স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধণের পর এগিয়ে যাবে ফরিদপুরের কৃষিখাত
আবু নাসের হুসাইন, ফরিদপুর : স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সেই সাথে ফরিদপুরের কৃষিতে ব্যাপক সাফল্য ফিরে আসবে। পদ্মা সেতুর প্রভাবে বদলে যাবে এখানকার কৃষি অর্থনীতি।
পাট-পেঁয়াজ আবাদে দেশের মধ্যে ফরিদপুর অন্যতম। যেকারণে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন এখানকার পাট-পেঁয়াজ চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
জেলার কয়েকজন পাট-পেঁয়াজ চাষি ও ব্যবসায়ীর সাথে আলাপকালে তারা জানান- পদ্মা সেতু চালু হলে সালথার প্রধান অর্থকরী ফসল সোনালী আঁশ পাট আর মসলা জাতীয় পেঁয়াজ নিয়ে টেনশনের দিন শেষ হয়ে যাবে। স্বপ্নের পদ্মা সেতু দিয়ে যানজট আর ভোগান্তী ছাড়াই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্নস্থানে অনায়াসে পৌঁছে যাবে কৃষিপণ্য । এতে খরচও হবে অনেক কম।
বিশেষ করে এখানকার পেঁয়াজের গাড়ি মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে পদ্মা সেতু দিয়ে রাজধানীতে ঢুকে যাবে। ফলে কেউ আর কম দামে পেঁয়াজ বাজারজাত করার সুযোগ পাবে না বা যাতায়াতের সময় পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও থাকবে না। এতে পেঁয়াজের কেজি প্রতি কিছু টাকা বেশি পাবে প্রান্তিক কৃষকেরা।
তাদের মুখে ফুটবে হাঁসি। তারা পেঁয়াজ আবাদে আরও উৎসাহী হবে। একইভাবে পদ্মা সেতু দিয়ে পাটের গাড়িও দেশের বিভিন্নস্থানে কম সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবে। তাতেও নানাভাবে বেঁচে যাবে অর্থ।
এখানকার পাট-পেঁয়াজ বাজারজাত হয় সারাদেশে। বিশেষ করে পেঁয়াজের গাড়ি রাজধানীতে পৌঁছাতে চরম সমস্যা হয়। গাড়ি নিয়ে মাঝে মাঝে মাওয়া আর পাটুরিয়া ঘাটে দিনের পর দিন যানজটে পড়ে থাকতে হয় । এতে একদিকে বেড়ে যায় অতিরিক্ত খরচ অন্যদিকে আশঙ্কা থাকে পেঁয়াজ পচে যাওয়ার। পদ্মা সেতু চালু হলে অতিরিক্ত খরচ হবে না, পেঁয়াজ পচারও ভয় থাকবে না।
কম খরচে পদ্মা সেতু দিয়ে দেশের বিভিন্নস্থানে থাকা মিল-কারখানায় পাট দ্রুত সময়ের মধ্যে পৌঁছে যাবে। মাওয়া-পাটুরিয়া ঘাটে পাটের গাড়ি নিয়ে ভোগান্তী পোহাতে হবে না। গাড়ির ড্রাইভারকে ডাবল বেতনসহ বাড়তি খরচের টাকা দিতে হবে না। এতে পাট-পেয়াজের প্রতি গাড়িতে বাঁচবে ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। ট্রাকের মালিকেরাও লাভবান হবে। প্রতিদিন একটি ট্রাক বেশি টিপ মেরে মালিককে ডাবল আয় করে দিতে পারবে। তাতে গড়ে সালথার চাষি আর ব্যবসায়ীদের টাকা বাঁচবে।
সালথা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ জীবাংশু দাস বলেন- পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের মাধ্যমে এই অঞ্চলের কৃষিপণ্য পরিবহনে নবদিগন্তের উম্মোচন হবে। কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাবেন। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা কুয়াশার কারণে ফেরি চলাচল বন্ধ ও যানজট ইত্যাদি নানা কারণে বর্তমানে পণ্য পরিবহনে দীর্ঘ সময় লাগে।
খরচও বাড়ে। তাই তাদের কৃষিজাত পণ্য বাজারজাত করতে সমস্যা হয়। সঠিক সময় বাজারজাত করতে না পারার কারণে কখনো কখনো কৃষিজাত পণ্য পচে যায়। পদ্মা সেতু চালু হলে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় আর খরচ দুই-ই কমবে। ফলে কৃষক ন্যায্যমূল্য পাবেন। আর সঠিক মূল্য পেলে কৃষক বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদনে আরও বেশি উদ্বুদ্ধ হবেন। এর মধ্যদিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের ধারা অব্যাহত থাকবে।
সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী এমপির ছোট ছেলে বিশিষ্ট কৃষি গবেষক শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতু সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করেছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিকল্প কেউ বাংলাদেশে নেই। ২৫ জুন পদ্মা সেতু শুভ উদ্বোধনের পর দক্ষিনবঙ্গ অনেক এগিয়ে যাবে। এসব এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। সেই সাথে সালথা-নগরকান্দায় কৃষিতে ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই এলাকার কৃষিপণ্য দ্রুত অন্যেত্রে পৌঁছে যাবে। তাতে কৃষক লাভবান হবে।
স/এষ্

