সড়ক দাঁপিয়ে বেড়াচ্ছে মরণযান কাঁকড়া, নীরব প্রশাসন
সুদীপ্ত শামীম, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি : গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলি-গলি পর্যন্ত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে মরণযান ট্রাক্টর (কাঁকড়া)। প্রায় দিনই ঘটছে দুর্ঘটনা, প্রতি মুহূর্তে আতঙ্কে থাকছে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের বাবা-মা। প্রাণ যাচ্ছে নিরীহ অসহায় মানুষের। আর পকেট ভারি করছে প্রভাবশালী ও অসাধু ব্যক্তিরা।
প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর হতে গভীর রাত পর্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে উপজেলা শহরের ব্যস্ততম সকল রাস্তার সবখানে এই মরণযান অবৈধ ট্রাক্টর (কাঁকড়া) সগৌরবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। চালকের লাইসেন্স তো দূরের কথা চালানোর নেই কোনো অভিজ্ঞতা। অল্পবয়সী কিশোরদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে কাঁকড়া নামের এসব যন্ত্রদানবের স্টিয়ারিং। আইন অমান্য করে তথাকথিত উন্নয়নের কথা বলে এসব কাঁকড়া চলাচলের ফলে একদিকে যেমন জীবন হারাচ্ছে পথচারী সেই সঙ্গে নষ্ট হচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত রাস্তাঘাট। এ যেন রামরাজত্ব, প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে থাকে।
যে ট্রাক্টর আমদানি হলো চাষাবাদের জন্য সেই ট্রাক্টর এখন অবৈধ ট্রাক বা পরিবহন হয়ে শহর ও গ্রামীণ জনপদের ক্ষতি সাধন করছে। গ্রামের কাঁচা সড়কে অবৈধ ট্রাক্টর চলাচলের কারণেই ধূলিকণা সৃষ্টি করে। আর এই ধূলোর মধ্যে দিয়ে জনসাধারণ চলাফেরা করায় শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
উপজেলার পৌরসভাসহ ১৫টি ইউনিয়নের প্রায় কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাটের বর্তমান পরিস্থিতি আজ এমন। জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা যেন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। শুধু কি তাই অবৈধ এই যন্ত্রদানব বেপরোয়া গতিতে চলাচলের সময় প্রতিনিয়ত ঘটাচ্ছে শব্দ দূষণও। শব্দ দূষণের কারণেই রাস্তায় চলাচলকারী জনসাধারণ, আশপাশে থাকা গ্রামের মানুষ ও শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে।
জানা যায়, উপজেলার প্রতিটি ইট ভাটার ইট, মাটি ও বালি পরিবহনের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর।
এছাড়াও অনেকেই নিজের বসতবাড়ি করার জন্য ডোবা কিংবা পুকুরে মাটি ভরাট করছেন এসব ট্রাক্টরে মাধ্যমে। আবার দেশে যেকোন নির্বাচনী হাওয়া বইলে দেখা যায় নির্বাচনের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি ভোট কেন্দ্রে আনা-নেওয়া করেন এই যন্ত্রদানব অবৈধ ট্রাক্টরের (কাঁকড়া) মাধ্যমেই। অথচ নেই কোনো বৈধ রোডপার্মিট ও গাড়ি চালকের নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। ড্রাইভিং লাইসেন্সের প্রয়োজন না হওয়ায় ১৪-১৮ বছরের কোমলমতি শিশু কিশোরদের দিয়েও ট্রাক্টর চালানো হচ্ছে। ট্রাক্টর-ট্রলি সড়কে চলাচলের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও এ যন্ত্রদানবের চালকরা তা মানছেই না। দ্রুতগতির ফলে সড়কগুলোতে প্রতিদিন দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে।
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো ফল হয়নি। বরং প্রভাবশালীদের হুমকিতে প্রশাসনকে ও চুপসে যেতে হয়েছে। প্রভাবশালীরা বীরদর্পে আগের চেয়ে বহু গুণে এসব মরণ যান সড়কে নামিয়ে মাটি, বালি তুলে মাটির শ্রেণি পরিবর্তন করে চলেছে। মাটি হারাচ্ছে ফসল ফলানোর ক্ষমতা। জমির পাশ দিয়ে বালি মাটি বহনের ফলে ধূলা মাটি উড়ে পড়ছে ফসলের ওপর। ফলে জমির ফলন ব্যাপকহারে হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
দুর্ঘটনার শিকার একাধিক মোটরসাইকেল আরোহী জানান, প্রতিদিন এসব কাঁকড়া জমি থেকে মাটি নিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে যাওয়ায় কিছু মাটি রাস্তায় পরে যায়, ঘন কুয়াশায় রাস্তায় পরে থাকা মাটিগুলো খুবই পিচ্ছিল হয়ে থাকে ফলে প্রতিদিন অসংখ্য মোটরসাইকেল চালক দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে এবং ইতিমধ্যে অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করেছে।
আইন অমান্য করে মরণযান এসব কাঁকড়া রাস্তায় চলাচল করলেও অদ্যাবধি অদৃশ্য কারণে প্রশাসন আইনগত কোণো ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না বলে অভিযোগ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকগণ।
সচেতনমহল মনে করছে এখনই যদি এ যন্ত্রদানবকে থামানো না যায় তাহলে মৃত্যুর মিছিল এবং পঙ্গু লোকের সারি আরও অনেক বড় হবে। সন্তান হারাবে তাদের পিতা-মাতা। আর পিতা মাতা হারাবে তাদের আদরের সন্তানদের। মেধাবী শিক্ষার্থী হারা হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। শোকের মিছিলে পরিণত হবে সড়ক। সেই সঙ্গে সরকারের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের রাস্তাগুলো হবে চলাচলে অযোগ্য।
স/এষ্

