ফায়দা নিচ্ছে পাইকার-ফড়িয়া হতাশায় কৃষক!
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ।। বোরোর বাম্পার ফলনে হাসি সুনামগঞ্জের কৃষাণ কৃষাণীর মুখে। অনেক বছর পর এমন সোনার বৈশাখের পরশে আনন্দের জোয়ার হাওরের ঘরে ঘরে। ধানের আশানুরূপ উৎপাদনে কৃষকের গোলায় ভর্তি হলে ধানের খুচরা মূল্যে হতাশা কৃষকের মাঝে। ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না কৃষকরা।
ধানের নির্ধারিত সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে ধানের মূল্যের সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশনা না থাকায় ফায়দা লুটছে স্থানীয় পাইকা ও ফড়িয়া সিন্ডিকেট।
এদিকে সরকারিভাবে ১২০০ টাকা মন প্রতি ধান সংগ্রহ করা হলেও এবছর লক্ষ্যমাত্রা কম হওয়ায় মাত্র ৫৮৬৮ জন কৃষক ধান দিতে পারছেন সরকারি গুদামে। ফলে বাধ্য হয়ে কম৷ দামে স্থানীয় পর্যায়ে পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকদের।
স্থানীয় পর্যায়ের একাধিক কৃষক জানান, সরকারি ভাবে ১২০০ টাকা মন ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হলেও খুব কম সংখ্যক কৃষক ধান দিতে পারছে সরকারি গুদামে। ৯৫ ভাগ কৃষক স্থানীয় পাইকার ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করে থাকেন। মোটা ধান মন প্রতি ৯০০ টাকা এবং চিকন অর্থাৎ ২৮,২৯ জাতের ধান ৯৩০-৯৫০ টাকা মনে বিক্রি করছেন কৃষকরা৷ এছাড়াও ধানের সুনির্দিষ্ট কোনো নিয়ম নীতি না থাকায় যে যেমন পারছেন কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করছেন। এতে ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার বীরগাঁও গ্রামের দুলন আহমদ জানান, ময়ালে ধানে৷ বিভিন্ন দাম রয়েছে। একেক পাইকার একেক দামে ধান ক্রয় করছেন। কৃষকরা ধান কাটাতে গিয়ে ধারদেনা করে ঋণ করেছেন। জরুরী প্রয়োজনে অনেক কৃষক পাইকারদের কাছে ধান বিক্রি করছেন।
সদর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের আলী আহমদ বলেন, ধানের উৎপাদন ভালো হয়েছে। সরকার কৃষকের কাছে যে পরিমাণ ধান ক্রয় করছে তা উৎপাদনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। তাই বাধ্য হয়ে অনেক কৃষককে পাইকারের কাছে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই পাইকার ফড়িয়া লাভবান হচ্ছেন।
এদিকে কৃষকদের পাইকার ফড়িয়া খপ্পর থেকে কৃষকদের রক্ষা করে সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্য শতভাগ কৃষকদের ধান ক্রয় করতে সরকার সংশ্লিষ্টদের প্রতি দাবি জানিয়েছে কৃষক সংগঠন হাওর বাঁচাও আন্দোলন।
হাওর বাঁচাও আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক বিজন সেন রায় বলেন, এবার ধানের উৎপাদন অন্যান্য বারের চেয়ে ভালো হয়েছে। উৎপাদনের এই সুযোগে কৃষকদের ব্যবহার করে একদল মধ্যসত্ত্বভোগী শ্রেণী পায়তারা করেন। সরকার ধানের মূল্য নির্ধারন করে দিলেও এই ধামে কৃষকরা ধান বিক্রি করতে পারেননা।
বাধ্য হয়েই দালাল ফড়িয়াদের কাছে ধান বিক্রি করেন। কৃষকরা যাতে তাদের উৎপাদিত ধার ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে পারেন সেক্ষেত্রে শতভাগ ধান সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ক্রয় করতে হবে। দালাল ফড়িয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ ব্যাপারো জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, সরকারি ধানের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে। তার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই ধান কেনা বেচা করতে হবে। কোথাও দালাল ফড়িয়াদের দ্বারা কৃষক হয়রানির স্বীকার হচ্ছেন এমন অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
এবার সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় সরকারি ভাবে ধান ক্রয়ের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৭ হাজার ৪৮৩ মেট্রিক টন এবং চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা ৯ হাজার ৬৭৬ মেট্রিক টন। প্রতি কেজি ধানের মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ৩০ টাকা কেজি।
একজন কৃষক সর্বনিম্ন ১২০ কেজি এবং সর্বোচ্চ ৩ মেট্রিক টন ধান বিক্রয় করতে পারবেন। জেলার লটারিতে নির্বাচিত কৃষকদের কাছ থেকে ধান চাল সংগ্রহ করা হবে। জেলায় ৭ মে পর্যন্ত ধানের উৎপাদন হয়েছে ১২ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৫২ মেট্রিক টন।
স/এষ্

