ঢাকাশুক্রবার , ১৮ আগস্ট ২০২৩
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

শিল্পের কাঁচামালের আমদানি কমায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
আগস্ট ১৮, ২০২৩ ৫:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শিল্পের কাঁচামালের আমদানি কমায় বিপাকে ব্যবসায়ীরা

মতিউর রহমান হিরা ।। রিজার্ভ ক্ষয়ের প্রবণতা ঠেকাতে গত বছরের শুরুতে সার্বিক আমদানিতে হ্রাস টানে বাংলাদেশ ব্যাংক। বিলাসী পণ্যের সঙ্গে সেই তালিকায় উঠে আসে শিল্পের কাঁচামাল, যন্ত্রপাতি আমদানিসহ জরুরি কিছু পণ্যও।

ফলে এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত সাময়িক বলা হলেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল সবশেষ বছরেও। তথ্য অনুযায়ী ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে আমদানি বাবদ ব্যয় হয় ৭৫০৬ কোটি ডলার।

২০২১-২০২২ ৮২৪৯ কোটি ডলার। যা বছর ব্যবধানে কমেছে ১৬ শতাংশ। আমদানিনির্ভর যেসব শিল্প আছে, সেইসব শিল্পগুলো ডলার সংকটের কারণে ভালোভাবে চলতে পারেনি। তবে সরকার নানানভাবে চেষ্টা করেছে ডলার সংকট দূর করার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী সবশেষ অর্থবছরে ৩০ শতাংশ আমিদানি কমেছে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যে। ৮৯৩ কোটি থেকে যা নেমে এসেছে ৬৪০ কোটিতে। একই সঙ্গে পোশাকখাত সংশ্লিষ্ট আমদানি কমেছে ২২ শতাংশ। বস্ত্রখাতের উদ্যোক্তারা সুতা আমদানি কমিয়েছে ৬৪ শতাংশ।

পাশাপাশি ১৭ শতাংশ আমদানি কমেছে পুঁজিপণ্য বা ক্যাপিটাল গুডসে। এর অর্থ হলো নতুন বিনিয়োগ ও চলমান কারখানায় উৎপাদনের জন্য কম উপকরণ কিনেছেন উদ্যোক্তারা।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদে এই প্রভাব পড়তে পারে কর্মসংস্থান ও রফতানি আয়ে। ২০২২-২০২৩ অর্থবছরে খাদ্যপণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৮২৫ কোটি ডলার। তবে চিনি আমদানি কমেছে ২০ শতাংশ।

এদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে নিত্যপণ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের দাম বাড়ে।

তখন ধাপে ধাপে আমদানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। জ্বালানি তেলের দামও বাড়ায় সরকার। বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানি তেলের ব্যবহার কমানো হয়। শুরু হয় বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং।

শীত মৌসুম শুরু হলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়। তবে বাকি সমস্যাগুলো রয়ে গেছে। এতে সংকটে পড়েছে দেশের সম্ভাবনাময় হালকা প্রকৌশলশিল্প (লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং)। সবচেয়ে বিপদে আছেন খাতটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা।

এ খাতের ব্যবসায়ীরা জানালেন, হালকা প্রকৌশল কারখানায় বিভিন্ন ধরনের ইস্পাত পণ্য, অ্যালুমিনিয়াম, বেয়ারিংসহ বিভিন্ন ধরনের খুচরা যন্ত্রাংশ ব্যবহৃত হয়। এসব কাঁচামালের দাম গত দেড় বছরে ৫০-৭৫ শতাংশ বেড়েছে।

 

আবার ডলার-সংকটে কাঁচামাল আমদানির ঋণপত্র খুলতেও মাসের পর মাস ব্যাংকে ঘুরতে হয়েছে। তাতে বাজারে কাঁচামালের ভয়াবহ সংকট তৈরি হয়েছে। পণ্য উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে ক্রয়াদেশও কিছুটা কমেছে। যতটুকু–বা আসছে, তার একাংশ কাঁচামালের সংকটে উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এতে বিপাকে পড়েছেন কমবেশি প্রায় সব উদ্যোক্তা।

হালকা প্রকৌশলশিল্পের আঁতুড়ঘর রাজধানীর পুরান ঢাকা অঞ্চল। গত শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে সেখানকার টিপু সুলতান রোডে মোটরগাড়ি ও পাটকলের যন্ত্রপাতি মেরামতের কারখানা গড়ে ওঠে।

