ঢাকাশুক্রবার , ২৬ মে ২০২৩
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

নকল ঔষধে সয়লাব সারাদেশ, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
মে ২৬, ২০২৩ ৫:২৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নকল ঔষধে সয়লাব সারাদেশ, বাড়ছে মৃত্যুঝুঁকি

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানী থেকে শুরু করে দেশের প্রত্যন্ত এলাকাতেও ভেজাল ওষুধের মারাত্মক ঝুঁকিতে মানুষ। সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নানা উদ্যোগ নিলেও ভেজাল কারবারিদের প্রভাব থেকে মুক্ত হতে পারছে না সাধারণ মানুষ। দিন দিন সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। ভেজাল ওষুধ তৈরির কারবারি ও বিক্রেতাদের যথাযথ শাস্তি না হওয়াই এর কারণ বলে মনে করছেন সাধারণ মানুষ।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি ওষুধের সুনাম থাকলেও দেশজুড়ে ওষুধ-বাণিজ্যে সীমাহীন নৈরাজ্যে নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধের ছড়াছড়িতে মানুষের জীবন বিপন্ন। দেশের সর্বত্রই নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না।

খুচরা বিক্রেতা থেকে গ্রাহক পর্যায় কোথাও যাচাই এর সুযোগ না থাকায় নকল ওষুধে সয়লাব হয়েছে বাজার। এতে নিজের অজান্তেই রোগমুক্তির বদলে বাড়ছে মৃত্যু ঝুঁকি।

এসব ওষুধের বেশিরভাগই আটা-ময়দার মিশ্রণে তৈরি অদ্ভুত এক দলা, যার কোনো ঔষধি গুণ তো নেইই বরং এগুলো সেবনে শারীরিক নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জানা যায়, গ্যাস্ট্রিকের চিকিৎসায় জনপ্রিয় ওষুধ হচ্ছে সার্জেল, সেকলো, ফিনিক্স, লোসেকটিল, প্যানটনিক্স বা ইটোরিক্সও। কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় সামান্য শারীরিক সমস্যায়ও মানুষ মুড়ি-মুড়কির মতো এসব ওষুধ সেবন করছে।

আর এসবের বেশিরভাগ ওষুধই বাজারে নকল তৈরি করে বিক্রি করছে একটি গোষ্ঠী! সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক অভিযানে ৯৮ হাজার পিস সার্জেল ২০ এমজি, ৩৯ হাজার ৬শ’ পিস সেকলো ২০এমজি, ১ লাখ ১৬ হাজার ৬২০ পিস ফিনিক্স ২০ এমজি, ৩৯ হাজার ৭২০ পিস লোসেকটিল ২০এমজি, ২৮ হাজার ৪২০ পিস প্যানটোনিক্স ২০এমজি, ৬ হাজার পিস ইটোরিক্সের নকল ওষুধ জব্দ করা হয়েছে।

এযাবৎকালের সবচেয়ে বেশি নকল ওষুধ জব্দের সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে এ অবৈধ কারবারের সঙ্গে জড়িত চক্রের ১০ সদস্যকে।

পুলিশ জানিয়েছে, এসব নকল ওষুধ তৈরি করা হতো আটা, ময়দা ও বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ মিশিয়ে। জনপ্রিয় ও বহুল প্রচলিত বেশকিছু ওষুধ নকল করে বাজারজাত করত চক্রটি।

কুমিল্লার কাপ্তান বাজারের একটি ইউনানি ওষুধ কারখানায় এসব নকল ওষুধ তৈরি করে গুদামজাত করা হতো ঢাকার সাভারে। সেখান থেকে বিপণনের জন্য নেওয়া হতো রাজধানীর মিটফোর্ড এলাকায়।

উল্লেখ্য, দেশের সর্ববৃহৎ ওষুধ বিপণন কেন্দ্র ঢাকার মিটফোর্ড এলাকার ওষুধ বাজার নকল, ভেজাল, মানহীন ওষুধের কেন্দ্র হয়ে ওঠার খবর ইতঃপূর্বেও আলোচিত হয়েছিল।

অতীতে ক্ষতিকর ওষুধের বিরুদ্ধে এ মার্কেটে অভিযান চালাতে গিয়ে বাধার সম্মুখীনও হতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের। শুধু তা-ই নয়, মিটফোর্ডের ওষুধ ব্যবসায়ীরা মার্কেট বন্ধ করে অবরোধ পালন করেছেন, সারা দেশে ওষুধের দোকানে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন-এমন ঘটনাও অতীতে ঘটেছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত এক বছরে নকল ওষুধ তৈরি এবং বিক্রির অভিযোগ ১৫টি মামলায় ৩০ জনেক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বহুল প্রচলিত ওষুধ এবং ৫টি নামি দামি কোম্পানির ওষুধ রয়েছে। এসব আসামির প্রায় সবাই ২ থেকে ৩ বছর ধরে নকল ওষুধের কারবার করে আসছে।

