মিরসরাইয়ে অবৈধ বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী মহল
উপজেলা প্রতিনিধি মিরসরাই : চট্টগ্রামে মিরসরাই উপজেলার হিঙ্গুলিছড়া থেকে অবৈধ বালু উত্তোলন করার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের। অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে হচ্ছে ছড়ার ভাঙ্গন অপরদিকে ফসলী জমি ভরাট করা হচ্ছে বালু উত্তোলনের মাধ্যমে।উপজেলা প্রশাসনের তথ্য মতে হিঙ্গুলী ছড়া থেকে কোন পয়েন্টে বালু তোলার অনুমোদন নেই।
উপজেলার হিঙ্গুলী ইউনিয়নের রসুলপুর ব্রিজের পশ্চিম পাশে হিঙ্গুলিছড়া থেকে একটি পাম্প মেশিন মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে জমি ভরাট করতে দেখা গেছে। বালু উত্তোলনের ফলে একদিকে চাষের জমি ভরাট হচ্ছে অপরদিকে ছড়ার ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে পান চাষীদের বরজ এবং অন্যান্য ফসলাদি জমি।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায হিঙ্গুলী ছড়ার তিনটি পয়েন্ট থেকে পাম্প মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের ফলে ছড়ার আশপাশ ভেঙ্গে পড়ছে। পার্শ্ববর্তী লোকজনকে জিজ্ঞেস করলে রসুলপুর ব্রিজের সামনে থেকে বালু তুলছে বারইয়ারহাট পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল হক মাসুদ। অপরদিকে মেহেদী নগর গ্রামের ফরেস্ট অফিসের সামনে থেকে আরেকটি পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করছে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম রানা। এলাকার লোকমুখে শোনা যায় এটি সোহাগ নামে এক যুবলীগ নেতা তুলছেন । কিন্তু সোহাগ বর্তমানে জেল হাজতে আছেন তার অবর্তমানে ওই এলাকার মেম্বার তার ভাই রানা পরিচালনা করছেন।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে কমিশনার মাসুদ মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি প্রথমে স্বীকার করলেও পরবর্তীতে অস্বীকার করে জানান এলাকার ছোট ভাইয়েরা বালু তুলছেন।
অপরদিকে ফরেস্ট অফিসের সামনে থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে ৬ নং ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম রানা বালু তোলার বিষয়টি স্বীকার করে মুঠোফোনে জানান আমার বালু তোলার অনুমতি আছে। কিন্তু কে বা কারা অনুমতি দিছে এটা স্পষ্ট করে বলেন নাই তিনি।
বালু উত্তোলনের বিষয়ে হিঙ্গুলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সোনামিয়া সওদাগরের কাছে জানতে চাইলে উনি জানান কে কোথায় বালু উত্তোলন করছে আমার জানা নাই। আমি বাজারের বাহিরে আর কোথাও যায় না। আমার কথা কেউ শুনতেও রাজি না। আমাদের এমপি মহোদয় ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেছেন হিঙ্গুলী ছড়া থেকে কেউ যেন বালু না তুলে। তবে কেউ আমার কথা শুনে না।প্রশাসনকে কয়েকবার আমি জানিয়েছি উনারা ব্যবস্থা নেয় নাই।
অবৈধ বালু উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিনহাজুর রহমান জানান হিঙ্গুলী ছড়া থেকে বালু তোলার কোন অনুমোদন নেই। আমরা যে কোন সময় অবৈধ বালু খেকোদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
স/এষ্

