ঢাকাবৃহস্পতিবার , ২৩ জুন ২০২২
  1. Bangla
  2. chomoknews
  3. English
  4. অপরাধ
  5. অভিনন্দন
  6. আমাদের তথ্য
  7. কবিতা
  8. কর্পরেট
  9. কাব্য বিলাস
  10. কৃষি সংবাদ
  11. খুলনা
  12. খোলামত
  13. গল্প
  14. গাইড
  15. গ্রামবাংলার খবর
আজকের সর্বশেষ

মুন্সীগঞ্জে সংস্কার অভাবে রাস্তা ভেঙে পড়ছে খালে, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

চমক নিউজ বার্তা কক্ষ
জুন ২৩, ২০২২ ৩:৫৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

মুন্সীগঞ্জে সংস্কার অভাবে রাস্তা ভেঙে পড়ছে খালে, ভোগান্তিতে হাজারো মানুষ

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার চরকেওয়ার ইউনিয়নের চরমশুরা সড়কে রাস্তা ভেঙে যাওয়াতে যাতায়াত ভোগান্তি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তারা জানান, রাস্তাটি চরকেওয়ার ইউনিয়নের উত্তর চরমশুরা, দক্ষিন টরমশুরা, বর্ষারচর হয়ে আধারা ইউনিয়নের জাজিরা – সৈয়দপুর সড়কে মিলিত হয়েছে।

রাস্তাটি দু”টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ সড়ক পথে জেলা সদরে যাতায়াত করেন। রাস্তাটি দক্ষিন চরমশুরা জামে মসজিদের সামনে থেকে আলীরটেক বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গিয়ে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গেলো বছর বর্ষার আগে আলীরটেক বাজার এলাকায় রাস্তাটি ভেঙে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শুকনো মৌসুমে রাস্তাটি সংস্কার করায় যানবাহন চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক ছিলো। বর্তমানে বৃষ্টির পানির তোড়ে রাস্তাটি দক্ষিন চরমশুরা গ্রামের সামনে থেকে আলীর টেক বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে রাস্তাটি পার্শবর্তী খালে ভেঙে পড়ছে। বেশ কিছু স্থানে রাস্তার অধিকাংশ অংশই খালে ভেঙে পড়ে গেছে।

সেখানে স্থানীয়রা খালের তীরে বাঁশ পুঁতে মাটি ফেলে যান চলাচল স্বভাবিক রাখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু খালের পানি বৃদ্ধি ও রাস্তার পাশে থাকা মানুষের বসতবাড়ীর বৃষ্টির পানি রাস্তার উপর দিয়ে খালে অতিবাহিত হচ্ছে। বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার ঢলে পিচ ঢালাই রাস্তাটি গভীর গর্তের সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি খালে ভেঙে পড়ছে।

ঝুঁকি নিয়েই গণপরিবহনগুলো রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করছে। দ্রুত সময়ে রাস্তাটির পাশে গাইডওয়াল নির্মাণ না করলে বর্ষার সময়ে পুরো রাস্তাটি ভেঙে গিয়ে যাতায়াত ভোগান্তি বেড়ে যাবে। রাস্তাটিতে চলাচলে চালকরা একটু বেখেয়ালি হলে দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উত্তর চরমশুরা হতে জাজিরা ব্রিজ পর্যন্ত রাস্তাটিতে ব্যাপক খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। দক্ষিন চরমশুরা গ্রামের পিছামারা খালের উপর থাকা সরু ব্রিজটির রেলিংগুলো ধসে গিয়ে বিপদজনক পরিস্থিতির সৃস্টি হয়েছে। দক্ষিন চরমশুরা কমিউনিটি ক্লিনিকের কাছে ছোট্র একটি রেলিং বিহীন ব্রিজ দাঁড়িয়ে আছে।

সেখানে ব্রিজের দু”পাশের এ্যাপ্রোচ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়াও দক্ষিন চরমশুরা হতে আলীরটেক বাজার পর্যন্ত রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতি বছর বর্ষার সময়ে রাস্তাটিতে ভাঙন দেখা দেয়।