ফলে চিকিৎসক ও রোগীর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা কমে যাচ্ছে। শুধু নামি দামি ওষুধের কোম্পানির নয় বরং নাম সর্বস্ব ইউনানি কোম্পানিগুলোও এ নকল ওষুধের কারবারে জড়িয়ে পড়ছে। ইতোমধ্যে প্রায় ৮০টি সন্দেহজনক ইউনানি কোম্পানির ব্যাপারে ওষুধ প্রশাসনকে ডিবি তথ্য দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তুলনামূলক বেশি দাম আর প্রতিনিয়ত ব্যবহার হয় এমন ওষুধের ক্ষেত্রেই ঝুঁকি বেশি। তাই দরকার সর্বস্তরে সচেতনতা। বিষয়টি আমলে নিয়েই চলমান অভিযানের পাশপাশি আরো কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার কথা ভাবছে কর্তৃপক্ষ।

গত কয়েকদিনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান যেন চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে নিয়ন্ত্রণহীন ওষুধের বাজার। প্রায় প্রতিটি অভিযানেই মিলছে নকল ওষুধ। ইসসুলিন, ক্যানসার প্রতিরোধ, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ কিংবা অস্ত্রপচারে ব্যবহৃত ওষুধই এসব তালিকায় এগিয়ে। আর এক্ষেত্রে ট্যাবলেট কিংবা ক্যাপসুলের চেয়ে বেশি ধরা পড়ছে ইনজেকশন। যা অতন্ত্য আশংকাজনক।

রংপুর মেডিকেল মোড়ে কথা হয় ওষুধ ক্রেতা তৌহিদুল ইসলাম, জুবায়ের, রওশনের সঙ্গে তারা জানান, গ্রাহক পর্যায়ে মান যাচাইয়ের সুযোগ না থাকায় এক রকম অন্ধ বিশ্বাসেই ওষুধ কিনতে হচ্ছে তাদের।

সরকারের উচিত পাবলিক যেন কোনো উপায়ে মান যাচাই করতে পারে। আসল ও নকল চিনতে পারে সে উপায় খুঁজে বের করা। কেননা, নকল ওষুধগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, আসল না নকল বুঝার সাধ্য থাকে না।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন বিএমএ’র সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. তারেক মেহেদী পারভেজ জানান, এসব খবর আমাদের কাছে প্রতিদিনই আসে।

আমরা বিভিন্ন অভিযান পরিচালিতও হতে দেখি। কিন্তু এটি একটি কঠিন সিন্ডিকেট। বিশেষ করে মিটফোর্ড এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হতে দেখি। এসব জায়গায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বিভিন্ন বাধারও সম্মুখিন হতে হয়।

শুধু তাই নয় মিটফোর্ডের ওষুধ ব্যবসায়ীরা মার্কেট বন্ধ রেখে অবরোধও পালন করেন। এটা একটা কঠিন সিন্ডিকেট এখানে ওষুধ প্রস্তুতকারী, বিপণনকারী, ওষুধ ব্যবসায়ী যেমন জড়িত তেমনি প্রভাবশালী মহলও জড়িত। কিন্তু আমাদের মনে রাখতে হবে।

ওষুধ মানুষের জীবন রক্ষা করে। এটিতেই যদি ভেজাল থাকে তাহলে মানুষ কি করবে? তাই আমাদের আহ্বান থাকবে ভেজাল বা নকল ওষুধ যাতে কোনোভাবেই বাজারজাত হতে না পারে সে বিষয়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা।

তিনি আরও বলেন, আমাদের অনেক ওষুধের দোকানেরই লাইসেন্স বা অনুমোদন নেই। এ কারণে সেসব দোকানের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে নকল ও ভেজাল ওষুধ। এতে জনস্বাস্থ্য পড়ছে হুমকির মুখে। এসব ওষুধ বিপণনের জন্য রয়েছে বিশেষ নেটওয়ার্ক।

সেই নেটওয়ার্কই সব ধরনের কাজ করে থাকে। কাজেই দেশে নকল ও ভেজাল ওষুধের কারবারিদের নির্মূল করতে হবে যে কোনো উপায়ে। এজন্য ওষুধের বাজারে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। নকল ওষুধের সব কারখানা খুঁজে বের করতে হবে গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে। এ ধরনের ওষুধের বিক্রেতাদেরও আনতে হবে কঠোর শাস্তির আওতায়।

বিএসএমএমইউ’র ফার্মালোজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, বাংলাদেশে নকল ওষুধে বাজার ভরে যাওয়ার আশঙ্কা অনেক। চিকিৎসক ও রোগী উভয়কেই সচেতন হতে হবে।

স/এষ্