ঢাকাবুধবার , ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে বন বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা, কমেছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৪ ৮:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে বন বিভাগের কার্যক্রমে স্থবিরতা, কমেছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ

এম.এম. রহমান ।। মুন্সীগঞ্জ জেলায় প্রতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানুষের সৃষ্ট কারণে অধিক পরিমাণ ফলজ এবং বনজ গাছ নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও অকারণে কেটে ফেলা হচ্ছে গাছপালা। একটি গাছ কাটলে সেখানে কমপক্ষে তিনটি গাছ রোপনের কথা থাকলেও তা মানছে না কেউ। গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পুষ্টির চাহিদাও মেটায়।

মুন্সীগঞ্জে বৃক্ষপ্রেমী মানুষের বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও বনজ গাছের চাহিদা মেটাতে পারছে না জেলা বন বিভাগ। বৃক্ষ প্রেমী মানুষ ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগে ৮ থেকে ৯ প্রজাতির বিভিন্ন ফলজ ও বনজ চারা পাওয়া যায়। কিন্তু বহু প্রজাতির উন্নত জাতের ফলজ ও বনজ চারা পাওয়া যাচ্ছে না জেলার বন বিভাগের নার্সারীগুলোতে।

সরকারি বন বিভাগ থেকে মাত্র ৯ টাকায় যে চারাটা মানুষ কিনতে পারে সেটা চারা প্রাইভেট নার্সারী থেকে ৪ বা ৫ গুন দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। চাহিদা মতো চারা না পাওয়ার কারণে মানুষ বেসরকারি নার্সারীর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। জেলার ৬ টি উপজেলার বন বিভাগে জনবল সংকটের কারণে সামাজিক বনায়নের চারা উৎপাদন ব্যবস্থা ঝিমিয়ে পরছে৷ সকল প্রজাতির উন্নত জাতের ফলজ ও বনজ চারা উৎপাদন করছে না বন বিভাগ।

যার কারণে মানুষ ছুটছেন বেসরকারি নার্সারীর দিকে। সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, কাটাখালি বন বিভাগে সুনসান নীরবতা। বাগানে একজন মালি দায়িত্ব পালন করছেন। গত বছরের অবিক্রীত বিভিন্ন ফলজ ও বনজ চারাগুলো সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে। মাঝে মধ্যে লোকজন এসে একটি দুইটি করে চারা কিনে নিচ্ছেন। এসময় কথা হয় গাছের চারা কিনতে আসা ব্যাক্তি আবু তাহের এর সাথে তিনি বলেন, সরকারি এই নার্সারীতে কমন ধরনের কিছু চারা পাওয়া যায়।

সব ধরণের চারা পাওয়া যায় না। শুধু তাই নয়, দেশী চারার পাশাপাশি যদি এখানে উন্নত জাতের কলমের চারা পাওয়া যেতো তাহলে ভালো হতো। আরেক বৃক্ষপ্রেমী নুরুল আমিন জানান, এখানে ফলজ ও বনজ সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ ধরণের চারা পাওয়া যায়। যেখানে মানুষের চাহিদা কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০ প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের চারার। প্রতি বছর একই প্রজাতির চারা উৎপাদন হচ্ছে।

তিনি আরোও বলেন, সব ধরণের ফলজ ও বনজ চারা এখানে উৎপাদন হলে মানুষ কম টাকায় চারা কিনতে পারতো এবং সামাজিক বনায়ন সৃষ্টিতেও মানুষের আগ্রহ বেড়ে যেতো।বন বিভাগের অফিস সুত্র জানায়, বর্তমানে জেলা বন বিভাগে ৫০ শতাংশের মতো জনবল রয়েছে। ফরেস্ট অফিসার ২টি পদ শুন্য। উপজেলা অফিসারের ১ টি পদ শুন্য। ফরেস্ট গার্ডের ১ টি পদ শুন্য। বাগান মালি এই পদে ১২ জনের জায়গায় আছে মাত্র ৩ জন।

গত বছর ১ লক্ষ চারা উৎপাদন হয়েছিলো যার মধ্যে এখনও বহু গাছ রয়েছে অবিক্রীত। সুত্র আরোও জানায়, বর্তমানে বন বিভাগে দেশী জাতের জাম, পেয়ারা, কাঠাল, আমলকি, সোনালু, বকুল, পাতা বাহার, কাঠ বাদাম রয়েছে। শুধুমাত্র লৌহজং উপজেলায় আমলকি, বহেরা,কৃষ্ণচুড়া এসব বীজের চারা উৎপাদন হচ্ছে।

বাকী ৫ টি উপজেলায় সেই আগের মতোই একই চারা উৎপাদন হচ্ছে। বীজ থেকে উৎপাদিত এসব চারা রোপনের পর ফলন পেতে ১/২ বছর সময় লেগে যায়। তারা বলছে এসব চারা যদি হটিকালচার পদ্ধতিতে বা কলমের হতো তাহলে মানুষ চারা রোপন করে ১ বছরেই ফলন পেতো। সরকারি এসব বার্সারীতে উন্নত জাতের চারা উৎপাদিত না হওয়ার কারণে মানুষ প্রাইভেট নার্সারী থেকে বেশি দামে চারা কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

বন বিভাগে কর্মরত বাগান মালি ও সংশ্লিষ্ট বিভাগে বিভিন্ন পদে থাকা কর্মকর্তারা জানান, চারা বিক্রির টাকা সরকারি খাতে জমা হচ্ছে। বর্তমানে চাহিদার থাকলেও জনবল সংকটের কারণে পর্যাপ্ত চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে না। যা উৎপাদন হয় সেগুলো বিক্রি করতেও ২ বছর লেগে যায়। বিভিন্ন জাতের গাছের চাহিদা মতো বীজের ব্যবস্থা না থাকায় বৃক্ষ প্রেমীদের চাহিদা মিলছে না। যার কারণে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণও করছে।

বন বিভাগের অফিস সুত্র জানায়, গত বছর বন বিভাগ চারা বিক্রি এবং গাছপালা টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করে ২ (দুই কোটি) টাকা রাজস্ব আদায় হলেও এবছর ৪০ লাখের বেশি রাজস্ব আদায় করা সম্ভয় নয় বলে জানিয়েছেন বন বিভাগে দায়িত্ব থাকা কর্মকর্তাগণ।সামাজিক বনায়ন নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মুন্সীগঞ্জ এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: আবু তাহের বলেন, মুন্সীগঞ্জ জেলা বন বিভাগে জনবল সংকট প্রকট।

জেলার ৬ টি উপজেলায় ৬টি নার্সারীতে ১২ জন বাগান মালি থাকার কথা, কিন্তু বর্তমানে আছে ৩ জন। ১২ জন মালির কাজ ৩ জনে করা খুবই কষ্টকর। গাছের প্রচুর চাহিদা থাকা সত্বেও জনবল সংকটের কারণে পর্যাপ্ত চারা উৎপাদন করা যাচ্ছে না। দিনের পর দিন রাজস্ব আদায়ের পরিমানও কমছে। তিনি আরোও বলেন,আমি আশাবাদি বর্তমান অর্ন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বন বিভাগের প্রতি সদয় দৃষ্টি দিবেন। বন বিভাগের জনবল সংকটে সরকার কার্যকরি উদ্যোগ গ্রহণ করতে এমনটাই প্রত্যাশা করেন এই বন কর্মকর্তা।

স/এষ্