বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তায় থাকবে আইনশৃংখলা বাহিনীর ছয় হাজার সদস্য
শাহজাহান শোভন, টঙ্গী থেকে ।। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে গতকাল রবিবার দুপুরে টঙ্গী বাটা গেট সংলগ্ন পুলিশ কন্ট্রোলরুমে বিশ্ব ইজতেমা ২০২৪ উপলক্ষে আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক চূড়ান্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত সভার প্রধান অতিথি ছিলেন মোঃ জাহিদ আহ্সান রাসেল সংসদ সদস্য, গাজীপুর-২ এবং সভাপতিত্ব করেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম বিপিএম, পিপিএম (বার)।
এ ছাড়াও সভায় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলার জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর মেট্রপলিটন পুলিশ ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, র্যাব, আনসার, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল সার্জন প্রতিনিধি, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ইজতেমা সংশ্লিষ্ট গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আসন্ন ইজতেমা ২০২৪ উদযাপনে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান সহ সকল স্তরের নিরাপত্তা প্রদানের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান। আসন্ন ইজতেমা ২০২৪ পালনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সকলকেই ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান ।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোঃ মাহবুব আলম বিপিএম, পিপিএম (বার) মাঠ পরিদর্শন করে জানান, বিশ্ব ইজতেমার প্রস্তুতি প্রায় শেষ। এবার ছয় হাজার পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
রাস্তায় এবার হকার বসতে দেওয়া হবে না। বিশ্ব ইজতেমা মাঠে স্থাপিত পুলিশ কন্ট্রোলরুমের সামনে পুলিশ কমিশনার এসব কথা বলেন। পুলিশ কমিশনার আরো বলেন, তাবলিগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এখন কোনো সমস্যা নেই। তাদের সঙ্গে দুই পর্বের দায়িত্ব পালন নিয়ে কথা হয়েছে। কিছু অমীমাংসিত বিষয়ের মীমাংসা হয়েছে। দুপক্ষই একমত হয়েছেন।
বিশ্ব ইজতেমার কাজ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। শিগগির খালি জায়গাগুলো পূরণ করা হবে। এবার দুই পর্বেই ছয় হাজার করে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। প্রতিবছরের মতো পুলিশ ছাড়াও আনসার, র্যাবসহ অন্যান্য বাহিনী নিয়োজিত থাকবে।
জুবায়েরপন্থীদের প্রতিনিধি প্রকৌশলী মেজবাহ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমরা দুই গ্রুপ বসেছিলাম। সব বিষয়ে ফয়সালা হয়েছে। এখন কোনো ঝামেলা নেই। একই গ্রুপের শূরা সদস্য আহাম্মদ আলী বলেন, ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
ফাঁকা জায়গার শামিয়ানা বিভিন্ন জেলা থেকে আসবে। ইজতেমার জায়গা বেড়েছে, তাই চাহিদাও বেড়েছে। তা ছাড়া দিয়াবাড়িতে থাকা শামিয়ানা আসবে বলে জানান তিনি।
সা’দ গ্রুপের প্রতিনিধিদলের প্রধান রেজাউল করিম বলেন, সমঝোতা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়। একই গ্রুপের শূরা সদস্য মাওলানা মিজানুর রহমান বলেন, গত বছর কিছু দামি জিনিসপত্র ওরা নিয়ে গিয়েছিল। সেই বিষয়ে কথা হয়েছে।
উল্লেখ্য, টঙ্গীর তুরাগ তীরে আগামী ২-৪ ফেব্রুয়ারি ৫৭তম বিশ্ব ইজতেমার প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হবে। এর দ্বিতীয় পর্ব ৯-১১ ফেব্রুয়ারি। ২০১১ সাল থেকে বিশ্ব ইজতেমা দুই পর্বে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
স/এষ্

