পুঠিয়ার ফুলবাড়ি কৃষি জমিতে পুকুর খনন করা যাবে না: জেলা প্রশাসক
মঈন উদ্দীণ: রাজশাহীর পুঠিয়ার কান্তার বিলের ৬০বিঘা ফসলি জমিতে পুকুর খনন সম্পন্ন শেষে জমি খাদকদের নজর এখন ফুলবাড়ি বিলে। এমন অভিযোগ স্থানীয় কৃষকরা জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।
জেলা প্রশাসক পুঠিয়া ইউএনও নির্দেশ দেন ফুলবাড়ি বিলে কোনভাবেই পুকুর খনন করা যাবে না। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একটি লিখিত চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে।
কৃষকরা জানান, পুঠিয়া থানার ফুলবাড়ি গ্রামের ৯০ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকে। কিন্তু একের পর এক ফসলি জমিতে পুকুর খনন করছে এক শ্রেণীর অসাধু লোকজন। এতে বিলিন হতে চলেছে ফসলি জমি।
বেকার হচ্ছে কৃষক। এমন চিত্র দেখা মিলবে রাজশাহীর উপজেলা, ইউনিয়ন ও থানা অঞ্চলগুলিতে। আর পবা উপজেলাতে ফসলি জমি থাকবে না সেই লক্ষ্যে প্রভাবশালী নেতা ও ভুমিদস্যূরা পুকুর খনন অব্যাহত রেখেছেন।
পুঠিয়া থানার ২নং ইউনিয়ন পালোপাড়া গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম জানান, গ্রামের ৯০ভাগ মানুষ কৃষি কাজ করে জিবিকা নির্বাহ করে থাকে। বর্তমানে ফুলবাড়ী মৌজায় তার ৬৬শতক জমিতে ইরি ধান লাগানো রয়েছে। ধানগুলো আগামী মাসে কাটা হবে।
তার জমির পশ্চিম পাশে রয়েছে আইনাল নামের এক কৃষকের প্রায় দুই বিঘা জমি, দক্ষিন পাশে রানা, বাটুল নামের দুই কৃষকের ২বিঘা জমি, পূর্ব পাশে ১০ কাঠা জমি জব্বারের, উত্তর পাশে খোকার রয়েছে ১০কাঠা জমি এবং ওই মাঠে অন্যান্য কৃষকের মিলে প্রায় ৭০বিঘা জমির পুরো মাঠজুড়ে ইরিধান লাগানো রয়েছে। এই সকল জমিতে যেতে সামনে রয়েছে বাটুল ও রানার ২বিঘা জমি।
কৃষকদের অবরুদ্ধ ও ব্ল্যকমেইল করকে সেই জমিতে উপজেলার চেয়ারম্যানের ভাতিজা আলম তার সহযোগীরা জোর পূর্বক বাটুল ও রানার ২বিঘা জমিতে ভেকু মেশিন নামিয়ে পুকুর খনন কার্যক্রম শুরু করে। ওই দিন গ্রামের সকল কৃষকরা মিলে তাদের বাধা দেয়। বাধার মুখে তারা তাদের পুকুর খনন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
এর আগেচেয়ারম্যানের ভাতিজার নেতৃত্বে ভাল্লুকগাছী ইউনিয়নের কান্তার বিলে প্রায় ৬০বিঘা ফসলি জমিতে পুকুর খনন সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যপারে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী কৃষক নজরুল ইসলাম। জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে একটি লিখিত চিঠি প্রেরণ করা হয়। তিনি বলেন ফুলবাড়ি বিলে কোনভাবেই পুকুর খনন করা যাবে না। সেই লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইউএনওকে নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক।
এদিকে, প্রশাসকের দারস্ত হওয়ায় কৃষক নজরুলকে অব্যাহতভাবে হুমকি দিচ্ছেন ভুমিদস্যু আলম। অভিযোগ না তুল্লে তাকেই দুনিয়া থেকে তুলে দেয়ার কথা বলছেন তিনি। আর এই কাজে তার যত লক্ষটাকা খরচ হবে করবেন বলেও দাম্ভিকতা প্রকাশ করছেন এই সন্ত্রাসী।
স/এষ্

