কামরাঙ্গীরচরে কীটনাশক পানে দুই বন্ধুর মৃত্যু
এস, এম, মনির হোসেন জীবন : রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে কীটনাশক পান করে দুই বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন, মো. মিরাজ (২৪) ও মো. রুবেল (২২)। নিহত মিরাজ মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং থানার আবুল কালামের পুত্র।
পুলিশ জানিয়েছে, নেশাজাতীয় কিছু খেয়ে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে বলে প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচেছ। তবে, দু’জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে তাদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
আজ বুধবার সকালে কামরাঙ্গীরচর কয়লারঘাট মুসলিমবাগ লবণ ফ্যাক্টরির গলি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অচেতন অবস্থায় মিরাজকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মিরাজের বন্ধু রুবেল এর আগেই ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আজ বুধবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (ওসি) মো. বাচ্চু মিয়া তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিরাজের চাচাতো ভাই আয়নাল জানান, আমার ভাতিজা মিরাজ লালবাগ একটি প্লাস্টিক কারখানায় কাজ করতেন। মিরাজ ও রুবেল (তারা) দুই বন্ধু কী কারণে কীটনাশক পান করেছে এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। মিরাজ বর্তমানে কামরাঙ্গীরচর কয়লারঘাট মুসলিমবাগ লবণ ফ্যাক্টরি গলি তৃতীয় তলা একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকতো। তারা দুই ভাই এক বোন। নিহত মিরাজের গ্রামের বাড়ি বিক্রমপুর।
এদিকে, কামরাঙ্গীরচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কামরাঙ্গীরচর কয়লার ঘাট লবণ ফ্যাক্টরির পাশে একটি তৃতীয় তলা একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি রুম থেকে প্রথমে রুবেল নামে এক জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ওই রুম থেকে মিরাজ নামের আরেক জনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হলে তিনি সেখানে মারা যান।
ওসি আরো জানান, ওই রুমে গিয়ে বমির চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাস্থলের বাসাটি মিরাজদের।
এদিকে, কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক অনিরুদ্ধ রায় জানান, আমরা ৯৯৯ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে সেখান থেকে রুবেল নামের একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় মিরাজ নামের একজনকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেলে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান তিনি মারা গেছেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার মিরাজের বাবা মা নিজের বাড়ী মুন্সিগঞ্জ বেড়াতে যান। এই সুযোগে রাতে রুবেল নামে একজনকে বাসায় ডেকে আনেন তিনি। রাতে তারা হয়তো কিছু খেয়েছিল। কারণ মিরাজ ও রুবেলের মুখ দিয়ে কিছু একটা বের হচ্ছিল যা সন্দেহজনক।
পুলিশ জানান, মিরাজের বাবা-মা বাসায় না থাকায় নেশাজাতীয় কিছু খেয়ে বিষক্রিয়ায় তাদের মৃত্যু হতে পারে। মিরাজের পরিচয় পাওয়া গেলেও এখনো রুবেলের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি। দু’জনের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিক ভাবে ধারণা করছে- মঙ্গলবার রাতে তারা হয়তো কিছু খেয়েছে, আর এ কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে। মিরাজের বাবা-মা বাসায় না থাকায় বন্ধু রুবেলকে নিয়ে সে রাত্রিযাপন করে।
এবিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্হা গ্রহনের প্রস্ততি চলছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।
স/এষ্

