মুন্সীগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৭ শিক্ষককে শোকজ
স্টাপ রিপোর্টার।। মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের চর কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা সময়মতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। যথা সময়ে শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় খেলাধুলায় সময় পার করেন শিক্ষার্থীরা।
এতে করে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার মারাত্নক ক্ষতি হচ্ছে। দিনের পর দিন এভাবেই প্রতিষ্ঠানটিতে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিদ্যালয়টিতে দায়িত্বে অবহেলার কারণে প্রধান শিক্ষক সহ ৭ জন সহকারি শিক্ষককে শোকজ করেছে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস।
গতকাল সোমবার বিকেলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে বিলম্বে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার কারণে তাদেরকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম।
সুত্র জানায়, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সকাল ৯ টার মধ্যে সকল শিক্ষকদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও সকাল সাড়ে ৯ টায়ও চর কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক সহ সহকারি শিক্ষকরা বিদ্যালয়টিতে অনুপুস্থিত ছিলো। প্রধান শিক্ষক সহ সকল সহকারি শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে যথা সময়ে উপস্থিত না থাকার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়ার মারাত্নক ক্ষতি হয়েছে।
বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের অনুপুস্থিতি দায়িত্ব এবং কর্তব্যের চরম অবহেলা। শিক্ষকদের বিলম্বে উপস্থিতির বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে অবহিত করেন জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল চমক নিউজের মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এম এম রহমান। পরে বিষয়টির প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে ওই বিদ্যালয়ের ৭ জন শিক্ষককে শোকজের আদেশ দেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কর্তৃপক্ষ।
জানাগেছে, গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮ টার মধ্যে চর কদমতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত হন। কিন্তু বিদ্যালয়ে নির্ধারিত সময়ে শিক্ষকরা না আসার কারণে শ্রেণি কক্ষে বই খাতা রেখে বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করে সময় কাটাতে থাকেন। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের বাইরে এসেও রাস্তার পাশে দৌড়াদৌড়ি এবং হই হুল্লোর করে খেলাধুলা করায় ব্যস্ত। এসময় ওই রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেল যোগে যাচ্ছিলেন অনুসন্ধানী সাংবাদিক এম এম রহমান।
এসময় তিনি মোটর সাইকেল থামিয়ে একাধিক শিক্ষার্থীদের কাছে বিদ্যালয়ে বাইরে থাকার কারণ জানতে চায়। এখন তো ক্লাসের সময় তোমরা বাহিরে কোনো খেলাধুলা করছো, ক্লাসে যাও। এমন প্রশ্নের জবাবে ওই শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের বিদ্যালয় খোলা আছে কিন্তু কোনো শিক্ষক আসেনি।
যার কারণে তারা খেলাধুলা করে সময় পার করছেন। শিক্ষকরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে তারা ক্লাসে যাবেন বলেও জানান একাধিক শিক্ষার্থী।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষক সহ বিদ্যালয়ের প্রতিটি শ্রেণি কক্ষের দরজা- জানাল খোলা রয়েছে। কক্ষগুলোতে লাইট-ফ্যান সবকিছইু চলছে । ক্লাসে বই খাতা রেখে সকল শিক্ষার্থীরা যার যার মতো বাইরে গিয়ে খেলাধুলা করছেন। এসময় একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাক বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।
যথা সময়ে বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা উপস্থিত না থাকায় তারাও হতাশ। তাদের দাবি, বিদ্যালয়ে বিলম্বে শিক্ষকদের উপস্থিতির কারণে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। কোমলমতি শিশুরা পড়াশোনা করতে এসে শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছে এটা খুবই দুঃখজনক। সকাল ৯ টা ৫ মিনিটের সময় জসিম নামের একজন দপ্তরি বিদ্যালয়ে উপস্থিত হলে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন , এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষক আসেনি।
সব সময় যথা সময়েই তারা সকলেই আসেন। কিন্তু আজকে কোনো এতো দেরি করছে তা বলতে পারবো না। এরপর সরেজমিনে উপস্থিত প্রতিবেদক আরোও ২৫ মিনিট ওই বিদ্যালয়ের প্রবেশ মুখে অবস্থান করেন। সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে প্রতিবেদক বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। তখন পর্যন্তও কোনো শিক্ষককে ওই বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি।
এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, যথা সময়ে বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকায় সুর্নিষ্টি অভিযোগের ভিত্তিতে ওই বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে। তারা এসে বিদ্যালয়ে বিলম্বে উপস্থিতির কারণ জানাবে। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স/শাহিন