সৃষ্টি হচ্ছে বড় বড় গর্তের। প্রায় ৪ বছর ধরে রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে হাজারো মানুষ যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কার, রাস্তার পাশে গাইডওয়াল ও ক্ষতিগ্রস্ত দুইটি ব্রিজ সংস্কারে এলজিইডি কর্তৃপক্ষ কোন কার্যকরি ব্যবস্থা নিচ্ছেনা বলেও অভিযোগ করেছেন যাত্রী, পরিবহন চালক ও স্থানীয়রা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, দক্ষিন চরমশুরা গ্রামের প্রবেশমুখে থাকা সরু ব্রিজটির রেলিংগুলো ধসে পড়ে ব্রিজটিতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। ব্রিজটি পারাপারে চালকরা একটু বেখেয়ালি হলেই দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেখান থেকে দক্ষিন চরমশুরা কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত রাস্তাটিতে রয়েছে ব্যাপক খানাখন্দ ।

বেশ কিছু স্থানে রাস্তাটির একটি বিশাল অংশ খালে ভেঙে পড়ে গেছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশে রেলিংবিহীন একটি ছোট্র কালভার্ট দাঁড়িয়ে আছে। সেই কালভার্টের পশ্চিাংশে ভরাট হয়ে আছে। সেখান থেকে আলীরটেক বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫টি স্থানে রাস্তাটিতে ভাঙন দেখা গেছে।

বৃষ্টির পানির তোড়ে রাস্তাটি ভেঙে খালে পড়ে গেছে। সেখানে বিশাল বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তাটি দিয়ে অটো মিশুকসহ অন্যান্য যানবাহন চলাচল করতে দেখা গেছে।

স্থানীয় মুরুব্বি হাসান আলী সিকদার প্রায় ৪ বছর ধরে রাস্তাটি চলছে অচলবস্থা। বর্ষা আর বৃষ্টির সময়ে রাস্তাটি ভেঙে খালে পড়ে যায়। গেলো বর্ষায় বৃষ্টি আর বন্যার কারনে রাস্তাটির বিভিন্ন স্থানে ধসে গেছে।

ব্যাপক খানাখন্দ তৈরী হয়েছিলো। সেই খানানাখন্দের মধ্য দিয়েই শুকনো মৌসুমে যানবাহন চলাচল করেছিলো। বেশ কিছু স্থানে বাঁশ পুঁতে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছিলো। আবারও বৃষ্টি আর বর্ষার মৌসুম চলে আসছে। কিন্তু রাস্তাটি সংস্কারে এগিয়ে আসেনি কেউ।

তিনি আরো জানান, দ্রুত সময়ে রাস্তাটি সংস্কার না করলে বর্ষার সময়ে রাস্তাটি আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এভাবে ভাঙতে থাকলে রাস্তাটি সম্পূর্ন খালে পড়ে যাবে। এতে করে দুইটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ সড়ক পথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। দ্রুত সময়ে রাস্তাটি সংস্কার করার পাশাপাশি রাস্তার পাশে খালের তীরে গাইডওয়াল নির্মাণের দাবি জানাচ্ছি।

এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. শফিকুল আহসান বলেন, দক্ষিন চরমশুরা গ্রামের বড় ব্রিজটি ভেঙে সেখানে একটি ব্রিজ নির্মাণ করার জন্য বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের সাথে থাকা ব্রিজটির পশ্চিম পাশ ভরাট হয়ে গেছে। সেই ব্রিজটা ভেঙে সেখানে মাটি ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করে দেয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, পুরো রাস্তাটি সংস্কার ও রাস্তার পাশে গাইডওয়াল নির্মাণের জন্য বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে। বাজেট প্রাপ্তির পর রাস্তা এবং ব্রিজগুলোর সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হবে। বর্তমানে যেসব স্থানে রাস্তাটি ভেঙে পড়ছে সেখানে অস্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করে রাস্তাটি যান চলাচলের উপযোগী করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

স/এষ্