পরে কিছু প্রতিষ্ঠান যন্ত্রাংশ তৈরি শুরু করে। কারখানাগুলো ধীরে ধীরে আশপাশের এলাকার পাশাপাশি বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য সম্ভাবনাময় খাতটি একটি গণ্ডির মধ্যেই আটকে গেছে। গাড়ির ইঞ্জিন ও বিভিন্ন কলকারখানার যন্ত্রপাতি মেরামত আর ছোটখাটো নাটবল্টু তৈরিতেই ব্যস্ত অধিকাংশ কারখানা।

কিছু প্রতিষ্ঠান কৃষি ও নির্মাণকাজের যন্ত্রপাতি, প্লাস্টিক পণ্যের ছাঁচ বা মোল্ড, পেপার মিলের রোলার, রুটি ও বেকারির যন্ত্র ইত্যাদি তৈরি করছে।

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সদস্যসংখ্যা ৩ হাজার ২০০। তার বাইরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে হাজার হাজার প্রতিষ্ঠান।

সব মিলিয়ে সারা দেশে অর্ধলক্ষাধিক প্রতিষ্ঠান আছে, যদিও ৯০ শতাংশ কারখানাই গাড়ির ইঞ্জিন থেকে শুরু করে নানা রকম শিল্পকারখানার যন্ত্রপাতি মেরামত করে। বাকি ১০ শতাংশ নাটবল্টুসহ খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছে।

চুয়াডাঙ্গায় তিন দশক ধরে কৃষি যন্ত্রপাতি তৈরি করে জনতা ইঞ্জিনিয়ারিং। শুরুর দিকে গরুর লাঙলের বাতিল ফলা দিয়ে নতুন ফলা, ধানমাড়াইয়ের যন্ত্র প্যাডেল থ্রেশার তৈরি করলেও বর্তমানে কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী মৌসুমভিত্তিক প্রায় ৪০টি ধরনের যন্ত্র তৈরি করে তারা। এর মধ্যে আছে সিডার, বেডপ্লান্টার, আলু তোলা, ভুট্টা মাড়াই, ধান-গমমাড়াই, বিভিন্ন রকম স্প্রে, বাগান পরিচর্যায় আগাছা দমনের জন্য মিনি টিলার ইত্যাদি।

এই জনতা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের স্বত্বাধিকারী মো. ওলি উল্লাহ চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করতে ৭০ হাজার ডলারের ঋণপত্র (এলসি) খুলতে দুটি ব্যাংকে ছয় মাস ঘুরেছেন। ডলার সংকটের কারণে কোনো ব্যাংকই ঋণপত্র খোলেনি। শেষে অন্য একটি ব্যাংকের সহযোগিতায় মাঝে ঋণপত্র খুলতে পেরেছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মো. ওলি উল্লাহ বলেন, ‘শতভাগ মার্জিন দিয়েও ঋণপত্র খুলতে পারছি না। ফলে কাঁচামালের সংকট তৈরি হয়েছে। দেশে বিকল্প কিছু কাঁচামাল পাওয়া গেলেও মান যথাযথ নয়। তাই কারখানার উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়েছি।

অন্যদিকে এই সুযোগে আমদানিকারকেরা বাজার দখল করে নিচ্ছেন। এতে দেশের কৃষি খাতের জন্য খুব ভালো কিছু হচ্ছে না।’

বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে হালকা প্রকৌশল খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো কেমন আছে, জানতে চাইলে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্প মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমরা নানামুখী সংকটে পড়েছি। গ্যাস ও ফার্নেস তেলের দাম বাড়ানোর কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান লোহা গলিয়ে পণ্য তৈরি করে, তাদের উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে।

আবার চীন থেকে কাঁচামাল আনতে আগে কনটেইনার প্রতি ১ হাজার ১০০ ডলার খরচ হতো। মাঝে তা বেড়ে ৩ হাজার ৮০০ ডলার হয়েছিল। এখন কিছুটা কমলেও লাগছে ৩ হাজার ২০০ ডলার।

আবদুর রাজ্জাক আরও বলেন, কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়াদেশ কমে গেছে। এরমধ্যে অনেকেই সংসার চালাতে ব্যবসার পুঁজি হারিয়েছেন। ধারকর্জ করে চলছেন।

স/এষ্