ঢাকাবুধবার , ১৩ নভেম্বর ২০২৪
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

লালমনিরহাটের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খাঁন গ্রেফতার ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
নভেম্বর ১৩, ২০২৪ ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

লালমনিরহাটের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও জেলা আলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খাঁন গ্রেফতার ও ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ

স্টাফ রিপোর্টার।। শত শত কোটি টাকার মালিক লালমনিরহাটের শীর্ষ সন্তাসী ও লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খান। তার আছে আলিশান বাড়ি, আবাসিক হোটেল, ব্যবসা প্রতিষ্টান, জমি-জমা ও বিলাস বহুল গাড়ী। বহুল আলোচিত নেতা সুমন খান ও তার স্ত্রী নাহিদা আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি পুলিশ। মামলা নং ৬১ তাং ৩১/১০/২৪ ইং তারিখ।

এ মামলায় সোমবার (১১ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে লালমিনরহাট পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা টোলপ্লাজায় সাখাওয়াত হোসেন সুমন খান ও তার সঙ্গী রাজু আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। তার বিরুদ্ধে লালমিনরহাটে ১৩টি ও ঢাকায় ৩টি সহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট জেলা শহরের কালীবাড়ি মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত বাচ্চু খানের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন সুমন খান। হুন্ডির ব্যবসার কারণে তিনি জেলা জুড়ে হুন্ডি সুমন নামে পরিচিত। পৈতৃক সূত্রে পিতার রাসায়নিক সারের দোকান ও ডিলারী ছাড়াও পৌর শহরের মাস্টারপাড়া এলাকার একটি টিনশেড বাড়িতে ছিল তাদের জীবনযাপন।

কিন্তু ২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সাখোয়াত হোসেন সুমন খান আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভাবে জড়িয়ে পড়েন। এরআগে থেকে হুন্ডির ব্যবসার সাথে জড়িত ছিল হুন্ডি সুমন খানের মুল ব্যবসা। গঠন করেছিল ৪০/৫০ বেকার যুবকদের নিয়ে কথিত বাহিনী, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ ও মুদ্রা পাচার, অবৈধ সম্পদ অর্জন, ভয়ভীতি, হুমকি ও ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ট্রাক ও ট্যাংকলড়ি শ্রমিক ইউনিয়ন বাণিজ্য, বাফার গোডাউন দখল, দরপত্র নিয়ন্ত্রণ, ঠিকাদারী, সরকারী বরাদ্দের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতে, ডিও ব্যবসা, গরুর হাট দখল, টেন্ডারবাজি, স্কুল-কলেজে নিয়োগ, জমি দখল, সালিশ-বিচারের নামে অর্থ আদায় ও বিরোধী মতের, মানুষের ওপর দমন-নির্যাতন চালিয়েছেন।

এভাবেই রাতারাতি শত শত কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন আওয়ামী লীগ নেতা সাখাওয়াত হোসেন সুমন খান। লালমনিরহাট পৌর শহরের কালীবাড়িতে একটি ৩ তলার আলিশান বাড়িতে তিনি বসবাস করেন। বাড়িটির বাইরে থেকে দৃষ্টিনন্দন হলেও তেমন কিছু বোঝা না গেলেও এটি জেলার অন্যতম ‘রাজকীয় প্রাসাদ’ বলে জনশ্রুতি রয়েছে। বাড়ির ভেতরের প্রতিটি কারুকাজ দেখে মনে হয় যেন স্বর্ণখচিত। আরো আছে, শহরের ৭ তলা অভিজাত হোটেল (আবাসিক) খান চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট, আরো আছে বহুতলা ফ্ল্যাট ২টি বাড়ি, নিরাপদ বাজার, মোবাইল ব্যবসা, সার ডিলার, কোটি টাকা দামের গাড়ি, শহরে কিনেছে অসংখ্যক জমি। বিভিন্ন ব্যাংক সুমন খান ও তার স্ত্রী, আত্মীয়-স্বজন, কর্মচারী সহ নামে-বেনামে ৮/১০টি ব্যাংকে রেখেছেন শত শত কোটি টাকা অর্জনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে সিআইডি।

সিআইডির মামলায় বলা হয়, শীর্ষ সন্ত্রাসী সুমন খানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, স্বর্ণ ও মুদ্রা পাচারের দীর্ঘদিন অনুসন্ধানে সুমন খানের ব্যাংকে একাউন্টে ২৩৭ কোটি ৪৯ লক্ষ ৪৮ হাজার ৭৬০ টাকা। তার স্ত্রী নাহিদা আক্তার রুমার ব্যাংক একাউন্টে ৪ কোটি ৩৯ লক্ষ ৩৫ হাজার ৩১০ টাকা।

সুমন খানের কর্মচারী লালমনিরহাট পুরান বাজার এলাকার বাসিন্দা হারুনের ছেলে তৌকির আহমেদ মাসুমের ব্যাংক একাউন্টে ১৮৬ কোটি ৯৫ লক্ষ ৬২ হাজার ১২৭ টাকা পাওয়া গেছে। বৈধ আয়ের উৎস না থাকলেও তাদের ব্যাংক একাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থের জমা, স্থানান্তর ও রুপান্তর করা হয়।

এ ঘটনায় ৩১ অক্টোবর, লালমনিরহাট সিআইডি’র এ এস পি আব্দুল হাই সরকার বাদী হয়ে মানি লন্ডারিং আইনের ওই ৩জনের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

অপরদিকে ৫ আগস্ট, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ার খবরে জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে সুমন খানও গাঢাকা দিয়েছে।
অবশেষে সোমবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার তিস্তা টোলপ্লাজায় সাখাওয়াত হোসেন সুমন খান ও তার সঙ্গী রাজু আহম্মেদকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ।

তার বিরুদ্ধে লালমিনরহাটে ১৩টি ও ঢাকায় ৩টি সহ মোট ১৬টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়াও সুমন খানের সঙ্গী রাজু আহম্মেদের বিরুদ্ধেও লালমিনরহাট সদর থানার মামলায় তাকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আঃ কাদের জানান, সুমন খানের বিরুদ্ধে সদর থানায় ৩টি ও ঢাকায় ৩টি হত্যা মামলা রয়েছে। সোমবার রাত ১১টায় তিস্তা টোলপ্লাজায় সুমন খান সহ আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ১২ নভেম্বর দুপুরে লালমনিরহাট পুলিশ সুপার মোঃ তরিকুল ইসলাম একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, উক্ত শীর্ষ সন্রাসীর বিরুদ্ধে মোট ১৬ টি মামলা রয়েছে। অপরদিকে সুমন খান কে সিআইডির দায়ের করা মামলায় ওই দিন সকাল ১০ টা থেকে বিকেল ৪ টা পযর্ন্ত ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

স/শাহিন