ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ জুন ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে ব্রিজের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোতে চলছে পারাপার

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুন ২৩, ২০২২ ৪:১৮ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে ব্রিজের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোতে চলছে পারাপার

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার রামপাল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সুখবাসপুর মাষ্টারবাড়ী জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে থাকা খালের উপর ব্রিজ না থাকার কারণে কৃষক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তারা জানান, সুখবাসপুর – টঙ্গীবাড়ী প্রধান সড়কের পাশ দিয়ে পশ্চিম দিয়ে মাষ্টারবাড়ী জামে মসজিদ হতে খালের তীর পর্যন্ত যাতায়াতে রাস্তাটি বেশ ঝুকিপূর্ণ। খালের উপর ব্রিজ না থাকায় সারাবছর স্থানীয় গ্রামবাসীদেরকে বাঁশের সাঁকো পাড়ি দিতে হচ্ছে।

বিশেষ করে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত সবজি ধলাগাঁও পাইকারি সবজি বিক্রির হাটে নিতে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। স্কুল পড়–য়া শিশু ও বয়স্ক নারীরা ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোটি পাড়ি দিচ্ছেন ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে। খালের উপর দিয়ে বহু বছর ধরে কোন নৌযান চলাচল করছেনা।

এতে করে খালটিতে কচুরিপনা, জলজ উদ্বিদ ও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতায় তৈরি হয়েছে। বাঁশের সাঁকোতে থেকে পড়ে গিয়ে কেউ যদি নিচে পড়ে যায় তাহলে বন্ধ জলাশয়ের নিচে ডুবে যাবে। এতে প্রাণহানী ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান স্থানীয় অনেকে।

জানাগেছে, সুখবাসপুর গ্রামের মানুষ যাতে সুখবাসপুর জামে মসজিদের সামনে দিয়ে টঙ্গীবাড়ী Ñহাতিমারা সড়ক দিয়ে সহজে যাতায়াত করতে পারেন সেজন্য মাষ্টারবাড়ী মজজিদের পশ্চিম পাশে থাকা খালের তীর পর্যন্ত কাঁচা মাটির রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকা না করায় যেমন যান চলাচল করতে পারছেনা।

মানুষ পায়ে হেঁটে সড়কটি পাড়ি দিচ্ছেন। এছাড়াও এলাকায় থাকা আরো তিনটি সড়কে প্রাণ ফিরছেনা শুধুমাত্র একটি ব্রিজের অভাবে।

এলাকার রাস্তাগুলো সংস্কার ও খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ না করার কারণে এলাকার লোকজন যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে সুখবাসপুর এলাকার গ্রামগুলোতে মানুষ সহজে যাতায়াত করতে পারবে। বদলে যাবে এলাকাটির যোগাযোগ ব্যবস্থার চিত্র।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সুখবাসপুর দিঘির পশ্চিম পাশে মাষ্টারবাড়ী মসজিদ ঘেষে পশ্চিম দিকে চিকন একটি রাস্তা চলে গেছে। সুখবাসপুর টঙ্গীবাড়ী সড়ক থেকে পশ্চিম দিকে ২শ মিটার গেলেই খালের উপর একটি বাঁশের সাঁকো। নড়বড়ে বাঁশের সাঁকোটি স্থানীয় গ্রামবাসী ও কৃষকরা চাঁদা তুলে নির্মাণ করেছেন।

সাঁকোটির শুধুমাত্র একপাশে ধরে পাড়ি দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। পায়ের নিচে যাওয়ার জন্য যে বাঁশগুলো ব্যবহার করা হয়েছে, সেগুলো অনেকটাই দুর্বল।

একাধিক পথচারি এক সঙে সাঁকোটি পাড়ি দিতে গেলে ভেঙে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সাঁকোটি দিয়ে বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ , শিশু, কিশোর ও বয়বৃদ্ধদেরকে চলাচল করতে দেখা গেছে। কৃষকদেরকে মাথায় বোঝা নিয়েও সাঁকোটি পাড়ি দিতে দেখা গেছে।

স্থানীয় মুরুব্বি মো. ফজলুল হক জানান, এলাকায় রাস্তাঘাট হয়েছে কিন্তু ব্রিজের কারণে সেই রাস্তাগুলো দিয়ে সুখবাসপুর সড়কে যাতায়াত করা যাচ্ছেনা। সুখবাসপুর খালে ব্রিজ না থাকায় বহু বছর ধরে কৃষক ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাঁশের সাঁকোতে যাতায়াত করছেন।

সাঁকোর নিকটে সরকার কোটি টাকার রাস্তা নির্মাণ করেছে। রাস্তায় গাড়ী চলাচল না করায় রাস্তাগুলোও জঙ্গলে পরিনত হয়ে গেছে। শুধুমাত্র একটি ব্রিজের অভাবে হাজারো মানুষ সারাবছর যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরো জানান, কৃষকরা সবজি মাথায় নিয়ে সাঁকো পাড়ি দিচ্ছে।

অনেকে বাধ্য হয়ে বিকল্প রাস্তায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে হাটে যাচ্ছেন সবজি নিয়ে। খালের উপর ব্রিজ নির্মাণ করা হলে মাত্র ৫মিনিটে আমরা সুখবাসপুর হয়ে ধলাগাঁও বাজারে যেতে পারবো। ব্রিজটি হলে এলাকার রাস্তাগুলোতেও প্রাণ ফিরে আসবে। দ্রুত সময়ে সুখবাসপুর খালের উপর ব্রিজ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।

পথচারি সালমা বেগম বলেন, কাঁচা মাটির সড়কে সারাবছর হেঁটে চলাচল করি। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি লাগে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোতে পাড়ি দিতে। সাঁকোর মাঝখানে গেলে পুরো সাঁকোটি কাঁপে। শিশু বাচ্চারা স্কুলে যেতে ভয় পায়। বৃদ্ধলোকজন বহু কষ্টে সাঁকো পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

তিনি আরো জানান, এলাকার রাস্তাঘাট ভালো না, নেই কোন আলোর ব্যবস্থা। সড়কগুলো ভুতুরে অবস্থা বিরাজ করছে। চারাদিকের গ্রামগুলোতে ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের এলাকাটি এ যেন প্রদীপের নীচে অন্ধকার। খালের উপর ব্রিজটি হলে সেই অন্ধকারটি কেটে যেতো বলেও জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুর রব মেম্বার বলেন, খালের উপর ব্রিজটি খুবই প্রয়োজন। ব্রিজের অভাবে যাতায়াতে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ব্রিজ নির্মাণ হলে হাজারো মানুষের দীর্ঘ দিনের ভোগান্তির অবসান হতো।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, একটি মাত্র ব্রিজের অভাবে হাজারো মানুষ যাতায়াতে ভোগান্তি শিকার হচ্ছে। গ্রামের অভ্যন্তরিন সড়কগুলোতেও প্রাণ ফিরে আসছেনা। মানুষের যাতায়াত ভোগান্তি দূর করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্রিজ নির্মাণে কার্যকরি উদ্যোগ নিবেন। এমনটাই প্রত্যাশা করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

স/এষ্