গৌরীপুরে ভেজাল বীজে কৃষকের সর্বনাশ!
ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রধান শেখ বিপ্লব – ময়মনসিংহের গৌরীপুরে দোকানদারে কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ধানের ভেজাল বীজ কিনে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন একাধিক কৃষক। ব্যাকটিরিয়াল পেনিক্যাল ব্লাইন্ড রোগে আক্রান্ত হয়ে তাদের জমির সমস্ত ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
এতো টাকা ব্যয়ে চাষাবাদের পর ভেজাল বীজের জন্য তাঁরা এখন নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্ত ফসলী জমি ইতিমধ্যে পরিদর্শন করেছেন গৌরীপুর কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ রাকিবুল হাসান।
জানা যায়, এবার আমন মৌসুমে উপজেলার মইলাকান্দা ইউনিয়নের কাউরাট গ্রামের মোঃ হারুন অর রশীদ ৩৩ শতাংশ ও মোঃ আব্দুল হালিম ৪০ শতাংশ জমিতে ইমরান সীডস্ বীজধান রোপন করেছেন।
তাঁরা গৌরীপুর পৌর শহরের মধ্যবাজারে অবস্থিত মানিক ট্রেডার্সের মালিক হাজী মানিকের দোকান থেকে ব্রি ধান ১০৩ এর বীজধান ক্রয় করে ছিলেন। এর মালিক মানিক এই বীজ কিনতে আমাদের পরামর্শ দিয়েছিলেন। বীজের প্যাকেটের গায়ে ২ কেজির মূল্য ২৫০ টাকা লিখা থাকলেও, বাজারে ঘাটতি দেখিয়ে ৩৩০ টাকা করে দাম রেখেছেন মানিক।
কৃষক আব্দুল হালিম জানান, বীজ তলা থেকে চারা রোপন করার ৩০ দিনের মধ্যে ধানের থৌর চলে আসে। এতে ধানে চিটা হয়ে গাছ মরে যাচ্ছে। এ জমিতে পূর্বে ৫০/৬০ মন ধান হয়েছে, এবার ভেজাল বীজের কারণে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।
মইলাকান্দা ইউনিয়নে দায়িত্বরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকিকুন্নাহার জানান, ব্যাকটিরিয়াল পেনিক্যাল ব্লাইন্ড রোগটি সাধারণত বীজের মান খারাপ হলে হয়ে থাকে। ইমরান সীডসের গুণগত মান ভাল নয়, বিধায় ফসল নষ্ট হয়ে গেছে, কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সাধারণত ধানের চারা রোপন থেকে ৪০-৪৫ দিনের মধ্যে থৌড় (ভুটিং স্তর) আসার কথা। এ রোগে আক্রান্ত হলে তার আগেই থৌড় এসে ফসল নষ্ট হয়ে যায়।
অভিযোগের ব্যাপারে জানতে হাজী মানিককে কল দিলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর, কথা শোনা যাচ্ছে না বলে সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।
গৌরীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন- মানিক ট্রেডার্স এর মালিক মানিক কৃষি অফিস কর্তৃক অনুমোদিত ডিলার নয়। বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন ইমরান সিডসের ধান বীজ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের কাছে বিক্রির বিষয়টি মানিক স্বীকার করেছেন তিনি। কৃষকের লিখিত অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাকিল আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন- বিষয়টি বিস্তারিত খোঁজ খবর নিচ্ছি, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

