ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৫ আগস্ট ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে মিয়ানমার!

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
আগস্ট ২৫, ২০২২ ৭:১৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে মিয়ানমার!

বিশেষ প্রতিনিধি : মিয়ানমারের রাখাইন থেকে দেশটির সেনাবাহিনীর গণহত্যা-নির্যাতনের মুখে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পালিয়ে আসার ৫ বছর পূর্ণ হলেও এখনো শুরু হয়নি প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া। কূটনৈতিক জটিলতায় রোহিঙ্গাদের ফেরানোর প্রক্রিয়াতে যত দেরি হচ্ছে, ততই ক্যাম্পগুলোতে বাড়ছে অপরাধ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে, অপহরণ, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সশস্ত্র রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা ক্যাম্পে মাঝেমধ্যেই অপরাধ কর্মকাণ্ড ঘটাচ্ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, খুনোখুনি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মানবপাচার, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং ধর্ষণসহ ১৪ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। গত ৫ বছরে ক্যাম্পগুলোতে ১১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।

অভিযোগ আছে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার কথা মুখে বললেও ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। যাতে করে আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ করে প্রত্যাবাসন ঠেকানো যায়। খোদ রোহিঙ্গারাই বিভিন্ন সময় এমন অভিযোগ তুলেছেন। এমন পরিস্থিতিতেই চলতি বছরের শেষে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরুর আশা করছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, পুরো প্রক্রিয়া না জেনে না বুঝে যাতে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা না হয়।

  • ১৪ অপরাধে লিপ্ত রোহিঙ্গারা

  • ৫ বছরে ১১৫টি হত্যাকাণ্ড

  • ২৪৩৮টি মামলায় আসামি ৫২২৬ জন

  • কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

 

৫ বছরে ১১৫টি হত্যাকাণ্ড:
পুলিশের তথ্যমতে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট থেকে ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট পর্যন্ত গত ৫ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ১১৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুধুমাত্র গত ৪ মাসেই এখানে ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটে। আর চলতি আগস্ট মাসে খুন হয়েছেন দুই রোহিঙ্গা নেতাসহ ৫জন।

গত ৯ আগস্ট আবু তালেব ও সৈয়দ হোসেন নামে দুই রোহিঙ্গা নেতাকে হত্যা করা হয়। ৮ আগস্ট টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মো. ইব্রাহীম নামে এক রোহিঙ্গাকে হত্যা করা হয়।

গত ১ আগস্ট একই ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত হন হাবিব উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা। ৪ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া ১ আগস্ট বিকালে উখিয়ার মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নুরুল আমিন নামে এক রোহিঙ্গাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

এর আগে গত ২২ জুন কথিত আরসা নেতা মোহাম্মদ শাহ এবং ১৫ জুন একই গ্রুপের সদস্য মো. সেলিম সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত হন। ১৬ জুন রাতে উখিয়া ক্যাম্পে দুর্বৃত্তের গুলিতে মো. সলিমুল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা যুবক নিহত হন। ১০ জুন কুতুপালংয়ের চার নম্বর ক্যাম্পের স্বেচ্ছাসেবক মোহাম্মদ সমিন (৩০) এবং ৯ জুন রোহিঙ্গা নেতা আজিম উদ্দিনকে (৩৫) কুপিয়ে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। মে মাসে খুন হন রোহিঙ্গা নেতা সানা উল্লাহ (৪০) ও সোনা আলী (৪৬)।

৫ বছরে আড়াই হাজার মামলা:
পুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত ৫ বছরে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দুই হাজার ৪৩৮টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা পাঁচ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে অস্ত্র মামলা ১৮৫টি, মাদক মামলা এক হাজার ৬৩৬টি, ধর্ষণ মামলা ৮৮টি, হত্যা মামলা ১১৫টি, অপহরণ ও মুক্তিপণ সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৩৯টি।

১৪ অপরাধে জড়িত রোহিঙ্গারা:
কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, গত ৫ বছরে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অপরাধ মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে। এই সময়ের মধ্যে ১১৫টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। আমরা পর্যালোচনা করে দেখেছি, রোহিঙ্গারা খুনোখুনি, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, মানবপাচার, অপহরণ, অগ্নিসংযোগ, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই এবং ধর্ষণসহ ১৪ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত।
রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে মিয়ানমার!

