মুন্সীগঞ্জে হাসপাতালের সামনে জলাবদ্ধতা-ভোগান্তিতে রোগী ও তাদের স্বজনরা
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: সামান্য বৃষ্টি হলেই মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের প্রাঙ্গণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের চারপাশে থাকা পানি নিষ্কাশনের ড্রেনগুলোতে ময়লা আবর্জনার কারণে জমে থাকা পানি থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনা।
তারা আরো জানান, জেলার ৬টি উপজেলা থেকে হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা সেবা নিতে আসেন। ভাড়ী বৃষ্টি হলে বৃষ্টির পানি সরতে বেশ কয়েকদিন লেগে যায়। ড্রেনগুলোতে পানি ও ময়লা আবর্জনা জমে থাকার কারণে এডিস মশার লাভা সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
কিন্তু সামান্য বৃষ্টিপাত হলেই মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সামনে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাসপাতালের সামনে থাকা খালি জায়গার ওপর জমে থাকা ময়লা পানি মাড়িয়ে প্রতিদিন হাসপাতালে আসা যাওয়া করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
এছাড়াও রোগীদের বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। জলাবদ্ধতার মাঝে অ্যাম্বুলেন্স থেকে রোগীদের ট্রলিতে করে হাসপাতালে নিতে কষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালটির পুরাতন ভবন, নতুন ভবনের চারপাশে থাকা ড্রেনগুলোতে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন।
সেখানে ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন এবং পরিত্যক্ত প্লাষ্টিকের ব্যাগ, ডাবের খোসা, রোগীর ব্যবহৃত স্যালাইনের প্যাকেট আটকে ড্রেনগুলো জ্যাম হয়ে আছে । নিয়মিত ড্রেনগুলো পরিষ্কার না করায় ড্রেন দিয়ে পানি সরতে পারছে না। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনের ওপর ময়লা পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
সেখানে ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ। মশা জন্মানোর উপযুক্ত স্থানে পরিনত হয়েছে হাসপাতালের বাইরের পরিত্যাক্ত স্থানগুলো।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, ৪/৫ দিন আগের বৃষ্টির পানি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন স্থানে জমে আছে। দু”একদিন পর পর ভারী বৃষ্টি হওয়ার কারণে সেখানে স্থায়ীভাবে পানি জমে স্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে জমে আছে বৃষ্টির পানি।
হাসপাতালের চারপাশে থাকা ড্রেনগুলোতে আটকে রয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত পানি। সেখানে ময়লা আবর্জনায় পরিপূর্ণ। কোনভাবে ড্রেনের সম্পূর্ণ পানি ড্রেনগুলো থেকে অপসারণ হচ্ছেনা। সেখানে মশার লাভা সৃষ্টি হচ্ছে। মশা মাছিগুলো ময়লা আবর্জনার উপর ভন ভন করছে।
হাসপাতালে প্রবেশের দুইটি গেট দিয়ে ভিতরে প্রবেশের সময় সকলেই জলাবদ্ধতার কারণে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালে অল্প বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। অ্যাম্বুলেন্স বা ব্যাটারিচালিত অটো ও সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহন থেকে পানির মধ্য দিয়ে রোগীকে ট্রলিতে তুলতে কষ্ট হয়। যার কারণে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের ভোগান্তি আরও বেড়ে যায়।
এছাড়াও হাসপাতালে যাতায়াতে রোগী ও রোগীর স্বজনদের পানি মাড়িয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। হাসপাতালের সামনে জলাবদ্ধতার কারণে এখানে পানিবাহিত রোগ ডেঙ্গু ও ডায়রিয়াসহ নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর স্বজন মমিন আলী সিকদার জানান, হাসপাতালের সামনে বিভিন্ন স্থানে পানি জমে থাকে। ড্রেনগুলোতে আটকে থাকা পানিগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সেখানে মশা জন্ম নিচ্ছে। কিন্তু ড্রেনগুলো পরিস্কার করা হচ্ছেনা। হাসপাতালের সামনে জমে থাকা পানিগুলোও অপসারণ করা হচ্ছেনা।
তিনি আরও জানান, নোংরা পানি মাড়িয়েই হাসপাতালের ভিতরে – বাইরে যেতে হচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত সময়ে জলাবদ্ধতা দূর করার পাশাপাশি ড্রেনগুলো পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, হাসপাতালের চারপাশে থাকা ড্রেনগুলো পরিস্কার ও হাসপাতালের সামনে জমে থাকা বৃষ্টির পানি অপসারণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স/এষ্

