসব অবৈধ ইটভাটা চালু রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন সুত্র জানান, লালমনিরহাটে ৫৫টি ইটভাটার মধ্যে অনুমোদন রয়েছে ১৯টির। ৩৬টি ইটভাটা অবৈধ। তারমধ্যে লালমনিরহাট সদর উপজেলায় ৮টির মধ্যে ৫টি অবৈধ ইটভাটা হলোঃ- লালমনিরহাট পৌরসভাধীন সাপটানা এলাকার মেসার্স আর এম ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-১৬/১৯৯৬।
২০১৪ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। পৌরসভাধীন পূর্বসাপটানা এলাকার মেসার্স স্যার ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৫/২০০৪। ২০১৩ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে।
মোগলহাট ইউনিয়নের কর্ণপুর এলাকার মেসার্স টু স্টার ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০১/২০০৯। ২০১৮ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নের রুদ্ররাম এলাকার মেসার্স এপি ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০১/২০০৫।
২০১৯ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। কুলাঘাট ইউনিয়নের ধাইরখাতা এলাকার মেসার্স এস এস ব্রিকস। যার লাইসেন্স নেই, ২০১৮ সালের রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে।
আদিতমারী উপজেলায় ১৪টি মধ্যে ১০টি অবৈধ ইটভাটা হলোঃ- সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার মেসার্স সান ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-২১/১৯৯৯। ২০১৮ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে।
একই ইউনিয়নের খাতাপাড়া এলাকার মেসার্স থ্রি স্টার ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৬/২০০৪। ২০১৩ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। কমলাবাড়ী ইউনিয়নের চন্দনপাট এলাকার মেসার্স বিটি ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৭/২০০৪। ২০১৩ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি।
রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। কমলাবাড়ী ইউনিয়নের মেসার্স এ এল ব্রিকস, যার লাইসেন্স নেই, রীট পিটিশন মামলা নং-২৩৯৩/২০১৮ দিয়ে চলছে। দেওডোবা এলাকার মেসার্স এএফ এইচ ব্রিক্স, যার লাইসেন্স নেই। রীট পিটিশন মামলা নং-৯২৫৯/২০১৯ দিয়ে চলছে।
ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম ভেলাবাড়ী এলাকার মেসার্স সান-টু ব্রিকস, যার লাইসেন্স নেই। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। পশ্চিম ভেলাবাড়ী এলাকার মেসার্স এস টি ব্রিকস, যার লাইসেন্স নেই। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে।
কালীগঞ্জ উপজেলায় ১২টির মধ্যে ৮টি অবৈধ ইটভাটা হলোঃ- দক্ষিণ মুসরত মদাতী এলাকার মেসার্স এস ই পি বি ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-১/২০২০। ২০২০ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। তারপরেও অবাধে চলছে ইটভাটাটি। শ্রীখাতা, দলগ্রাম এলাকার মেসার্স এ.এল.বি.ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৫/২০১৭। কিন্তু আজও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি।
তারপরেও চলছে ইটভাটাটি। শ্রীখাতা এলাকার মেসার্স বি.বি.এম.সি.ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৪/২০১১। আজও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। উত্তর দলগ্রাম এলাকার মেসার্স বরাত ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০২/২০০৯। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে।
শ্রীখাতা, দলগ্রাম এলাকার মেসার্স এম.জে.এ ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০১/২০০৩। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। বারাজান, দুহুলী এলাকার মেসার্স বি.পি.সি.ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৮/২০১৭। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
গোড়ল এলাকার মেসার্স জি.এ.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। তবুও চলছে ইটভাটাটি। চলবলা এলাকার মেসার্স এম.এইচ.আর.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা চলছে রীট পিটিশন মামলা দিয়েই।
হাতীবান্ধা উপজেলায় ১৭টির মধ্যে ১২টি অবৈধ ইটভাটা হলোঃ-পূর্ববেজগ্রাম এলাকার মেসার্স বেঙ্গল ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৪/২০০৩। ২০১২ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। পশ্চিম নওদাবাস এলাকার মেসার্স জে এস ব্রিকস, যার লাইসেন্স নং-০৮/২০০৪। ২০১৩ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে।
পূর্ব নওদাবাস এলাকার মেসার্স এন.বি.এম.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে ভাটাটি চললেও বর্তমান বন্ধ রয়েছে। বড়াইপাড়া এলাকার মেসার্স এ.এম.ব্রিকস যার লাইসেন্স নং-০৩/২০১০। ২০১৩ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি।
রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। পূর্ব বেজগ্রাম এলাকার মেসার্স উত্তরা ব্রিকস যার লাইসেন্স নং-০১/২০০৮। ২০১৬ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা দিয়ে চলছে। বাড়াইপাড়া এলাকার মেসার্স জে এন্ড বি ব্রিকস যার লাইসেন্স নং-০৩/২০০৯।
২০১৩ সাল থেকে লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র মিলেনি। রীট পিটিশন মামলা থাকলেও বর্তমান ভাটাটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।পূর্ব বেজগ্রাম এলাকার মেসার্স জে.আর.এস.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা চলছে রীট পিটিশন মামলা দিয়েই।
গেন্দুকুড়ি এলাকার মেসার্স এস.টি.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা চলছে রীট পিটিশন মামলা দিয়েই। ভেলাগুড়ি এলাকার মেসার্স এম.এস.এম.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা চলছে রীট পিটিশন মামলা দিয়েই।
দোলাপাড়া এলাকার মেসার্স এ.এস.কে.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা চলছে রীট পিটিশন মামলা দিয়েই। পূর্ব সারডুবি এলাকার মেসার্স এম.আর.সি-২.ব্রিকস, যার লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ইটভাটা চলছে রীট পিটিশন মামলা দিয়েই।
পাটগ্রামে ৪টির মধ্যে ১টি অবৈধ ইটভাটা হলোঃ- কুচলীবাড়ী, পানবাড়ী এলাকার মেসার্স আসিফ ট্রেডার্স-পিজিএম ব্রিকস, ২০১৩ সালে লাইসেন্স পেলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলো চলছে (রীট পিটিশন) দিয়ে। টাকা হলে পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন লাগে না। টাকার জোড়ে অবৈধ ইটভাটার মালিকরা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় তারা সবদিক সামাল দিয়ে অবৈধ ইটভাটা চালু রাখছে।
এর জন্য তাদেরকে কোনো প্রকার ঝামেলাও পোহাতে হচ্ছে না। অবৈধ এসব ইটভাটা তৈরি করা হয়েছে কৃষি জমির ওপর কিংবা জনবসতি এলাকায়।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক এইচ এম রাকিব হায়দার বলেন,খুব দ্রুত মাটি ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে । আর অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
স/এষ্