অভিযোগ পাওয়া গেছে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গা ফিরিয়ে নেওয়ার কথা মুখে বললেও ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের মদদ দিচ্ছে। যাতে করে আন্তর্জাতিক মহলে রোহিঙ্গাদের সন্ত্রাসী হিসেবে প্রমাণ করে প্রত্যাবাসন ঠেকানো যায়।

রোহিঙ্গা নেতা হামিদ হোসেন খোলাকাগজকে বলেন, দীর্ঘ সময় প্রত্যাবাসন না হওয়ার কারনে অনেক রোহিঙ্গারা এখন ভুলতে বসেছে যে তাদের একটি দেশ আছে। মিয়ানমার আসলে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিবে সে বিশ্বাস রোহিঙ্গাদের মধ্যে থেকে উঠে গেছে। আর তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত রাখাইন ফিরে যেতে রাজি না।

হামিদ অভিযোগ করে বলেন, ক্যাম্পে এখন খুনাখুনিসহ যে বিশৃঙ্খলা ঘটছে খবর নিলে দেখবেন এতে মিয়ানমার সেনা বাহিনীর মদদ রয়েছে। ইয়াবা ব্যবসায়ী রোহিঙ্গারা প্রায় সবাই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সোর্স হিসেবে কাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে নিরাপত্তা বিশ্লেষক সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর অব. মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম বলেন, আমার মনে হয় মিয়ানমার সরকারই রোহিঙ্গাদের কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে উস্কে দিয়ে ও সহযোগীতা করে ক্যাম্পে খুনাখুনি বা সন্ত্রাসবাদ করছে। কারণ তারা বিশ্ববাসীকে দেখাতে চায় রোহিঙ্গারা সন্ত্রাসী। রোহিঙ্গা সন্ত্রাসবাদ থেকে চিরতরে মুক্তির এক মাত্র সমাধান হচ্ছে প্রত্যাবাসন। তবে এই মুহূর্তে দ্রুত প্রত্যাবাসন খুব দুরুহ ব্যাপার। এ জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধি করতে হবে।

উখিয়া রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরী বলেন, মানবিকতা দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া হয়েছে আমাদের দেশে। এটি খুব সাময়িক। কিন্তু দীর্ঘ পাঁচ বছর এভাবে বাংলাদেশের মাটিতে পড়ে থাকবে তারা, এটি মেনে নেওয়া যায় না। কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠাতে হবে। এখানে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড বেড়েছে। তাদের দমানো যাচ্ছে না।

প্রত্যাবাসনের সময় চাপ প্রয়োগকারী দেশগুলোর উপস্থিতি জরুরি:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রত্যাবাসনের সময় চাপ প্রয়োগকারী দেশগুলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। নতুবা লোকদেখানো প্রত্যাবাসনের পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে এই প্রক্রিয়া।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, একটা গণহত্যা হয়েছে সেখানে, তড়িঘড়িভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করলে তারা (মিয়ানমার) চেষ্টা করবে বোঝাতে যে, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সঠিক ছিল না। তড়িঘড়িভাবে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যাওয়া ঠিক হবে না। বরং যখন প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় যাবে, তখন আরও কতগুলো দেশকে ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে। আসলেই মিয়ানমারকে বিশ^াস করার একটা বড় অনিশ্চয়তা সেখানে আছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা মিয়ানমারের ফাঁদে পড়ে যেতে পারি।

কারণ মিয়ানমার ৫ বা ১০ হাজার রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করবে যে, তারা জেনোসাইড চালায়নি। জেনোসাইড মানেই হচ্ছে ইনটেন্ট টু ডেস্ট্রয়। বলতে পারে, আমরা তো লোক নিয়েছি। আমরা তো ডেস্ট্রয় করতে চাইনি। আরও বলতে চাইবে যে, অন্যদের ঠিক মতো রেজিস্ট্রেশন হয়নি। তাদের নেয়া সম্ভব নয়। তাই পুরো প্রক্রিয়া না জেনে, না বুঝে যেন প্রত্যাবাসন শুরু না হয়, সেদিকটা অবশ্যই সতর্কতার সঙ্গে দেখতে হবে।

স/এষ্