রাজধানীর বিপুল পরিমাণ চোরাই- ছিনতাই মোবাইল ফোনসহ গ্রেফতার-১০
এস, এম, মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় থেকে মোবাইল চোর সিন্ডিকেট চক্রের দশ জন গ্রেফতার করেছে র্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। এসময় তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমান চোরাই মোবাইল, সীম ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
আজ রোববার র্যাব-৩ এর সহকারী পরিচালক (অপস্ ও ইন্ট শাখা) পুলিশ সুপার (এসপি) বীণা রানী দাস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলেন মোঃ রাসেল (৩১), মোঃ ফরহাদ হোসেন (২৮), মোঃ আশরাফুল ইসলাম (৪৮), মোঃ আবুল কাশেম (২৮), মোঃ মিলন (৪৮), মোঃ সুলতান (২৭), মোঃ রাজু (৩০), মোঃ তৈয়ব আলী (৪০), শাওন ফকির (২১) ও মোঃ নাদিম (৩৫)।
মুন্সিগঞ্জ, চাঁদপুর, নওগাঁ, মুন্সিগঞ্জ, লক্ষীপুর, মাদারীপুর ও ভোলা জেলায় তাদের গ্রামের বাড়ি বলে জানা গেছে।
এসপি বীণা রানী দাস জানান, র্যাব-৩ এর একটি দল শনিবার দিবাগত রাতের বিভিন্ন সময় রাজধানীর কদমতলী, শাহবাগ এবং নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার এলাকায় পৃথক তিনটি ঝটিকা অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের নিকট থেকে টাচ মোবাইল ১৪৭ টি, বাটন মোবাইল ২৯১ টি, ট্যাব ২ টি, সীমকার্ড ২ টি এবং নগদ ৩৫ হাজার ৩২০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৩ গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, মোবাইল চোর সিন্ডিকেট চক্র রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধ মোবাইল কেনা-বেচার বানিজ্য নিয়ে তৎপর রয়েছে এবং এসব মোবাইল ফোন বিভিন্ন মার্কেটের সামনে ভাসমান দোকানে গোপনে বিক্রি করে আসছে।
র্যাব জানান, এছাড়াও এ সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন স্থান হতে চুরি এবং ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনের ছিনতাইকারী চক্র সুকৌশলে নানা সিন্ডিকেট হোতার সাথে যোগসাজশে এসব চোরাই মুঠোফোন কেনা-বেচায় জড়িত রয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা র্যাবকে
জানায়, তারা মূলত ছিনতাই/চোরাইকৃত মোবাইল ফোনসমূহ অল্প দামে ক্রয় করে সুযোগ বুঝে বেশি দামে বিক্রি করে। এছাড়া তারা প্রত্যেকেই মুঠোফোন ছিনতাই/চোর চক্রের সদস্য এবং চোরাই ও ছিনতাইকৃত মোবাইল ক্রয়-বিক্রয়ের সাথে জড়িত বলে স্বীকার করেছে।
র্যাব আরও জানান,ছিনতাইকারীদের প্রধান টার্গেট থাকে পথচারীদের মোবাইল। এসব মোবাইল স্বল্পদামে চোরাই মোবাইল কারবারিদের নিকট বিক্রি করে থাকে। এছাড়াও এসব মোবাইল স্বল্প আয়ের গ্রাহকদের নিকট বিক্রি করে থাকে। বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ডাকাতিকৃত, ছিনতাইকৃত ও চোরাইমাল বিক্রি ও হেফাজতে রাখা আমলযোগ্য অপরাধ।
গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, পরবর্তীতে এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসলে গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর সে নিজের পরিচয় গোপন করে ক্বারী না হওয়া সত্বেও ক্বারী পরিচয় দিয়ে গাজীপুরের একটি মসজিদে ৮ বছরের অধিক সময় ইমামতি করে। গাজীপুরে অবস্থানকালীন সময়ে সে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করে একটি জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার মূখপাত বলেন, জঙ্গি সদস্য এনামুল গাজীপুরে অবস্থানকালীন একটি হোমিও প্যাথি কলেজে দু’ বছর প্রভাষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে। একইভাবে সে নিজেকে গাজীপুর হোমিও কলেজ এর প্রাক্তন অধ্যক্ষ হিসেবে দাবী করত। পরবর্তীতে ২০১০ সালে সে ঢাকার উত্তরা ও বনশ্রীতে বাসা ভাড়া করে বসবাস করতে থাকে।
র্যাব জানান, গ্রেফতারকৃত এনামুল রাজধানীর উত্তরায় ২০১৫ সালে ‘‘আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা’’ নামে একটি ভুয়া হোমিও প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীতে ২০২০ সালে আই কে হোমিও কলেজ উত্তরা নামক প্রতিষ্টানটি বন্ধ করে সে ক্যান্সার নিরাময় কেন্দ্র নামে আরেকটি প্রতিষ্টান খুলে ক্যান্সারের ভুয়া হারবাল চিকিৎসা প্রদান শুরু করে। তার চিকিৎসায় ক্যান্সার সম্পূর্ণ রুপে ভাল হয় বলে সে দাবী করতো। সে এইডস রোগ নিরাময়ে চিকিৎসা প্রদানে সক্ষম বলেও দাবী করত। সে সব সময় নিজের গন্ডির মধ্যে চিকিৎসা প্রদান করত।
খন্দকার আল মঈন বলেন, এছাড়া ও সে নিজেকে হেপাটাইটিস -ভাইরাস, প্যারালাইসিস, ডায়াবেটিক, মেদ, বন্ধ্যাত্ব, টিউমার, হার্ট কিডনি, যৌন, মানসিক রোগসহ বহুবিধ রোগের সফল চিকিৎসক হিসেবে দাবী করত।
জঙ্গি দমনে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে রোল মডেল উল্লেখ করে র্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ইতোপূর্বে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার অন্যতম পলাতক আসামি জঙ্গি ইকবাল ও রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক জঙ্গি মুফতি শফিকুর রহমান এবং গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বোমা পুতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা ও রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামি জঙ্গি সংগঠন হুজি-বি’র প্রতিষ্ঠাতা আমীর মুফতি আব্দুল হাই’কে গ্রেফতার করে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব সদরদপ্তরের বিভিন্ন পদমর্যাদা কর্মকর্তা, র্যাবের লিগ্যাল আ্যন্ড মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তাসহ অন্যান্য র্যাব অফিসারগন এসময় উপস্হিত ছিলেন। এব্যাপারে গ্রেফতারকৃত জঙ্গি সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহনের প্রস্ততি চলছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ডিএমপি’র উত্তরা বিভাগের তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো, মেহেদী হাসান আজ রোববার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক এক আসামিকে তুরাগের ডিয়াবাড়ি এলাকা থেকে শনিবার রাতে গ্রেফতার করেছে।
ওসি আরও জানান, এখন পর্যন্ত সে র্যাবের হেফাজতে রয়েছে।

