অফিস সহকারী এখন মস্ত বড় চিকিৎসক!
মোঃ মোছাদ্দেক হাওলাদার, বরিশাল ব্যুরো ॥ দেখেন রোগী, লিখেন প্রেসক্রিপশন, করেন ছোটো খাটো অপারেশনও। তবে তিনি স্বীকৃতপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক নয়। অষ্টম শ্রেণি পাস এক কর্মচারী মাত্র। এছাড়াও সরকারি ওষুধ বিক্রি, কমিশনে উপজেলার অন্যান্য ক্লিনিক ও হাসপাতালে রোগী পাঠানোসহ নানা অভিযোগ উঠছে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা এক প্রকার জিম্মি হয়ে পড়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস সহকারী মনিরুল ইসলামের কাছে। তার বিরুদ্ধে কর্তব্যরত চিকিৎসককে দু’দফায় শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করারও অভিযোগ আছে। সেই ঘটনার পরও বহাল তবিয়তে আছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল শহরের সাগরদী এলাকার রফিকুল ইসলাম ওরফে রফিক হাওলাদারের ছেলে মনিরুল ইসলাম ১৫ বছর আগে অফিস সহকারী পদে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগ দেন। ৮ম শ্রেণি পাস মনিরুল ইসলাম যোগদানের পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নিয়ে গড়ে তোলেন সিন্ডিকেট। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে নিজেই এ্যাপ্রোন পড়ে দেখতে থাকেন রোগী। এমনকি ছোটো খাটো অপারেশনও করেন তিনি। প্রতিবাদ করলে, মনিরুল ইসলাম তখনকার উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করেন।
পরে বরিশালের সিভিল সার্জন তাকে বদলি করে হিজলা উপজেলায়। সেখানে গিয়েও একই ধরনের সিন্ডিকেট গড়ে তোলে কমিশন বাণিজ্যের নেতৃত্ব দেন মনিরুল। ফের তাকে একই অপরাধে বরিশাল সদর উপজেলার শায়েস্তাবাদে বদলি করলেও আচরণে পরিবর্তন আসেনি। পরে তাকে ডিমোশন দিয়ে বদলি করা হয় আবারও মুলাদী উপজেলায়।
নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় মনিরুলের সিন্ডিকেট অবৈধ কাজে দাপিয়ে বেড়ালেও তার বিরুদ্ধে কঠোর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বরিশাল সিভিল সার্জন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মনিরুলকে ফোন করা হলে সাংবাদিক পরিচয় জানার পর তিনি বলেন, ‘আমি এখন ব্যস্ত আছি পরে কথা বলব।
স/এষ্

