লালমনিরহাটে পানি বন্দী পরিবার গুলোর ভাগ্যে এখনো এান জোটেনি চরম দুর্ভোগে
লাভলু শেখ লালমনিরহাট থেকে।। উজানের পাহাড়ী ঢল ও টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটের তিস্তার নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছিল। বন্যায় আক্রান্ত লালমনিরহাট জেলার পানি বন্দী পরিবার গুলোর ভাগ্যে এখনো এান জোটেনি চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছে । গত ৬ দিনের ধেয়ে আসা বন্যার পানিতে জেলার ৫ উপজেলায় প্রায় ৩০ হাজার পরিবার পানি বন্দী হয়ে পরছিল। সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টায় লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোড জানান, বিকেল ৩ টায় বিপদসীমার তিস্তার পানি ৪২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে এবং ধরলার পানি ১২২সেন্টিমিটার বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
তবে রোববার ভোর রাত থেকে পানি কিছু টা কমতে শুরু করলেও এখনো ওই সমস্ত পরিবার পানি বন্দী রয়েছে। তাদের মাঝে শুকনো খাবার ও তাৎক্ষণিক চাল বিতরণ করা জরুরি হলেও এখনো কোন সরকারী কিংবা বেসরকারী ভাবে কোন এান সামগ্রী বিতরণ না করায় বন্যায় কবলিত পরিবার গুলো ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এ বছরের পঞ্চম দফা বন্যায় জেলার পাটগ্রাম, হাতিবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার তিস্তা নদীর তীরবর্তী অঞ্চলে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হওয়ার পূবাভাস দিয়েছিল পাউবো লালমনিরহাট।
তিস্তার নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী,দোয়ানী,ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গামারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া,হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি,আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা,কালমাটি,পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ,কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি,রাজপুর,গোকুণ্ডা ইউনিয়নের তিস্তা এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ফলে নির্ঘুম রাত কাটাতে হচ্ছে তাদের।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করা এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে বলে জানিয়েছিল।
লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপরে প্রবাহিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সব রকম প্রস্তুতি রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। সোমবার ৫ সেপ্টেম্বর জেলা এান অফিস জানান, লালমনিরহাট সদর উপজেলায় গত ৬ দিনে পানি বন্দী ৬ হাজার ৩ শ ৫ টি পরিবারের তালিকা পেয়েছেন এর মধ্যে ৩শ পরিবার এর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও বরাদ্দ না দেয়ায় এখনো এান বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।
তালিকা যাচাই- বাচাই করে এর পর বরাদ্দ দেয়া হবে । এদিকে পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ ও আদিতমারী উপজেলার পানি বন্দীদের তালিকা এখনো পাওয়া যায়নি বলে এান অফিস জানান। সংশ্লিষ্ঠ ইউপি চেয়ারম্যানদের তথ্য মতে, জেলা জুড়ে প্রায় ৩০ হাজার পরিবার এখনো পানি বন্দী রয়েছে । তবে পঞ্চম বারের মতো লালমনিরহাটে বন্যায় মারাত্নক ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূএে জানা গেছে। এদিকে পানি বন্দী পরিবার গুলোর জন্য এখনো সরকারি কোন বরাদ্দ দেয়া হয়নি।
ফলে পানি বন্দী পরিবার গুলোর দুর্ভোগের যেন শেষ নেই। তারা ঠিক মতো রান্না করতেও পারছে না। গবাদিপশু নিয়েও চরম বিপাকে পরেছে। তিস্তা ও ধরলার পানি হঠাৎ কখনো বাড়ে আবার কখনো কমে। অপর দিকে তিস্তা ও ধরলার ভাংঙ্গনও দেখা দিয়েছে তীব্র । গত কয়েক দিনে শতাধিক বাড়ী- ঘর নদী ভাংঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। রোববার ভোর রাত থেকে পানি কিছু টা কমতে শুরু করলেও এখনো বাড়ীতে ফিরে যেতে পারেনি পানি বন্দী পরিবার গুলো।
এসব পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছেন। লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ খায়রুজ্জামান বাদল মন্ডল জানান, কিছুটা পানি কমতে শুরু করলেও এখনো বাড়ীতে ফিরে যেতে পারেনি পানি বন্দী পরিবারের লোক জন। তিনি এদের সাহায্যের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স/এষ্

