জ্বালানির দাম বাড়ায় দিশেহারা সাধারণ মানুষ
মতিউর রহমান হিরা : সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম রাতারাতি ৪২ থেকে ৫২ শতাংশ বাড়িয়ে দেওয়ায় ইতোমধ্যে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে সারাদেশে। ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। হঠাৎ করেই অনেক রুটে যানবাহন চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে যাত্রীরা। এরমধ্যে অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের বাজারও।
ক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের ওপর প্রভাব পড়েছে। কিন্তু কোনও কিছুই যেন করার নেই তাদের। নিরুপায় হয়ে তাই কিনতে হচ্ছে পণ্য। অন্যদিকে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়া বিক্রি কমে যাচ্ছে বলে অভিযোগ বিক্রেতাদের। জ্বালানি তেলের দামের প্রভাব এখন বাজারে না পড়লেও করোনার পর দফায় দফায় দাম বৃদ্ধিতে আগের তুলনায় অনেকাংশে ক্রেতা কমেছে বলে জানান তারা।
কারওয়ান বাজারের এক ক্রেতা জানান, বাজারে এসে দেখি সব কিছুর চড়া দাম। কিন্তু উপায় তো নেই। তারা বলেছে (বিক্রেতা) রাতে সব কিছুর দাম ডাবল হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের তো নিতে হবে কিছুই করার নেই।
আরও এক ক্রেতা জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সবকিছুর দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাওয়া এর প্রভাব সব জায়গায় পড়বে। আগের থেকে প্রায় দ্বিগুণ দামে পণ্য কিনতে হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে বাজারে ক্রেতা কমে যাওয়ায় ব্যবসায়ে লোকসান গুনতে হচ্ছে বিক্রেতাদের। তারা বলছেন, দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতা কমছে। আগের তুলনায় বিক্রয় কমে গেছে। মানুষ গ্রামমুখি হচ্ছে তাই ক্রেতার পরিমাণ কমছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
সর্বশেষ ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর ডিজেল ও কেরোসিনের দাম বাড়ানো হয়। সেই সময় এই দুই জ্বালানির দাম লিটার প্রতি ৬৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮০ টাকা করা হয়। ৮ মাসের ব্যবধানে আবার বাড়ানো হলো তেলের দাম। তবে ওই সময় পেট্রোল আর অকটেনের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এবার সব ধরনের জ্বালানি তেলেরই দাম বাড়ানো হলো। এবার লিটার প্রতি ডিজেল ৮০ টাকা থেকে ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, কেরোসিন ৩৪ টাকা বেড়ে ১১৪ টাকা, অকটেন ৪৬ টাকা বেড়ে ১৩৫ টাকা এবং পেট্রোল ৪৬ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে নিম্নমুখী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর অনুসারে, গত শুক্রবার অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেলে ৮০ সেন্ট বেড়ে হয়েছে ৯৪ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলার, যা আগের শুক্রবারের তুলনায় ১১ শতাংশ কম। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম ব্যারেলপ্রতি ৪৭ সেন্ট বেড়ে হয়েছে ৮৯ দশমিক ০১ ডলার, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় আট শতাংশ কম।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ব্রেন্টের দাম ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছিল ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ১২ ডলার, যা ২১ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন। আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে হয়েছিল ৮৮ দশমিক ৫৪ ডলার, যা ৩ ফেব্রুয়ারির পর থেকে সর্বনিম্ন।
স/এষ্

